Advertisement
ঘুম ভাঙতেই মুখ শুকিয়ে কাঠ! জানেন কেন এমন হয়? স্বস্তি দেবে 'হিউমিডিফায়ার'?
ঘুম ভাঙতেই শুকিয়ে যাচ্ছে মুখ? লাগছে অস্বস্তি? শীতের রাতে বা এসি-চালিত ঘরে ঘুমালে এমনটা অনেকেরই হয়। কিন্তু প্রতিদিন একই সমস্যা হলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে শুধু অস্বস্তিই নয়, দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব পড়তে পারে।
ঘুমের মধ্যে মুখ খোলা রেখে শ্বাস নেওয়া বা নাক ডাকা ড্রাই মাউথের অন্যতম কারণ। শরীরে জলের ঘাটতি, কিছু ওষুধ এবং লালা উৎপাদন কমে গেলেও এমন হতে পারে। ডায়াবেটিস বা কিছু অটোইমিউন রোগের সঙ্গেও মুখের শুষ্কতার সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই সমস্যার আসল কারণ খুঁজে বের করাটা জরুরি।
ঘরের বাতাস খুব শুষ্ক হলে রাতে হিউমিডিফায়ার কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এটি বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায়, ফলে মুখ ও গলার শুষ্কতা কম অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে বা দীর্ঘক্ষণ এসি চলা ঘরে এটি উপকারী হতে পারে। তবে সব ধরনের ড্রাই মাউথের সমাধান কিন্তু হিউমিডিফায়ার নয়।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, নাক ডাকা বা কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে মুখগহ্বর শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার মূল সমস্যার সমাধান করবে না। এটি কেবল শুষ্ক বাতাসজনিত অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই বারবার এমন হলে শুধু সাময়িক আরামের উপর নির্ভর না করে কারণটি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে ঘরের আর্দ্রতা সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখা ভালো। তবে অতিরিক্ত আর্দ্রতাও সমস্যা তৈরি করতে পারে। ঘরে বেশি আর্দ্রতা থাকলে ছত্রাক জন্মানোর পরিবেশ তৈরি হয়। তাই যন্ত্রটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনের বেশি আর্দ্রতা না বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
মুখের লালা দাঁত ও মাড়ির প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচের মতো কাজ করে। দীর্ঘদিন মুখ শুকিয়ে থাকলে সেই সুরক্ষা কমে যায়। ফলে ক্যাভিটি, মাড়ির সমস্যা, মুখে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাবার চিবানো, কথা বলা বা খাবার গিলতেও অস্বস্তি হতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী ড্রাই মাউথকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
মুখগহ্বরের শুষ্কতা কয়েক সপ্তাহ ধরে চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বারবার ক্যাভিটি হওয়া, মুখে ঘা, খাবার গিলতে অসুবিধা বা অস্বাভাবিক তেষ্টার মতো উপসর্গ থাকলেও সতর্ক হতে হবে। দন্তচিকিৎসক বা চিকিৎসক সমস্যার কারণ খুঁজে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারেন এবং দাঁত ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করতে পারেন।
শুষ্ক বাতাসের কারণে রাতে মুখ শুকিয়ে গেলে হিউমিডিফায়ার কিছুটা আরাম দিতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন সকালে একই সমস্যা হলে শুধু যন্ত্রের উপর নির্ভর করলেই চলবে না। পর্যাপ্ত জল পান, সমস্যার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুস্থ মুখ মানেই শুধু স্বস্তি নয়, দাঁত ও মাড়িরও সুরক্ষা।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 06:48 PM Aug 30, 2026Updated: 06:48 PM Aug 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
