Advertisement
হর হর মহাদেব, হাজার বছরের ইতিহাস আর পুরাণ কাহিনি আঁকড়ে সোমনাথ মন্দির, যাবেন নাকি?
একাধিকবার ধ্বংস হয়েছে। পুননির্মানের সাক্ষীও থেকেছে গুজরাটের প্রভাস পাটন। ১২টি শিবলিঙ্গের প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ সোমনাথ মন্দির সেই দীর্ঘ ইতিহাস পেরিয়ে আজ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। চলতি বছরে ১০০০ বছর ছুঁয়ে ফেলল প্রাচীন এই দেবালয়। ১৯৫১ তে মন্দির পুননির্মান করা হয়। এবছর প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল সেই অজর মন্ত্র 'হর হর মহাদেব'। এই পবিত্র তীর্থস্থানে কীভাবে যাবেন? কী কী দেখবেন? রইল হালহকিকত।
১০২৬ সালে প্রথমবার আক্রান্ত হয়েছিল এই প্রাচীন সোমনাথ মন্দির। ঠিক এক হাজার বছর পর, ২০২৬ সালে সেই মন্দিরই উদযাপন করছে তার পুনর্নির্মাণের অমৃত মহোৎসব। ধ্বংস আর সৃষ্টির এক অদ্ভুত লড়াইয়ের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে এই জ্যোতির্লিঙ্গ।
১৯৫১ সালে সোমনাথ মন্দিরের আধুনিকীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। পরাধীনতার গ্লানি মুছে ফেলে সেটি ছিল এক স্বাধীন জাতির আত্মপরিচয় ঘোষণার উৎসব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি এই ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একে ভারতের ‘স্বাধীন আত্মার ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
স্বাধীনতার পরপরই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ৫০০টি দেশীয় রাজ্যকে যেমন তিনি একসূত্রে গেঁথেছিলেন, সোমনাথের সংস্কার ছিল তাঁর সেই সংকল্পেরই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রূপ। তাঁর হাত ধরেই আধুনিক ভারতের মানচিত্রে সোমনাথের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তিতে মন্দিরে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী উচ্চারণ করেন ‘হর হর মহাদেব’। তাঁর মতে, ১৯৫১ সালের এই ঘটনা নিছক কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না। বরং বিশ্ববাসীর কাছে এটি ছিল ভারতের শক্তিশালী হয়ে ওঠার বার্তা। রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা অর্জনের প্রতীক।
অতীতে অনেকেই সোমনাথের আসল ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু লুণ্ঠনের কাহিনী নয়, এই মন্দিরের সহনশীলতা ও ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম আড়াল করা হয়েছিল। বর্তমান ভারত সেই লুকানো ইতিহাসকে গর্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে আসছে।
২০০১ সালে সোমনাথ মন্দিরের আধুনিকীকরণের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছিল। সেই বিশেষ দিনে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আডবাণী। ২০২৬ সালের এই ৭৫ বছরের উদযাপন সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও সমৃদ্ধ করল। বর্তমান মন্দিরটি স্বাধীন ভারতের চেতনার এক জীবন্ত দলিল।
মন্দির সংস্কার করে উদ্বোধনের সময় সর্দার প্যাটেল বেঁচে না থাকলেও রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ধ্বংসের চেয়ে সৃষ্টি যে মহৎ, সোমনাথ তারই প্রতীক।
বর্তমান মন্দিরটি অত্যন্ত চমৎকার চালুক্য রীতিতে নির্মিত। এখানে রয়েছে বিশাল গর্ভগৃহ, শান্ত সভা মণ্ডপ এবং সুসজ্জিত নৃত্য মণ্ডপ। মন্দিরের কারুকাজ দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। প্রাচীন ভারতের স্থাপত্যশৈলী কীভাবে আধুনিক যুগের প্রযুক্তির সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছে, তা এখানে না এলে বোঝা অসম্ভব।
সোমনাথ মন্দিরে প্রতিদিন তিনবার বিশেষ আরতি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা, দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৭টার সেই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। শঙ্খধ্বনি আর মন্ত্রোচ্চারণে চারপাশ এক আধ্যাত্মিক শান্তিতে ভরে ওঠে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা শুধু এই আরতি দেখার জন্যই ভিড় জমান।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 09:17 PM May 11, 2026Updated: 09:17 PM May 11, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
