সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছর হিসেবে ২০২৫ রুপোর বাজারে বিশেষ ভাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বছরের শেষে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) রুপোর দাম সব রেকর্ড ভেঙে প্রতি কেজি ২.৫৪ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে এই দাম শিখরে পৌঁছানোর পরেই দেখা দিয়েছে বড়সড় অস্থিরতা। এক দিনেই দাম প্রায় ২১ হাজার টাকা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত।
২০২৫ সালে রুপোর দামে প্রায় ১৭৫% রিটার্ন আসার নেপথ্যে ছিল চিনের রফতানি নীতি। বিশ্বজুড়ে রুপোর মজুত রেকর্ড তলানিতে নামাকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ক্রমবর্ধমান চাহিদা দামকে উসকে দিয়েছিল। অন্যদিকে, ২৯ ডিসেম্বরের হঠাৎ ধসের কারণ মূলত মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ফিউচার চুক্তিতে মার্জিন বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরে ২০২৫-এর মতো অতটা তীব্র গতি না থাকলেও রুপোর বাজার সুস্থির থাকবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ঠিক থাকলে দাম প্রতি কেজি ২.৮০ থেকে ৩.২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে যেকোনও বড় উত্থানের পর বড় সংশোধনের নজিরও রয়েছে, একথা মাথায় রাখা জরুরি।
বিনিয়োগের সেরা কৌশল
১) এককালীন নয়, SIP করুন। বাজারের অস্থিরতা সামলাতে একবারে টাকা না খাটিয়ে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ (SIP) করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
২) শুধু রুপো নয়, ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় রাখতে সোনাকেও তালিকায় রাখুন।
৩) ভৌত রুপো কেনার চেয়ে সিলভার ETF বা ডিজিটাল সিলভার বেশি সুবিধাজনক। কারণ এতে মেকিং চার্জ বা স্টোরেজের সমস্যা নেই।
সামগ্রিকভাবে, রুপোর দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলেও ২০২৬ সালে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধৈর্য এবং সঠিক কৌশলের মেলবন্ধনই হবে লাভের চাবিকাঠি।
