Advertisement
কিলবিল করছে বিষধর সাপ, কোথাও মৃতদেহের স্তূপ! 'ভয়ংকর সুন্দর' ১০ স্থানে পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি
বাঙালি রক্তে রোমাঞ্জকর ভ্রমণের স্টেরয়েড বোধহয় প্রথম ঢুকিয়েছিলেন সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ। তাঁর কালজয়ী চাঁদের পাহাড়ে শংকরের মধ্য দিয়ে। বর্ষাবন, কালাহারি মরু, ব্ল্যাক মাম্বা, বুনিপের মতো আজানা প্রাণী, মৃত্যুর হাতছানি, যুগে যুগে বাঙালিকে স্বপ্ন দেখিয়েছে রোমাঞ্চের অমৃত ভাণ্ডারে লাফিয়ে পড়ার।
ভ্রমণ সাধারণত ব্যস্ত জীবন পেরিয়ে প্রকৃতির কোলে ক্ষণিকের বিশ্রাম। তবে বয়স ভেদে বদলে যায় ভ্রমণের সজ্ঞা। বাঙালি রক্তে রোমাঞ্জকর ভ্রমণের স্টেরয়েড বোধহয় প্রথম ঢুকিয়েছিলেন সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ। তাঁর কালজয়ী চাঁদের পাহাড়ে শংকরের মধ্য দিয়ে। বর্ষাবন, কালাহারি মরু, ব্ল্যাক মাম্বা, বুনিপের মতো আজানা প্রাণী, মৃত্যুর হাতছানি, যুগে যুগে বাঙালিকে স্বপ্ন দেখিয়েছে রোমাঞ্চের অমৃত ভাণ্ডারে লাফিয়ে পড়ার। সে ধারা বাঙালি রক্তে আজও বহমান। তবে আফ্রিকার রিখটারসভেল্ড পর্বতমালার বাইরেও বিশ্বের এমন বহু 'ভয়ংকর সুন্দর' জায়গা রয়েছে যেখানে পা রাখার অর্থ সাক্ষাৎ মৃত্যুকে আহ্বান জানানো। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বের সেই ১০ অত্যন্ত বিপজ্জনক স্থানগুলি।
চেরনোবিল: বিশ্বের বিপজ্জনক ভ্রমণ স্থানের মধ্যে অন্যতম এই জায়গা। ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত এই স্থানটি বর্তমানে ইউক্রেনে অবস্থিত। ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল এখানে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটে। যার নাম চেরনোবিল বিপর্যয়। দুর্ঘটনার দিন এখানে মৃত্যু হয়েছিল ৩১ জনের। এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। এখানে মানুষ আজ বেড়াতে গেলেও এখনও এই অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি রয়েছে।
ডেথ ভ্যালি: তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রাখা যেতে পারে আমেরিকার ডেথ ভ্যালিকে। পূর্ব ক্যালিফর্নিয়ার একটি মরু উপত্যকা এই অঞ্চল। জায়গাটির তাপমাত্রা বিশেষ কিছু সময়ে ভয়াবহ আকার নেয়। ১৯৭২ সালের ১৫ জুলাই এখানকার ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ৯৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ফুটন্ত জলের তাপমাত্রার সমান। যার জেরে একে মৃত্যু উপত্যকা বলা হয়ে থাকে।
মাউন্ট সিনাবুং: ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার কারো মালভূমিতে অবস্থিত মাউন্ট সিনাবুং। প্রায় ৪০০ বছর ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর ২০১০ সালে এখানে একটি আগ্নেয়গিরি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর ২০১৪, ২০১৬, ২০২০ সালে এখানে ভয়াবহ অগ্নুৎপাত ঘটে। জায়গাটি সুন্দর হলেও এখানে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষের জন্য জায়গাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আন্টার্কটিকা: পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই অঞ্চল আস্ত একটি মহাদেশ। যার ৯৯.৫ শতাংশ এলাকা সারাবছর পুরু বরফের চাদরে আছন্ন। পৃথিবীর শীতল ও শুষ্কতম অঞ্চল এটি। গবেষণার কাছে বিভিন্ন দেশের তরফে বিজ্ঞানীদের ক্যাম্প থাকলেও সেভাবে পর্যটন এখানে শুরু হয়নি। এখানে ভারতের স্থায়ী গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে, মৈত্রী এবং ভারতী। এখানকার বাসিন্দারা হল, চার প্রজাতির পেঙ্গুইন, লেপার্ড সিল, এলিফ্যান্ট সিল, হাম্পব্যাক তিমি, নীল তিমি ও অর্কা। তিন ধরনের পাখি আলবাট্রস, স্নো পেট্রেল, এবং অ্যান্টার্কটিক স্কুয়া প্রজাতির পাখিদের বাস এখানে।
ডানাকিল মরুভূমি: বার্ষিক গড় তাপমাত্রার নিরিখে পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ স্থান ইথিওপিয়ার এই মরুভূমি। জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, লাভার হ্রদ, বিষাক্ত ঝরনা মিলিয়ে এই অঞ্চলকে নরকের দ্বার বললেও কম বলা হয়। গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে বিষাক্ত গ্যাস। চরম পরিবেশ সত্ত্বেও, এখানে আফার (Afar) সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। যারা মূলত লবণের ব্যবসা ও খনির সাথে যুক্ত।
স্নেক আইল্যান্ড: ব্রাজিলের সাও পাওলো থেকে ২০ মাইল দূরে সমুদ্রের মাঝে এক ভয়ংকর দ্বীপ স্নেক আইল্যান্ড। নাম থেকেই বোঝা যায় এলাকাটি বাস্তবিক সাপের রাজত্ব। এই সাপ আবার যে সে সাপ নয়, পৃথিবীর অন্যতম বিষধর গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার। দাবি করা হয়, দ্বীপটির প্রতি বর্গমিটারে ১ থেকে ৫টি গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার পাওয়া যায়। সাপটির কামড় মুহূর্তে মৃত্যু ঘটাতে পারে মানুষের। আগে এই দ্বীপে একটি লাইটহাউস ছিল, তবে সাপের উৎপাতের জেরে এখানকার শেষ কর্মীও দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে আসেন।
লেক ন্যাট্রন: তানজানিয়ার উত্তর অংশে কেনিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত লেক ন্যাট্রন। এই হ্রদের জল রক্তের মতো লাল এবং মারাত্মক ক্ষারীয়। এতটাই মারাত্মক যে এই জলের সংস্পর্শে এলে যে কোনও প্রাণী পাথরের মমিতে পরিণত হতে পারে। হ্রদের আশপাশে এমন বহু ছোট প্রাণীর জীবন্ত মমি আপনার চোখে পড়বে। এখানকার জলের পিএইচ ১০.৫ পর্যন্ত হতে পারে। তবে চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই স্থান ফ্লেমিঙ্গো পাখিদের প্রজননস্থল।
মাদিদি ন্যাশনাল পার্ক: বলিভিয়ার উত্তর-পশ্চিম আমাজন অববাহিকায় অবস্থিত এই অঞ্চল। ১৮,৯৫৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই জঙ্গল বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা। ১,০০০-এর বেশি প্রজাতির পাখি, ৩০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, এবং হাজার হাজার প্রজাতির গাছপালা ও প্রজাপতি রয়েছে। জগুয়ার, পিঙ্ক রিভার ডলফিন, ম্যাকাও এবং বিভিন্ন প্রজাতির বানর এখানে দেখা যায়। ভয়ংকর সুন্দর এই বনের পদে পদে রয়েছে হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের ভয়।
নর্থ সেন্টিনেল: ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের একটি ছোট্ট দ্বীপ নর্থ সেন্টিনেল। এই দ্বীপে শত্রুভাবাপন্ন উপজাতিদের বাস। সভ্য জগত থেকে এই উপজাতিরা যুগের পর যুগ ধরে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও সুরক্ষার জন্য এই দ্বীপে প্রবেশ আইনত নিষিদ্ধ। সেন্টিনেলিজরা হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বসবাস করছে। আধুনিক সভ্যতার কোনও সংস্পর্শেই আসেনি তাঁরা।
মাউন্ট এভারেস্ট ডেড জোন: বিপজ্জনক তালিকায় সবার শেষে রাখা যেতে পারে হিমালয়ে অবস্থিত বিশ্বের উচ্চতম শিখর মাউন্ট এভারেস্টকে। এভারেস্টের শিখরে পৌঁছনোর পথ মোটেই সহজ নয়। প্রতিকূল এই যাত্রাপথে অক্সিজেনের অভাব, চরম ঠাণ্ডা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো নানা সমস্যার জেরে প্রতি বছর গড়ে এখানে ৬ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাজনক এলাকা থেকে সেই মৃতদেহ উদ্ধার করা যায় না বলে সেখানেই পড়ে থাকে দেহগুলি। যার জেরে এভারেস্টের পথে নির্দিষ্ট ওই এলাকাকে খোলা কবরস্থান বা ডেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 05:11 PM May 12, 2026Updated: 05:11 PM May 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
