Advertisement
ডিভোর্সের ২ সপ্তাহ! সন্তানের কবরের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেলিনা জেটলি
"একাই সন্তানদের বড় করলাম আর বিনিময়ে মিলল শুধুই স্বামীর নির্যাতন", এক মায়ের আর্তিতে চোখ ভিজল নেটভুবনের!
১৫ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে সুখের মুখ দেখেননি। স্বামী পিটার হগের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার পাশাপাশি লাগাতার অস্বাভাবিক যৌনচারেরও অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী। তবে গত বছর স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করে ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। ডিভোর্সের বাকি আর ২ সপ্তাহ। তার প্রাক্কালেই হৃদয় বিদারক মুহূর্ত ভাগ করে নিলেন সেলিনা।
বছরখানেক ধরে সিনেপর্দা, লাইমলাইটের অন্তরালে থাকলেও একসময়কার 'বোল্ড' বলিউড নায়িকাকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই! প্রেমের টানে অস্ট্রেলিয়া নিবাসী হোটেল ব্যবসায়ী পিটার হগের সঙ্গে ২০১১ সালে সংসার পেতেছিলেন সেলিনা। কিন্তু সেই দাম্পত্যের পদে পদে গোলাপের পাপড়ির পরিবর্তে বিছানো ছিল কাঁটা!
বিচ্ছেদ মামলার শুনানির জন্য সেলিনা বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় রয়েছেন। পিটার হগের সঙ্গে তিক্ত দাম্পত্যের অবসান ঘটার বাকি মাত্র আর দু'সপ্তাহ। এইসময়েই সন্তানের কবরের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রামের ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিনা তাঁর পুত্র শামশেরের কবর পরিষ্কার করে ফুলে সাজিয়ে দিচ্ছেন। কিছুতেই বাধ মানছে না তাঁর চোখের জল।
একদিকে দাম্পত্যের অবসান। আরেকদিকে শেষবারের মতো সন্তানের কবর ছুঁয়ে দেখার যন্ত্রণা। সেলিনা জেটলি যে এইমুহূর্তে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা বলাই বাহুল্য। অভিনেত্রীর মন্তব্য, 'একজন মা হিসেবে আমার কষ্ট গোটা বিশ্বকে দেখানোর জন্য এই ভিডিয়োটি শেয়ার করা ছাড়া আমার আর কোনও উপায় ছিল না। গত কয়েক সপ্তাহ আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে কেটেছে।'
সেলিনার সংযোজন, "আমার সন্তানরা কোথায় আমি জানি না। আমি শুধু আমার ছেলে শামশেরের কবরের সামনে গিয়ে দেখা করে এসেছি। যে কিছুদিন আগেই মারা গিয়েছে।" উল্লেখ্য, নায়িকা আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে, পিটার অত্যন্ত নিষ্ঠুর। বাচ্চাদের সঙ্গে সমস্তরকম যোগাযোগ ছিন্ন করতে বাধ্য করেছেন। মৌখিকভাবে যাতে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, আদালতের কাছে সেই আবেদনও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু লাভ হয়নি!
সেলিনার মন্তব্য, "এটি এমন এক মায়ের হৃদয়বিদারক কাহিনি, যে সন্তানদের জন্মের পর থেকে তাদের জন্য সবকিছু করেছে। আমি আমার দেশ, বাবা-মা, চাকরি সবকিছু ছেড়ে ভারত থেকে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রিয়া করে বেড়াচ্ছি। আমি একাই আমার সন্তানদের বড় করেছি। তবে বিনিময়ে শুধুই স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়েছি।"
তবে এত কষ্টের মধ্যেও হাল ছাড়তে নারাজ সেলিনা। এই লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়বেন। ডিভোর্সনামায় অভিনেত্রীর গার্হস্থ্য নির্যাতনের বর্ণনা পড়লেও শিউড়ে উঠতে হয়! সেলিনা জানান, পরপুরুষের সঙ্গে শুতে বাধ্য করা থেকে বছরের পর বছর শারীরিক নিগ্রহ, অস্বাভাবিক যৌনতায় লিপ্ত হওয়া, এমনকী মোটা অঙ্কের পণ দিতেও বাধ্য করা হয়েছে তাঁকে।
বছরখানেক ধরে সিনেপর্দা, লাইমলাইটের অন্তরালে থাকলেও একসময়কার ‘বোল্ড’ বলিউড নায়িকাকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই! সেলিনার দাবি, বিয়ের ঠিক পর থেকেই স্বামীর আসল রূপ দেখতে পান তিনি। অভিনেত্রী জানান, "পিটার আমাকে পণের জন্য বাধ্য করত। বলত, সমস্ত ভারতীয় জামাইদের দেখেছি মোটা পণ, দামি পোশাক, গয়না পেতে। ফলত আমার বাড়ি থেকে পিটারকে ৭ লক্ষ টাকার গয়না-কাফলিঙ্ক উপহার দেওয়া হয়েছিল।"
মধুচন্দ্রিমাতেও স্বামীর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সেলিনা জানান,"আমার উপর চেঁচিয়ে ওয়াইন গ্লাস ছুঁড়ে ভেঙে দেয়। যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বলেছিল এক প্রতিবেশী এসে উদ্ধার করেন আমাকে। ২০১২ সালের দিল্লির ধর্ষণকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে পিটার আমাকে হুমকি দিয়েছিল, যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেব!" এমনকী অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করত অভিনেত্রীর স্বামী।
সেলিনা বলেন, "রাত হলেই আমাকে উপরের ঘরে ডেকে চলত অকথ্য যৌনঅত্যাচার। বিকৃত যৌনচারে অভ্যস্ত ছিল পিটার। নিত্যদিন পায়ুকামে (অ্যানাল সেক্স) বাধ্য করত। স্ত্রী হিসেবে আমার প্রতি মানসিক টান তো দূরঅস্ত, আমাকে যৌনপুতুলে পরিণতগ। সন্তানদের সামনে আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করত।" এবার শেষমেশ ডিভোর্সে মুক্তি পাচ্ছেন সেলিনা জেটলি। (ছবি- সংগৃহীত)
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 04:46 PM May 07, 2026Updated: 04:51 PM May 07, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
