Advertisement
পুড়িয়ে মারা হয় চাণক্যকে! চন্দ্রগুপ্তকে সিংহাসনে বসানোর পরও কেন খুন হতে হয় কৌটিল্যকে?
বিষ্ণুগুপ্ত ওরফে কৌটিল্য ওরফে চাণক্যের আশ্চর্য জীবন আজ লোকজীবনের অঙ্গ হয়ে রয়েছে।
তাঁর মৃত্যুর পরে পেরিয়ে গিয়েছে হাজার হাজার বছর। ইতিহাস ও লোকশ্রুতির মিশেলে আজও এদেশের হাওয়ার ভিতরে রয়ে গিয়েছেন তিনি। বিষ্ণুগুপ্ত ওরফে কৌটিল্য ওরফে চাণক্য। তাঁর রাজনীতি, দর্শন এবং সর্বোপরি আশ্চর্য জীবন- দীর্ঘ সময়ের সরণি পেরিয়েও লোকজীবনের অঙ্গ হয়ে রয়েছে। অথচ আগুনে পুড়িয়ে খুন করা হয়েছিল তাঁকে! কেন এমন পরিণতি হয়েছিল এমন এক মহামতির?
চাণক্য ছোট থেকেই ছিলেন মেধাবী। তক্ষশীলা থেকে অধ্যয়ন শেষ করে সেখানেই শিক্ষকতা করেছিলেন। কিন্তু চাণক্যর জীবনের আসল কাহিনি শুরু হয় ধননন্দের রাজসভা থেকে। দুর্বিনীত ওই রাজার কাছে তুমুল অপমানিত হয়েছিলেন তিনি। কেন অপমান? নানা ব্যাখ্যা রয়েছে। এক কাহিনি বলছে, ‘অসুন্দর’ চাণক্যকে দেখে বিরক্ত হয়ে রাজাই নাকি তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আবার ‘মুদ্রারাক্ষস’ বলছে, রাজার পারিষদদেরই একজন হয়ে যাওয়া চাণক্যকে বহিষ্কার করেন ধননন্দ।
অপমানিত চাণক্য খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন এমন কাউকে যে হয়ে উঠবে মগধের পরের সম্রাট। এরপরই জঙ্গলের মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে ‘রাজা রাজা’ খেলতে থাকা এক বালককে চোখে পড়ে তাঁর। তিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। শেষ পর্যন্ত তক্ষশীলায় নানা বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে বহু চেষ্টা ও কৌশলে ধননন্দকে পরাজিত করে মগধরাজ হন তিনি। কিন্তু সেই চন্দ্রগুপ্তর খাবারে অল্প করে রোজ বিষ মিশিয়ে দিতেন চাণক্য। কিন্তু কেন?
রাজার শরীরকে বিষ-সহ করে তোলাই লক্ষ্য ছিল চাণক্যের। কিন্তু এর ফলেই একদিন ঘনাল বিপদ। সেই সময় গর্ভবতী রাজমহিষী দুর্ভারা। তাঁর গর্ভে ভাবী রাজা বিন্দুসার। চন্দ্রগুপ্তর শখ হল, স্ত্রীর সঙ্গে একই থালায় খাবার খাবেন। তিনি তো আর জানতেন না, খাবারে মেশানো রয়েছে বিষ! দুর্ভারার শরীর বিষিয়ে উঠতেই হাজির চাণক্য। তরোয়াল চালিয়ে রানির গর্ভ থেকে রাজার সন্তানকে বের করে আনলেন তিনি।
এই ঘটনাই পরবর্তী সময়ে বিন্দুসারের মনে জাগিয়ে তুলেছিল তীব্র রাগ! আসলে ততদিনে সংসার ত্যাগ করেছেন বৃদ্ধ চন্দ্রগুপ্ত। জৈন মতে উপবাসের মাধ্যমে প্রাণত্যাগ করেছিলেন। সম্রাটের আসনে বসা বিন্দুসারকে সুবন্ধু নামের এক ব্যক্তি খেপিয়ে তুললেন। আসলে চাণক্যকে সরিয়ে ওই আসনে নিজেকে বসাতে চাইতেন দুর্বৃত্ত সুবন্ধু। এই খবর এসে পৌঁছল চাণক্যের কানেও। স্বেচ্ছামৃত্যুর বেদী তৈরি করে ফেলে জীবনকে শেষ করতে উদ্যত হলেন তিনি।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত হলেন বিন্দুসার। এক বৃদ্ধা দাসীর কাছ থেকে তিনি সব জানতে পেরেছেন। বুঝতে পেরেছেন, কীভাবে এই মানুষটি সেদিন নিজের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে তাঁকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন। তরুণ সম্রাটের ভুলের অবসানে চাণক্যের ঠোঁটের ডগায় হাসি ফুটে উঠলেও তা স্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত কুচক্রী সুবন্ধুর লাগিয়ে দেওয়া আগুনে দাউদাউ জ্বলে উঠেছিল ধ্যানবেদী। অনেক চেষ্টাতেও আর বাঁচানো যায়নি চাণক্যকে।
রাজক্ষমতা ও তার পরিপার্শ্ব যে সর্বক্ষণ এক চক্রান্ত ও রক্তদাগের আবহকে বয়ে নিয়ে চলে, তা যেন চাণক্যের জীবনের অন্তিম লগ্নেও এভাবেই ফুটে রইল। যদিও আরেক মতে, চাণক্যও নাকি চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গেই নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছিলেন উপবাসের মাধ্যমে। কিন্তু বেশি প্রচলিত দগ্ধ হওয়ার কাহিনিটিই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাণক্য ও তাঁর প্রয়াণ এভাবেই হয়ে উঠেছে আশ্চর্য মিথ।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:27 PM Sep 03, 2026Updated: 08:27 PM Sep 03, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
