Advertisement
'ধুরন্ধর' একাই নয়, বলিউডের এই ছবিগুলিও রিল ও রিয়েলের আশ্চর্য মন্তাজ
বাস্তবের প্রতিফলন সিনেমায় তৈরি করে অন্য 'জাদু'!
রিল আর রিয়েল। পর্দার জীবন আর বাস্তব জীবন। আপাত ভাবে সম্পূর্ণ আলাদা দুই জগৎ অনেক সময়ই মিলে যায় আশ্চর্য ভাবে। বাস্তবের প্রতিফলন সিনেমায় তৈরি করে অন্য 'জাদু'! বক্স অফিসে সাফল্য থেকে বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা- নানা ভাবে স্বীকৃত হয় সেই সব প্রয়াস। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত 'ধুরন্ধর' যার অন্যতম উদাহরণ। এছাড়াও এমন ধরনের ছবির মধ্যে 'চক দে ইন্ডিয়া' কিংবা 'ভাগ মিলখা ভাগ'-এর স্পোর্টস মুভি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে 'স্পেশাল ২৬'-এর মতো ছবি, যেখানে বাস্তবের অপরাধ পর্দায় তৈরি করেছে রোমাঞ্চ ও বিস্ময়।
মীর রঞ্জন নেগির বায়োপিক 'চক দে ইন্ডিয়া' হকির জনপ্রিয়তা রাতারাতি ফিরিয়ে এনেছিল এই দেশে। নেগির চরিত্রে জীবনের অন্যতম সেরা অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান। ছবিটি কেবল একটি স্পোর্টস ড্রামা নয়, এটি দেশপ্রেম এবং নারীশক্তির এমন এক মিশেল যা পর্দার সামনে থাকা দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করে জীবনসংগ্রামে এগিয়ে যেতে। জেদি কোচের চরিত্রে শাহরুখের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেয়েদের একজোট লড়াইয়ের কাহিনিকে সত্যি করতে কার্যতই অনামী অভিনেত্রীদের কাজও চমকে দিয়েছিল।
'উড়ন্ত শিখ' মিলখা সিংয়ের বায়োপিক 'ভাগ মিলখা ভাগ'-এ ফারহান আখতারের অভিনয় নিয়ে চর্চা আজও অব্যাহত। কেবল এক দৌড়বীরের সাফল্যের গাথা নয়, দেশভাগের যন্ত্রণা, স্বজনবিয়োগের অপরিসীম ব্যথা সামলে এক মানুষের সাফল্যকে যেভাবে টানটান চিত্রনাট্যে ফোটানো হয়েছিল ছবিতে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
১৯৯৩ সালে গোটা দেশ শিউরে উঠেছিল বম্বে (তখনও মুম্বই হয়নি) বিস্ফোরণে। প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৫০-রও বেশি মানুষ। আহতের সংখ্যা হাজারেরও বেশি। সেই ঘটনা নিয়েই তৈরি হয়েছিল 'ব্ল্যাক ফ্রাইডে'। প্রবল প্রশংসিত হয়েছিল ছবিটি। হামলার প্রতিটি দিক যেভাবে চিরে চিরে দেখানো হয়েছিল তা বিস্ফোরণের নেপথ্যের ছবিটা পরিষ্কার করে তুলেছিল দর্শকদের সামনে।
'শ্যুটআউট অ্যাট লোখন্ডওয়ালা'ও বাস্তব এক ঘটনা অবলম্বনেই নির্মিত। ১৯৯১ সালে মুম্বই পুলিশ ও গ্যাংস্টার মায়ার মধ্যে হওয়া গুলির লড়াই-ই এই ছবির মূল উপজীব্য। সঞ্জয় দত্ত, বিবেক ওবেরয় ও সুনীল শেঠির মতো অভিনেতাদের সমাগম এই ছবিটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
দাউদ ইব্রাহিম ও হাজি মস্তান। দুই কুখ্যাত গ্যাংস্টারের জীবনের উপরে ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছিল 'ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বই'। তবে ছবিটিতে ছিল বহু বাণিজ্যিক উপাদানও। ফলে সুপারহিট হলেও 'ব্ল্যাক ফ্রাইডে'র মতো সত্যনিষ্ঠ বলা যায় না এই ছবিটিকে। তবে ছবির মূল ভিত্তি ছিল এই দুই কুখ্যাত অপরাধীর 'বাস্তব' লড়াইয়ের প্রতিফলনই।
'নো ওয়ান কিলড জেসিকা' ছবিও তৈরি হয়েছিল বাস্তব ঘটনাকে মাথায় রখেই। একসময় দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়া জেসিকা লাল হত্যাকাণ্ডকে রুপোলি পর্দায় 'জীবন্ত' করে তুলেছিল বিদ্যা বালন ও রানি মুখোপাধ্যায়ের দুরন্ত অভিনয়। রানি ছিলেন এক আইনজীবীর ভূমিকায়। বিদ্যা হয়েছিলেন জেসিকার বোন সাবরিনা লাল। ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছবিটি ৪৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল।
১৯৮৭ সালে বম্বের জাভেরি বাজারে আয়কর অফিসার সেজে একদল দুষ্কৃতী যেভাবে প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে অপরাধ করেছিল তা আজও রহস্যে ঘেরা। সেই ঘটনাই 'স্পেশাল ২৬' নামে পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল। একদিকে জমজমাট চিত্রনাট্য, অন্যদিকে অক্ষয়, অনুপমদের অভিনয়- ছবিটিকে আজও দর্শকপ্রিয় করে রেখেছে।
Published By: Biswadip DeyPosted: 02:48 PM Feb 15, 2026Updated: 03:19 PM Feb 15, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
