Advertisement
জুতো ধার করে ট্রায়াল! শামিকে ছিটকে দিয়ে ভারতীয় দলে কাশ্মীরি রূপকথা শুরু আকিবের
রনজি ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার পরেও জাতীয় দলের দরজা বন্ধ থেকেছে কাশ্মীরি পেসারের জন্য।
ভারতীয় টেস্ট টিমে ডাক পাওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীর পেসার আকিব নবি পুরনো 'স্পাইক' জোড়া খুঁজতে বসবেন কি না, জানা নেই। এ-ও জানা নেই, পুরনো সেই বন্ধুর সঙ্গে একবার দেখা করবেন কি না? কিন্তু এটুকু জানা রয়েছে, আকিবের বন্ধু তাঁকে ওই জুতো না দিলে আজ তাঁর ভারতীয় টেস্ট টিমে ডাক পাওয়া হত না। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভারতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজে শেষ পর্যন্ত যদি নেমে পড়েন আকিব, ইতিহাস গড়ে ফেলবেন। কারণ, সেক্ষেত্রে তিনিই হবেন জম্মু-কাশ্মীরের সর্বপ্রথম ক্রিকেটার যিনি ভারতের টেস্ট ক্যাপ পাবেন। এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের আগে চর্চা চলছে কাশ্মীরি পেসারের এক জুতো নিয়ে। মহল্লায় আকিব নবির ডাকনাম রয়েছে একটা বারামুলার ডেল স্টেইন। কিন্তু সেই বারামুলার স্টেইনের স্পাইক শু পর্যন্ত ছিল না একটা সময়।
অনূর্ধ্ব উনিশ জম্মু-কাশ্মীর দলের ট্রায়ালে যখন ডাক পান নবি, ধারে জুতো নিতে হয় এক সিনিয়েরর থেকে। "সেই সিনিয়রের ট্রায়াল আমার আগে ছিল। ওকে তাই বলি, তোমার হয়ে গেলে আমাকে একটু দিও জুতোটা। ওটা পরেই ট্রায়াল দেব," বলে ফেলেছিলেন নবি। । ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হতে বিশেষ কাঠখড় পোড়াতে হয়নি জম্মু-কাশ্মীর পেসারকে। কিন্তু গণ্ডগোলটা বাঁধে দলে নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পর।
রাজ্য টিমের সঙ্গে ট্রাভেল করার ডাক চলে এসেছে। কিন্তু এদিকে 'স্পাইক শু' নেই। অগত্যা, ফের অন্যের শরণাপন্ন। এবার আর সিনিয়র নয়। বন্ধুর। তাঁর থেকে এবার 'স্পাইক শু' ধার। এবং সেই জুতো পরেই আকিবের প্রথম জাতীয় টুর্নামেন্ট খেলা। জম্মু-কাশ্মীরে ক্রিকেট খেলা মোটেও সহজ নয়। টিমটা ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রস্তুতি নেয়, যাযাবরের মতো ঘুরে। ভদ্রস্থ ক্রিকেট মাঠ এখনও নেই জম্মু-কাশ্মীরে।
নবির পক্ষেও সহজ ছিল না ক্রিকেট খেলা। "তার উপর বাবা প্রথমে চাননি যে, আমি ক্রিকেটার হই। উনি চাইতেন, ছেলে ডাক্তার হোক। পরে আমাকে জম্মু-কাশ্মীর দলে সুযোগ পেতে দেখে আর আপত্তি করেননি। বরং আমার পাশে থেকেছেন," বলছেন টেস্ট দলে ডাক পাওয়া পেসার। ভারতের জাহির খান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইনকে দেখে ফাস্ট বোলার হওয়ার স্বপ্ন শুরু।
কয়েক মরশুম ভালো পারফর্ম করার পরেও আইপিএলে ডাক পাচ্ছিলেন না আকিব। এমনকী রনজি ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার পরেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়নি ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তাদের মধ্যে। দলীপ ট্রফির চার বলে চার উইকেট নিয়ে হইচই ফেলে দেন নবি। তারপর চলতি বছরের আইপিএলে বিশাল ৮.৪ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস।
তারপরেও সংগ্রাম শেষ হয়নি। রনজির গত মরশুমে ১২.৫৭ গড়ে ৬০ উইকেট নিয়েছেন ২৪ বছর বয়সি এই পেসার। অথচ, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট দল বাছার সময় সেই নবিকেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। বদলে সুযোগ দেওয়া হয় পঞ্জাবের পেসার গুর্নুর ব্রারকে, যাঁর পারফরম্যান্স নবির থেকে খারাপ। শ্রীলঙ্কা সফরেও গুর্নুরই নির্বাচকদের প্রথম পছন্দ। বুমরাহর চোটের জেরে শিকে ছিড়েছে নবির কপালে।
কাশ্মীরি পেসারের এহেন সাফল্যে মহম্মদ শামির কেরিয়ারের কফিনে শেষ পেরেকটা পোঁতা হয়ে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ বুমরাহরা চোট পেয়ে গেলেও নির্বাচকরা গুর্নুর-নবিদেরই দলে নিতে চাইছেন। ফলে 'বুড়ো' শামির জন্য জাতীয় দলের দরজা পাকাপাকিভাবে বন্ধ, এমনটা ধরে নেওয়াই যায়। বঙ্গ পেসারের কেরিয়ারের ইতিতে সূচনা হতে পারে কাশ্মীরি পেসারের আন্তর্জাতিক উড়ানের।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 04:21 PM Aug 04, 2026Updated: 04:24 PM Aug 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
