Advertisement
সিংয়ের হাতেই 'খান সাম্রাজ্যে'র পতন! ১০০০০০০০০০০ টাকার ব্যবসা 'ধুরন্ধর'-এর, কোথায় 'টাইগার'-'পাঠান'?
সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ঝোড়ো ব্যাটিং করেছে রণবীরের এই ছবি। তার বক্স অফিস কালেকশন সত্যিই এক আলাদা মাইলফলক তৈরি করেছে ভারতীয় বিনোদুনিয়ায়।
বছর শেষে বক্স অফিসে ম্যাজিক দেখিয়েছে আদিত্য ধরের 'ধুরন্ধর'। এই ছবির হাত ধরেই রণবীরের কেরিয়ারের পরপর ফ্লপ ছবির শাপমচন ঘটেছে। একইসঙ্গে এক্কেবারে অন্য ভূমিকায় দর্শক পেয়েছেন অক্ষয় খান্নাকেও। ফ্লিপারাচ্চির র্যাপ গানে তাঁর অনবদ্য ডান্স মুভ যেন এক আলাদা ট্রেন্ড তৈরি করেছে বলা যায়। প্রথম থেকেই বক্স অফিসে লম্বা রেসের ঘোড়া 'ধুরন্ধর' এবার নিজভূমে অর্থাৎ ভারতের মাটিতেই এবার করে ফেলল ১০০০০০০০০০০ টাকার (১০০০ কোটি) ব্যবসা। আর এই ব্যবসার হাত ধরেই বলিউডের 'খান সাম্রাজ্যে'র পতন ঘটিয়েছেন রনবীর। পিছনে ফেলেছেন খানেদের 'টাইগার' ও 'পাঠান'কেও।
সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে যেভাবে ঝোড়ো ব্যাটিং করেছে রণবীরের এই ছবি তাতে এবার এই ছবির বক্স অফিস কালেকশন সত্যিই এক আলাদা মাইলফলক তৈরি করেছে ভারতীয় বিনোদুনিয়ায়। সে কথা বলাই বাহুল্য। ব্যবসার নিরিখে তথা ১০০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করা ছবিগুলির মধ্যে এই মুহূর্তে চতুর্থ স্থানে রয়েছে 'ধুরন্ধর'।
বিশ্বব্যাপী শাহরুখের 'পাঠান' ১০৫৫ কোটির ব্যবসা করলেও, দেশে সেই ছবি মোট ৬৫৭ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। অন্যদিকে সলমনের 'টাইগার' ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি 'টাইগার জিন্দা হ্যায়' ভারতের মাটিতে ব্যাবসা করেছিল মোট ৩৩৯ কোটির। অন্যদিকে 'টাইগার ৩' ভারতে ২৮৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল।
১০০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করা রণবীরের এই ছবি চতুর্থস্থানে রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রথম তিনে রয়েছে ভারতীয় কোন তিন ছবি জানেন? এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আল্লু অর্জুনের 'পুষ্পা ২'। যা ভারতে ১৪৭১ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে 'বাহুবলী ২', যা ভারতে ব্যবসা করেছিল ১৪১৭ কোটি টাকা। তালিকার তৃতীয়স্থানে রয়েছে যশের 'কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২', যা ভারতে অ্যায় করেছিল ১০০১ কোটি টাকা।
ভারতের মাটিতে ১০০০ কোটির ঘরে প্রবেশ করা 'ধুরন্ধর' বিশ্বব্যাপী অ্যায় করেছে ১৩০০ কোটি টাকা। যদিও দেশে তথা গোটা বিশ্বে এই ছবি ঘিরে তুমুল উন্মাদনা দেখা দিলেও এই ছবি মুক্তির পরই নিষিদ্ধ হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে। ভারত ও পাকিস্তান তথা উপমহাদেশকে এই ছবির প্রেক্ষাপট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। আর সেই পাকিস্তান বিরোধী প্রেক্ষাপট দেখানোর জেরেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে এই ছবি নিষিদ্ধ হয়েছিল। ‘ধুরন্ধর’ মধ্যপ্রাচ্যে মুক্তি না পাওয়ায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৯০ কোটির ব্যবসা থেকে পিছিয়ে গিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মুক্তি পেলে যা অনায়াসে এই ছবি লাভ করতে পারত। তবে তা যে রণবীরের ছবির বক্স অফিস কালেকশনে প্রভাব ফেলতে পারেনি তা বলাই বাহুল্য।
বলে রাখা ভালো, সারা বিশ্বে দাপিয়ে ব্যবসা করলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে নিষিদ্ধ হয়েছে রণবীর-অক্ষয়ের এই ছবি। মধ্যপ্রাচ্যে যাতে এই ছবি মুক্তি পায় সেবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিল ‘দ্য ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন’র মতো বলিউড সংগঠন। প্রযোজকদের তরফে মধ্যপ্রাচ্যে এই ছবি মুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি মারফত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বছর শেষে বক্স অফিসে নতুন মাইলস্টোন গড়েছিল ‘ধুরন্ধর’। ৬৬৮ কোটির ব্যবসা করে শাহরুখের ‘জওয়ান’কেও টপকে গিয়েছিল এই ছবি। ছবিমুক্তির বাইশ দিনের মাথাতেই সেই ৬৬৮ কোটির ব্যবসা করে।
এছাড়াও একইসঙ্গে চতুর্থ সপ্তাহে ভেঙেছিল ৫.৭৫ কোটি টাকার ব্যবসা করা ‘ছাবা’র রেকর্ডও। শুধু তাই নয়, রণবীরের ‘ধুরন্ধর’ ভেঙে দিয়েছিল বলিউডের আরও এক খান, আমির খানের ‘থ্রি ইডিয়টসে’র রেকর্ডও। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবি দেশে ও সারা বিশ্বে ব্যাবসা করেছিল যথাক্রমে ২৭৪ কোটি ও ৪০০ কোটি।
Published By: Arani BhattacharyaPosted: 10:22 PM Jan 28, 2026Updated: 10:37 PM Jan 28, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
