Advertisement
প্রতিমুহূর্তে সঙ্গীকে ঠকাচ্ছেন? দ্বন্দ্ব কাটিয়ে দাম্পত্যের হারানো রসায়ন ফিরে পান এভাবে
সম্পর্কের ভিতই হল বিশ্বাস। কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে দেখা যায় নীতি-নৈতিকতার কথা মাথায় না রেখেই সঙ্গীকে প্রতারণার খেলায় মেতে ওঠেন অনেকে। এমনটা নয় যে সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান। ব্যক্তিগত জীবন একেবার সুন্দরভাবে বজায় রেখেই অধিকাংশ জড়িয়ে পড়েন নতুন সম্পর্কে। অর্থাৎ একসঙ্গে দু' নৌকোয় পা দিয়ে চলার চেষ্টা। এসব ক্ষেত্রে অধিকাংশই দাবি করেন, তাঁরা ২ জনকেই ভালোবাসেন। যে কোনও একজনকে ছাড়া জীবন ভাবতে পারেন না।
এভাবে সময় এগোয়। বাড়তে থাকে প্রতারণার মাত্রা। সঙ্গী চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে যান। কারণ, তিনি প্রথমদিকে সাদা চোখে অবিশ্বাস করার মতো কোনও কারণ খুঁজে পান না।
তবে এটাও ঠিক, সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করার পরিকল্পনা করে কেউ কখনও নতুন সম্পর্কে জড়ান না। হঠাৎ দেখা বা বন্ধুত্ব থেকে কারও প্রতি অনুভূতি তৈরি হয়ে যায়। যা আর এড়িয়ে যাওয়ার মতো মানসিক শক্তি পান না অনেকেই। আর সেখান থেকেই শুরু সঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণার খেলা।
বিষয়টা শুধু প্রতারণাতেই আটকে থাকে না। একটা পর্যায়ের পর শুরু হয় বিবেকের দংশন। দুই সঙ্গীকে নিয়ে এক অদ্ভুত টানাপোড়েন শুরু হয় মনের মধ্যে। যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু চাইলেই কিন্তু এই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়, এমনটাই বলছে গবেষণা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেম বা দাম্পত্যে ভাঙন ধরানোর সব থেকে বড় অস্ত্র বিশ্বাসভঙ্গ। কিন্তু অধিকাংশই এই খেলায় মত্ত হন স্রেফ সুযোগ পেলে বা মজার ছলে। কেউ আবার শারীরিক সুখের নেশায় সঙ্গী থাকতেও জড়িয়ে পড়েন অন্য সম্পর্কে। কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতেই পারে, কিন্তু মনে রাখতে হবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র কিন্তু রয়েছে নিজের হাতেই।
বলা হচ্ছে, এই প্রবণতা থেকে নিজেকে সরিয়ে আনার একটা বড় উপায় হল সঙ্গীর মানসিক অবস্থা অনুভব করা। কোনও কিছুই দীর্ঘদিন গোপন থাকে না। আর যে মানুষটার সঙ্গে সর্বক্ষণ থাকেন, তাঁর নজর এড়িয়ে কোনও কিছু করা বেশ কঠিন। তাই প্রথমে লুকোচুরি খেলা সফলভাবে খেলতে পারলেও একটা সময়ের পর সঙ্গী সবটা জেনেই যায়। ভাবুন সঙ্গী যদি এই একই কাজ করত আপনার সঙ্গে?
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সঙ্গীর জায়গায় নিজেকে বসালেই সমস্যা অনেকটা দূর হয়। দেখা গিয়েছে, এক্ষেত্রে সঙ্গীর প্রতি আবেগ তৈরি হয়। তৃতীয় যার জন্য শারীরিক বা মানসিক আকর্ষণ তৈরি হয়েছে, তা অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় কমে যায়। কারণ, মানুষ অন্যের সঙ্গে অন্যায় করলেও নিজের সঙ্গে তা মানতে পারে না। এটাই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।
এখানে কেন সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আগমন ঘটল তা একটা বড় বিষয়। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনাদের মধ্যে কী এমন সমস্যা রয়েছে, তার সূত্র ধরে আগমন ঘটেছে তৃতীয় ব্যক্তির। ঠকতে হচ্ছে আপনার সঙ্গীকে। এর উত্তরও কাজ করে ম্যাজিকের মতো।
ভুল-ভ্রান্তি সব সম্পর্কেই থাকে। তার মানে কিন্তু নিজেদের সুন্দর মুহূর্তগুলো মিথ্যে তা নয়। আমি বা তুমি নয়, আমাদের ভাবতে শিখুন। সঙ্গী তো আপনার নিজের মানুষ। তার সঙ্গে প্রতারণা কীভাবে! নিজেকে এই প্রশ্ন করুন বারবার। দেখবেন আর ভুল পথে চলতেই চাইবে না মন। সঙ্গীর প্রতি বাড়বে প্রেম, আকর্ষণ। জোড়া লাগবে চিড় ধরা সম্পর্কে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 05:01 PM May 12, 2026Updated: 05:01 PM May 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
