Advertisement
'প্রিয়' পাঁচ ইভেন্ট ছাড়াই উজ্জ্বল, ৩৯ পদক নিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে চতুর্থ টিম ইন্ডিয়া
সমান সংখ্যক পদক জিতেও রুপোর সংখ্যা বেশি থাকায় আয়োজক স্কটল্যান্ডকে পিছনে ফেলেছে ভারত।
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পদকের তালিকায় চতুর্থ স্থানেই শেষ করল ভারত। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯টি পদক 'টিম ইন্ডিয়া'র ঝুলিতে। সমান সংখ্যক পদক জিতেও রুপোর সংখ্যা বেশি থাকায় আয়োজক স্কটল্যান্ডকে পিছনে ফেলেছেন মীরাবাঈ চানু, নীরজ চোপড়ারা। প্রথম তিনে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং কানাডা।
গত তিনটি কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করেছে। ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট এবং ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এই তিনটি গেমস আসরেই ভারত পদক তালিকার প্রথম সারিতে ছিল। নানা খেলায় ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সাফল্য দেশের খেলাধুলায় উন্নতির ছবিই সামনে এনেছে।
২০১৪ সালের গেমসে ১৫টি সোনা, ৩০টি রুপো ও ১৯টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৬৪টি পদক জিতে পঞ্চম হয় ভারত। ২০১৮ সালে গোল্ড কোস্টে ভারত আরও ভালো ফল করে। সেবার ২৬টি সোনা, ২০টি রুপো ও ২০টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৬৬টি পদক জিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে। ওই আসরে মীরাবাঈ চানু ভারতের হয়ে প্রথম সোনা জেতেন। নীরজ চোপড়াও জ্যাভলিন থ্রোতে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন।
২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে ৭২টি দেশের ৪,৫০০-র বেশি অ্যাথলিট অংশ নেন। ভারত ২১টি সোনা, ১৬টি রুপো ও ২৩টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৬০টি পদক জিতে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নেয়। টানা তিনটি আসরে এই সাফল্য দেখিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে ভারত এখন অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।
তবে এবারের গেমস ছিল ভারতের কাছে এক অন্য রকম পরীক্ষা। কারণ বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে শুটিং, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি, হকি এবং টেবিল টেনিসের মতো খেলা বাদ দেওয়া হয়েছিল। মনে রাখতে হবে, এই খেলাগুলিই এতদিন ভারতকে বহু পদক এনে দিয়েছিল। ফলে পদকের সংখ্যা কমবে, এমন আশঙ্কা ছিল শুরু থেকেই। সেই পরিস্থিতিতেও সীমিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শীর্ষ চার দেশের মধ্যে জায়গা ধরে রাখল ভারত।
সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে অ্যাথলেটিক্স ও প্যারা অ্যাথলেটিক্সে। দুই বিভাগ মিলিয়ে ভারতের ঝুলিতে এসেছে ১৬টি পদক। অলিম্পিক সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া পুরুষদের জ্যাভলিনে রুপো জিতেছেন। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে সোনা এনে দিয়েছেন দিলীপ মহাদু গাভিত, শর্মিলা এবং সোমন রানা। অন্যদিকে, গুলবীর সিং ১০,০০০ মিটারে রুপো ও ৫,০০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে নজর কেড়েছেন।
শুক্রবার রাত পর্যন্ত আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ভারত বুঝি এ বছর কমনওয়েলথ গেমসে অতীত পারফরম্যান্সের ধারেকাছে যেতে পারবে না। এমনকী গেমসের ইতিহাসে প্রায় প্রতি আসরে প্রথম পাঁচে থাকা টিম ইন্ডিয়া শুক্রবার রাত পর্যন্ত ছিল ১০ নম্বরে। কিন্তু ওই যে কথায় আছে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। শনিবার রাতে স্রেফ বক্সিংই দূর করে দিল সব আশঙ্কা।
চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ‘শনিবার’ দিনটা ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরকাল। একদিনে সাত-সাতজন বক্সার সোনা জিতলেন। তিনজন রুপো। সোনা জিতলেন ভারতের পাঁচ মহিলা বক্সার প্রীতি পওয়ার, জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া, প্রিয়া ঘাঙ্গাস, সাক্ষী চৌধুরী, অরুন্ধতী চৌধুরী। পুরুষদের বক্সারদের মধ্যে সোনা জিতেছেন শচীন সিওয়াচ এবং অঙ্কুশ পাঙ্গাল।
ভারোত্তোলনে প্রত্যাশা পূরণ করেছেন মীরাবাঈ চানু। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জেতার পাশাপাশি এই খেলায় ভারতের ঝুলিতে এসেছে সাতটি রুপো ও একটি ব্রোঞ্জ। জুডো থেকে এসেছে চারটি পদক। হর্ষ সিং ও অস্মিতা দে সোনা জিতেছেন। যামিনী মৌর্য পেয়েছেন রুপো। উন্নতি শর্মা ব্রোঞ্জ। প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ঝন্ডু কুমারের ব্রোঞ্জ ভারতের পদকসংখ্যায় আরও একটি সংযোজন।
ভারতের সবচেয়ে সফল দিন ছিল ১ আগস্ট। একদিনেই আসে ১৮টি পদক। বক্সিংয়ের সাতটি সোনার পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্স ও প্যারা অ্যাথলেটিক্স থেকেও একাধিক পদক আসে। সেই দিনই পদকের তালিকায় ভারতের প্রথম চার কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে শেষ দিনে আর পদক বাড়েনি। জুডোয় ব্রোঞ্জ জয়ের লড়াইয়ে ১৯ বছরের ইশরূপ নারাং অল্পের জন্য হেরে যান। সাইক্লিংয়েও খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে ভারতকে।
পাঁচ 'প্রিয়' ইভেন্ট ছাড়াই ভারত যে এত পদক জিততে পারে, তাঁর প্রমাণ দিতে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন অ্যাথলিটরা। এখন নজর ২০৩০ সালের দিকে। সমাপনী অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও কিংস ব্যাটন গ্রহণ করল আহমেদাবাদ। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন নীরজ চোপড়া। ছিলেন পিটি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও। ২০১০ সালে নয়াদিল্লির পর ফের ভারতের মাটিতে বসবে কমনওয়েলথ গেমসের আসর।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 11:15 AM Aug 03, 2026Updated: 12:46 PM Aug 03, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
