Advertisement
বাংলাদেশ প্রথম নয়, নিরাপত্তার কারণে ICC ইভেন্ট 'বয়কট' করেছে একাধিক দেশ, দিতে হয়েছে খেসারতও
ইতিহাস বলছে শেষ মুহূর্তে যে সব দল বিশ্বকাপ বা অন্য কোনও আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে রাজি হয়নি সেই সব দলকেই খেসারত দিতে হয়েছে।
বাংলাদেশের ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিস্তর জলঘোলা হয়েছে ক্রিকেট মহলে। মঙ্গলবার আইসিসি আরও একবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তারা প্রকাশ করেছে সেটার সারবত্ত্বা নেই। ভারত থেকে ম্যাচ সরানো যাবে না। তাই নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক বিসিবি।
বিসিবি এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়। বাংলাদেশ বোর্ডও জানিয়ে দিয়েছে, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও অফিশিয়ালদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আগের অবস্থানে বদল আসছে না। যার অর্থ ভারতে তারা দল পাঠাবে না ভারতে। সব মিলিয়ে অচলাবস্থা কাটার কোনও ইঙ্গিত নেই।
ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। একটা বিষয় মোটামুটি নিশ্চিত, বাংলাদেশের চাপে মাথা নোয়াবে না আইসিসি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচগুলির সূচি বদলানো হবে না। তাতে যদি বাংলাদেশ ভারতে খেলতে না আসে তাহলে ধরে নেওয়া হবে তারা ওয়াকওভার দিয়েছে। বাকি দলগুলোকে জয়ী হিসেবে পয়েন্ট দেওয়া হবে। বা অন্য কোনও দলকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
অতীতেও একাধিক বার একাধিক দেশ এই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই শেষ মুহূর্তে আইসিসি ইভেন্ট খেলতে যায়নি। সেক্ষেত্রে সেই দলগুলিকে বাদ দিয়েই ওই ম্যাচ হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিপক্ষ দলকে পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী হয়েছে, যে দেশ খেলতে অস্বীকার করেছে সেই দেশই।
১৯৯৬ বিশ্বকাপ থেকেই এই নিরাপত্তা ইস্যু চলছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তান। সেসময় প্রভাকরণের নেতৃত্বে তামিলদের বিদ্রোহে শ্রীলঙ্কা অগ্নিগর্ভ। সে বছর শ্রীলঙ্কায় খেলতে যেতে অস্বীকার করে একাধিক দেশ। যার সুবিধা পায় শ্রীলঙ্কাই।
৯৬' বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছিল শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু কলোম্বোয় ম্যাচের আগের কয়েক দিন একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। পুরো শহর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। শেষে নিরাপত্তা ইস্যুতে আয়োজক দেশের বিরুদ্ধে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অজি দল। মার্ক টেলররা শ্রীলঙ্কায় না যাওয়ায় ওয়াকওভার পায় শ্রীলঙ্কা।
অস্ট্রেলিয়ার মতো একই পথে হাঁটে ওয়েস্ট ইন্ডিজও। ক্যারিবিয়ানরাও সেবার শ্রীলঙ্কায় খেলতে যেতে রাজি হয়নি। সেই ম্যাচেও ওয়াকওভার পান সনৎ জয়সূর্যরা। সেবার গ্রুপ পর্বে তেমন বাধাই পেতে হয়নি শ্রীলঙ্কাকে। শেষমেশ তাঁরাই চ্যাম্পিয়ন হয়।
নিরাপত্তা বিতর্ক ফেরে ২০০৩ বিশ্বকাপে। এবার জিম্বাবোয়ের তৎকালীন স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবের অত্যাচারের প্রতিবাদ করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল জিম্বাবোয়েতে খেলতে যেতে অস্বীকার করে। যার জেরে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যেতে হয়। ওই ম্যাচে ওয়াকওভার পেয়ে সুপার সিক্সে উঠে যায় জিম্বাবোয়ে।
ওই একই বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণে কেনিয়াতে দল পাঠাতে রাজি হয়নি নিউজিল্যান্ড। যার ফল ভুগতে হয় নিউজিল্যান্ডকেও। তারাও সুপার সিক্সে যেতে পারেনি। ওই ম্যাচে ওয়াকওভার পেয়ে সুপার সিক্সে চলে যায় কেনিয়া। সেবার তারা সেমিফাইনালও খেলে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 09:50 PM Jan 13, 2026Updated: 09:51 PM Jan 13, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
