Advertisement
'পরিবেশবান্ধব' বলিউড! পৃথিবীকে 'বিষের' হাত থেকে বাঁচাতে পথ দেখাচ্ছেন এই তারকারা
অজয় থেকে আলিয়া, ভিন্ন প্রজন্মের বলিউড তারকারা পরিবেশকে রক্ষা করার লড়াইয়ে শামিল।
‘দ্য ওয়ার্ল্ড উইদাউট আস’। ওয়েজম্যানের এই বইটিতে বলা হয়েছে, পৃথিবী মানবশূন্য হয়ে গেলেও দুনিয়াজুড়ে থেকে যাবে প্লাস্টিকের পাহাড়। শেষ পর্যন্ত অণুজীব ও উদ্ভিদরা সেসব খেয়ে ফেলবে বটে। তবে অনেক দিন লাগবে। আর এরপরও মানুষ সৃষ্ট রাসায়নিক POP তথা স্থায়ী দূষণকণা থেকে যাবে। পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত। মানুষ এই পৃথিবীর কত ক্ষতি করেছে তা সহজেই বুঝিয়ে দেয় এই হিসেব!
পরিবেশবিদরা অনেকদিন ধরেই বলছেন, নীল রঙের এই গ্রহটা বাঁচাতে পরিবেশটাকে রক্ষা করতেই হবে। আশার কথা, অনেকেই সেই আবেদনে সাড়া দিতে শুরু করেছেন। লক্ষ্য 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য' করে তোলা। সেই তালিকায় রয়েছেন বলিউডের তারকারাও। অজয় দেবগন থেকে আলিয়া ভাট, ভিন্ন প্রজন্মের শিল্পীরা পরিবেশকে রক্ষা করার লড়াইয়ে শামিল।
আলিয়া ভাটের রয়েছে 'পরিবেশবান্ধব' শিশুপোশাকের ব্র্যান্ড ‘এড-আ-মাম্মা’। এই ব্র্যান্ডটি প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহার করে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত পোশাকের প্রচারও করেন তিনি। যা বুঝিয়ে দেয় পরিবেশের উপাদানের উপরে ফ্যাশন জগতের নির্ভরতা কমানোয় নায়িকা কতটা গুরুত্ব দেন। তাঁর এহেন প্রয়াস ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকারও। পরিবেশের পরিবর্তনের বিষয়ে সকলকে অবহিত করতে তিনি শুরু করেছেন #ClimateWarrior। পাশাপাশি কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্য রক্ষার দিকেও তাঁর সমান নজর। সহজে বললে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান পণ্য ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডলে নির্গত মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণই হল কার্বন ফুটপ্রিন্ট। যা পরিবেশের উপরে সাংঘাতিক প্রভাব ফেলে। সেই বিষয়ে সকলকে সচেতন করছেন ভূমি।
'পুষ্পা' আল্লু অর্জুন কেবল বড় পর্দায় দর্শকের মনোরঞ্জন করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি পৃথিবীর সবুজায়নের একজন বড় প্রচারক। ইতিমধ্যেই দক্ষিণী এই নায়ক একটি গোটা গ্রামকে 'দত্তক' নিয়েছেন স্রেফ পরিবেশবান্ধব হিসেবে সেটিকে গড়ে তুলতে। যা ভবিষ্যৎ-পৃথিবীর কাছে একটি নজির হয়ে থাকবে। অনেকেই প্রশংসা করেছেন তাঁর এমন প্রয়াসের।
পিছিয়ে নেই অজয় দেবগনও। তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে চলেছেন। গাছ লাগানো, নগরের সবুজায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতা। এই পৃথিবীতে সবুজের অভিযান চালানো যে কত প্রয়োজনীয়, তা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা। অজয়ের এমন প্রয়াস তাই তাঁদের নজর কেড়েছে।
রিতেশ দেশমুখ এবং জেনেলিয়া ডি'সুজা বলিউডের অন্যতম সেলেব দম্পতি। পরিবেশ রক্ষায় তাঁরাও এগিয়ে এসেছেন। যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ইমাজিন ফুডস’। যা একটি উদ্ভিদ-ভিত্তিক মাংসের ব্র্যান্ড। এর লক্ষ্য হল পশুপালনের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাবকে খর্ব করা। নিষ্ঠুরতামুক্ত খাদ্যের বিকল্পগুলির প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। যা ইতিমধ্যেই অনেকের প্রশংসা পেয়েছে।
সুপারহিট ছবি 'রহেনা হ্যায় তেরে দিল মে'র নায়িকা দিয়া মির্জা অনেকদিন ধরেই পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ বিষয়ক শুভেচ্ছা দূত! পাশাপাশি ‘বেকো’-র মতো পরিবেশবান্ধব ব্র্যান্ডগুলিতে বিনিয়োগও করেন। বর্জ্য হ্রাস, জীববৈচিত্র সংরক্ষণের মতো কর্মসূচিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিয়ে চলেছেন নিজেদের লাইফস্টাইলর ক্ষেত্রেও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন থাকতে।
বারবারই বৃক্ষরোপণে সকলকে উৎসাহিত করেন জগ্গু দাদা ওরফে জ্যাকি শ্রফ। প্রায়শই তাঁকে গাছের চারা উপহার দিতে দেখা যায়। পুণের লোনিকান্দ গ্রামে এক হাজারটিরও বেশি গাছ লাগিয়ে জীববৈচিত্র পার্ক তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। 'মিট্টি কি আওয়াজ' উদ্যোগের মাধ্যমে আজকের তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রচার করছেন গাছ লাগানোর উপকারিতা। এমনকী, তিনি যেখানেই যান সঙ্গে রাখেন একটি গাছের চারা!
ভেগান ও প্লাস্টিক-মুক্ত স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘হাইফেন’-এ বিনিয়োগ করেছেন অভিনেত্রী কৃতী শ্যানন। নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে সকলকে সুস্থ জীবনযাপনের প্রতি উৎসাহিত করেন নায়িকা। ২০২১ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ বার্তা শেয়ার করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, 'প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানেই নিজেকে রক্ষা করা।'
Published By: Biswadip DeyPosted: 11:31 PM Apr 22, 2026Updated: 11:35 PM Apr 22, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
