Advertisement
স্বপ্নের মোটরসাইকেল! কেন এই অবিশ্বাস্য দামী বাইকগুলির মালিক হতে উন্মুখ বিশ্ব?
যে কোনও সংগ্রাহক বা বাইকপ্রেমীর স্বপ্ন, এগুলির মধ্যে একটিকে হলেও নিজের সংগ্রহে রাখা।
চন্দ্রবিন্দুর গান উদ্ধৃত করে বলা যায়, 'এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে বাইক চড়লে বেশ হয়।' স্বপ্নের মোটরসাইকেলে উঠলে পথ যেন অনন্ত হয়ে ওঠে! সঙ্গে মনের মানুষ থাকুক বা একলা সফর, এমন বন্ধু আর কে আছে? আর দামি মোটরসাইকেলের কথা যদি বলা যায়, সারা বিশ্বে দুর্লভ, ঐতিহাসিক, 'কালেক্টর্স আইটেম'-এর চাহিদা থাকে তুঙ্গে।
এই তালিকায় সবচেয়ে আগে বোধহয় বলতে হবে হার্লে ডেভিডসনের কথা। ১৯১৩ হার্লে ডেভিডসন ৮ ভালভ বোর্ড ট্র্যাক রেসার এক আইকনিক মোটরসাইকেল। অ্যান্টিক আইটেম হিসেবে এর জুড়ি মেলা সত্যিই ভার। একটা আশ্চর্য সারল্য রয়েছে এর গড়নে। পাশাপাশি রয়েছে চমৎকার এক ইতিহাস। ফলে নিলামে উঠলে এই মডেল কিনতে যে গোটা বিশ্ব উন্মুখ হবে তাতে আর আশ্চর্য কী?
১৯১৫ সালের সাইক্লোন বোর্ড ট্র্যাক রেসারও ভিন্টেজ মোটরসাইকেলের মধ্যে অন্যতম। মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি মডেলই টিকে আছে। দুষ্প্রাপ্যতার পাশাপাশি রেসিংয়ের ঐতিহ্যের মিশেলে এটিকে নিলামে সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেলগুলির অন্যতম করে তুলেছে। এর দাম ছাপিয়ে গিয়েছে সাড়ে ৭ লক্ষ ডলারকেও!
১৯২৯ হাস্কভার্না ২৫০ ক্রস সারা বিশ্বের প্রাচীনতম হাস্কভার্না মোটরসাইকেলের অন্যতম। প্রতিযোগিতার ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রাচীনত্ব মিলেমিশে যাকে সমাদৃত করে তুলেছে। লক্ষ লক্ষ ডলারে এই বাইক নিজের সংগ্রহে রাখতে মুখিয়ে থাকেন বাইক সংগ্রহকারীরা। সুইডিশ ব্র্যান্ডের এই মোটরসাইকেল ছাড়া নিলামে বিপুল দামে বিক্রি হওয়া মোটরসাইকেলের তালিকা সম্পূর্ণ হতেই পারে না।
মোটরসাইকেলের দুনিয়ায় 'রোলস রয়েস' হিসেবে ধরা হয় ১৯৩৬ ব্রো সুপিরিয়র এস এস ১০০-কে। বিখ্যাত লেখক টি ই লরেন্স ওরফে লরেন্স অফ আরাবিয়া এই নামেই ডাকতেন তাঁর প্রিয় মোটরসাইকেলকে। একবার এই বাইক বিক্রি হয়েছিল ৫ লক্ষ ৫ হাজার ডলারে!
১৯৩৬ সালে তৈরি ক্রকার স্মল বাইক ঘিরে আজও বিস্ময় জাগে। জানা যায়, গোটা বিশ্বে এখন একটি মডেলই রয়েছে, যেটি কোনওভাবেই নতুন করে নির্মাণের চেষ্টা করা হয়নি। এখনও পর্যন্ত যে বাইক ২৭ হাজার মাইল পথ চলেছে, সেটা সংগ্রহে রাখতেও কী লড়াই! এ যেন এক টাইম মেশিন। উঠে বসলেই পাড়ি জমাতে পারবেন সোনালি অতীতে।
১৯৩৭ সালের ক্রকার স্মল ট্যাঙ্ক নিলামে সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ ১৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। যার ভি-টুইন ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৬১ কিউবিক ইঞ্চি পর্যন্ত। সেই সময়ে এটাই ছিল দ্রুততম মোটরসাইকেল। গতি ছিল সর্বোচ্চ ১১০ মাইল! বাইকপ্রেমীদের কাছে এই বাইক এক স্বপ্নযান।
সংগ্রাহকদের মাঝে এক কিংবদন্তিতুল্য নাম— ১৯৫১ ভিনসেন্ট ব্ল্যাক লাইটনিং। সেই সময়ের অন্যতম দ্রুততম বাইকটি ঘিরে আজও আলোচনার শেষ নেই। এক 'কালো বিদ্যুৎ' বাইক নিলামে ৭ লক্ষ ৩৫ হাজার ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল।
আরেক দুরন্ত মোটরসাইকেল ১৯৫৪ সালের মোটো গুজি ওট্টো সিলিন্ড্রি। এই মডেল সারা পৃথিবীতে তৈরিই হয়েছিল মাত্র কয়েকটি। দুষ্প্রাপ্য ওই মডেলে রয়েছে ৮ সিলিন্ডার বিশিষ্ট ইঞ্জিন। তৎকালীন পৃথিবীর নিরিখে অত্যাধুনিক ধাঁচে তৈরি এই বাইক নিলামে ৫ লক্ষ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে।
এই বাইকগুলিই বিশ্বের সবচেয়ে ভিন্টেজ মোটরসাইকেল। যে কোনও সংগ্রাহক বা বাইকপ্রেমীর স্বপ্ন, এগুলির মধ্যে একটিকে হলেও নিজের সংগ্রহে রাখা। যদিও তা বড় সহজ নয়। প্রথমত, দাম অবিশ্বাস্য। দ্বিতীয়ত, প্রতিটিরই মডেলের সংখ্যা সীমিত। ফলে একবার কোনও একটি নিলামে উঠলেই তা সংগ্রহের জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
Published By: Biswadip DeyPosted: 03:27 PM Mar 14, 2026Updated: 03:27 PM Mar 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
