Advertisement
যোনিচ্ছেদ থেকে স্তনের বৃদ্ধি রোখার কৌশল, আলফা যুগেও এই ৫ 'নিষ্ঠুর প্রথা'র শিকার কিশোরীরা
কেন আজও এমন 'নিষ্ঠুর' প্রথার শিকার হতে হচ্ছে কিশোরীদের?
একসময় মহিলারা ছিলেন পর্দাসীন। শিক্ষার আলো থেকে বহু দূরে থাকতেন তাঁরা। পরিবারের সকলের কাছে যেন অবহেলার পাত্র। তাঁদের জীবন ছিল সংসারে আবদ্ধ। সন্তান, স্বামী, পরিবারের সকলের সঙ্গে কষ্টেসৃষ্টে সহ্য করে দিনযাপন করতে হত।
ধীরে ধীরে পরিস্থিতির বদল হয়েছে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছেন তাঁরা। পরিবারে মতদানের জায়গা তৈরি হয়। বর্তমানে নারী আর ঘরে বন্দি নয়। সংসারই শুধু তাঁদের জগৎ নয়। পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কর্মক্ষেত্রে দাপটের সঙ্গে নিজের জমি শক্ত করেছেন তাঁরা।
শুধু সৌন্দর্যের মানদণ্ডে আর তাঁদের বিচার করা হয় না। বরং পেশা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার উপরই নির্ভর করে তাঁদের বিচার করা হয়। তবে আজও কিছু মহিলা একইরকমভাবে নিপীড়িত। বহু দেশে শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখার সময় নানা 'নিষ্ঠুর' প্রথার শিকার হতে হয়। সমাজের মুরুব্বিরা বিশ্বাস করেন, এই প্রথা তাদের পবিত্রতা, সৌন্দর্য, সম্মান, বিবাহযোগ্যতার নীতি নির্ধারক।
প্রথমেই আসা যাক যোনিচ্ছেদের রীতির কথায়। আফ্রিকায় মূলত এই রীতির চল রয়েছে। শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখার সময় এই প্রথার রীতি। সেই সময় গুরুতর শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় মেয়েদের। প্রাণহানির সম্ভাবনাও এড়ানো যায় না। হু-এর হিসেব বলছে, দুনিয়ায় ২ বিলিয়ন মহিলার যৌন চাহিদা দমিয়ে দেওয়ার জন্য ক্লাইটোরিস কেটে বাদ দেওয়া হয়।
নাইজেরিয়ায় 'ব্রেস্ট আয়রনিং'য়ের রীতিও রয়েছে। এই নিষ্ঠুর প্রথার শিকার হতে হয় শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখাদের। কারণ, সেই সময় স্তন বিকশিত হয়। স্তনের বিকাশ রুখতে কিশোরীদের স্তনের উপর দিয়ে ভারী এবং অবশ্যই গরম লোহার পাটাতন চাপিয়ে দেওয়া হয়। যা তার স্তনের স্বাভাবিক বিকাশকে রুখে দেয়। এই প্রথার শিকার হওয়া কিশোরী শারীরিক যন্ত্রণার শিকার হয়। আবার সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে। কিশোরীর মা কিংবা ঠাকুমা এই উদ্যোগ নেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এভাবে কিশোরীকে যৌন হেনস্তা থেকে থেকে দূরে রাখা সম্ভব। অল্প বয়সে যাতে কারও যৌন লালসার শিকার সে না হয়, তা-ই এই ব্যবস্থা।
পশ্চিম আফ্রিকায় আবার কিশোরীকে অতিরিক্ত মোটা করে তুলতে বেশি করে খাওয়ানোর চল রয়েছে। নিয়ম করে তাকে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ানো হয়। হিসাব বলছে, দিনে প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার ক্যালোরির খাবার খাওয়ানো হয়। খেতে না চাইলে জোর করা হয়। অতিরিক্ত খাবার খেতে অস্বীকার করলে অত্যাচারও করা হয়। তার ফলে বহুক্ষেত্রেই দেখা যায়, বেশি খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে কিশোরী। মৃত্যু হয়েছে এমন উদাহরণও কম নেই।
সদ্য স্বামী হারানোর যন্ত্রণা। হয়তো হাউমাউ করে কাঁদছেন মহিলা। তাতেও মন কাঁদে না 'মুরুব্বি'দের। আফ্রিকার অধিকাংশ জায়গায় বিধবারাও বহু নিষ্ঠুর প্রথার শিকার হন। তাঁদের প্রমাণ দিতে হয় স্বামীর মৃত্যুর জন্য কোনওভাবে তিনি দায়ী নন। আর সে-ই প্রমাণ দিতে অদ্ভুত সব রীতি পালন করতে হয়। অনেক সময় স্বামীর কোনও পুরুষ আত্মীয় কিংবা সমাজের 'মুরুব্বি'দের সঙ্গে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে যৌন সম্পর্কও তৈরি করতে হয়।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অধিকাং জায়গায় খুব অল্প বয়সে তরুণীদের ছিদ্র করে গলা ভর্তি গয়নাগাটি পরতে হয়। যাঁরা এই রীতি পালন করেন তাঁরা বিশ্বাস করেন, এভাবে গলার সৌন্দর্য বাড়ছে। আদতে গয়নার ভারে কাঁধ ক্রমশ নুয়ে যেতে থাকে। আর তার ফলে গলায় লম্বা লাগে। আসলে পারিবারিক ঐতিহ্য মানতে গিয়ে হাড়ে ব্যথার সমস্যায় ভোগেন তরুণীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের চাপে পড়ে এমন নিষ্ঠুর প্রথা বছরের পর বছর ধরে মেনে চলেন মহিলারা। মন থেকে অনেক সময় হয়তো তাঁরা চাইছেন না রীতি পালন করতে। অথচ জোর করে সে রীতি পালন করে যেতে হচ্ছে।
এই সমস্ত 'নিষ্ঠুর' প্রথা বন্ধে একযোগে কাজ করছে ইউনিসেফ, হু এবং ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশান ফান্ড। তবে তা সত্ত্বেও বদ্ধমূল ধারণা আদৌ বদলানো কবে সম্ভব হবে, সে উত্তর লুকিয়ে ভবিষ্যতের গর্ভে।
মেনুতেও ছিল পাহাড়ি খাবারের স্বাদ। বাজরার রুটি, ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত, কলাইয়ের ডাল, শুশনি শাক, পাহাড়ি ছোলার ডাল, কুমাউনি রায়তা, শণবীজের চাটনি এবং শ্যামা চালের পায়েস। প্রাতঃরাশের জন্য ছিল ইডলি, ধোসা, ছোলা-ভাটুরা ও পোহা। এর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন রকমের ব্রেড। এর সঙ্গে থাকছে ১০ রকমের মিষ্টি।
Published By: Sayani SenPosted: 09:45 PM Mar 14, 2026Updated: 09:45 PM Mar 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
