Advertisement
চার দশক বিহারের কুরসিতে, ছেলের কেরিয়ার গড়তে সর্বস্ব ত্যাগ! নীতীশের সম্পত্তি কত?
কেন বিহারের রাজনীতি থেকে ব্রাত্য হতে হচ্ছে পলটুরামকে?
বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ যুগের অবসান! রাজ্যসভার প্রার্থী হলেন নীতীশ কুমার। যার অর্থ, প্রায় ২০ বছর পর বিহারের রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিচ্ছেন তিনি। এই ২০ বছরে প্রচুর উত্থান পতন দেখেছেন নীতীশ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দেখেছেন। তবে বিহারের রাজনীতি থেকে যেভাবে তাঁর বিদায় হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তর গুঞ্জন রয়েছে।
২০০০ সাল থেকে ১০ বার বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসেছেন নীতীশ। সব মিলিয়ে ২০ বছরের বেশি সময় পাটনার মসনদে রয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একাধিকবার শিবির বদল করেছেন। বিহারের রাজনীতিতে বিরাট পটপরিবর্তনও হয়েছে। বদলেছে জাতীয় রাজনীতি। কিন্তু নীতীশকে টলানো যায়নি। নীতীশ দীর্ঘদিন পরিবারতন্ত্রের বিরোধী ছিলেন। কিন্তু কেরিয়ারের শেষের দিকে সেই ছেলের জন্যই সর্বস্ব ত্যাগ করলেন। উত্তরাধিকার সূত্রে নিশান্ত কুমার বাবার পৌনে দু'কোটির সম্পত্তি এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পাবেন।
১৯৮৫ সালে জনতা দলের টিকিটি প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জেতেন নীতীশ। সেসময় লালুপ্রসাদ যাদব বিহারে উদীয়মান যুব নেতা। লালুর অনুচর হিসাবে কাজ শুরু করেছেন নীতীশ। যদিও কর্পুরি ঠাকুরকে নিজের রাজনৈতিক নেতা মনে করেন। ১৯৮৯ সালে নীতীশের সমর্থনেই বিহারের বিরোধী দলনেতা হন লালু।
কিন্তু অচিরেই লালু-নীতীশ সম্পর্কে চিড় ধরে। ১৯৯৪ সালে জর্জ ফার্নান্ডেজের নেতৃত্বে লালুর আরজেডি ছেড়ে ১৪ জন সাংসদ গঠন করেন জনতা দল (জর্জ)। পরে সেই দল সমতা পার্টি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এবং জর্জ ফার্নান্ডেজকে সরিয়ে সমতা পার্টির মুখ হন নীতীশ।
১৯৯৬ সালেই সমতা পার্টি চমকপ্রদভাবে বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধে। নীতীশ যোগ দেন কেন্দ্রে বাজপেয়ীর সরকারে। ২০০০ সালে প্রথমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কুরসিতে বসেন নীতীশ। সেটা সমতা পার্টির নেতা হিসাবে। কিন্তু সেবার বিজেপি-সমতা পার্টি জোটের হাতে সরকার গঠনের সংখ্যা ছিল না। ফলে ৭ দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে হয় তাঁকে।
এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ২০০৫ সালের নভেম্বরে। এনডিএ জোটে ৮৮ আসন পেয়ে সিনিয়র সদস্য হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন নীতীশ। এরপর ২০১৩ পর্যন্ত আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টানা আটবছর তাঁর নেতৃত্বেই সরকার চালায় এনডিএ। এর মধ্যে ২০১০ সালে কার্যত একাই ক্ষমতায় এসেছিল জেডিইউ। ততদিনে নীতীশের নামের পাশে জুড়ে গিয়েছে 'সুশাসনবাবু' খেতাব।
২০১৩ সালে বিজেপি মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করার পরই এনডিএর সঙ্গ ছাড়েন তিনি। এমনকী মোদিকে বিহারে ঢুকতে না দেওয়ারও হুমকি দেন। ২০১৫ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ফের লালু যাদবের হাত ধরেন। ভোটে বিপুল সাফল্যও আসে। বিহারে সরকার গড়ে মহাজোট। মুখ্যমন্ত্রী পদে তখনও নীতীশ। তবে এবার উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব।
'দুর্নীতিগ্রস্ত' লালু পরিবারের সঙ্গে বেশিদিন ঘর করেননি নীতীশ। ২০১৭ সালে মহাজোট ছাড়েন। এবং অতীতের সব বিরোধ ভুলে হাত ধরেন নরেন্দ্র মোদির। ফের গঠিত হয় এনডিএ সরকার। ফের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ। ২০২০ সালে মোদি-নীতীশ জুটি অল্পের জন্য সরকার গড়ে। কুরসি ধরে রাখেন সুশাসনবাবু। কিন্তু এনডিএর সঙ্গে ফের বিবাদ বাঁধে তাঁর। ২০২৩ সালে দল ভাঙানোর অভিযোগ তুলে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে ফের যোগ দেন মহাজোটে। আবারও উপমুখ্যমন্ত্রী হন তেজস্বী।
কিন্তু বিধি বাম। ফের বেশিদিন ঘর করতে পারলেন না তেজস্বীর সঙ্গে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের মোদির হাত ধরেন নীতীশ। কেন্দ্রে নীতীশের সমর্থনে সরকার গড়েন মোদি। ২০২৫ বিহার বিধানসভায় ফের বিপুল জয় এনডিএর। নীতীশ আবার বসলেন বিহারের কুরসিতে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:37 PM Mar 05, 2026Updated: 04:40 PM Mar 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
