Advertisement
গুজিয়া নাকি বেসন লাড্ডু, কাজু বরফি নাকি খাসির মাংস? রঙের উৎসবে কোন রাজ্যের প্রিয় খাবার কী ?
দোলে কেবল পরস্পরকে রাঙিয়ে তোলাই যথেষ্ট নয়। মুখরোচক খাবারও এই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার মিষ্টি হোক না ঝাল, রঙের উৎসবের আনন্দের অনেকখানিই নিহিত থাকে তাতে।
এসে গিয়েছে রঙের উৎসব। দোকানের পর দোকান সেজে উঠেছে পিচকারি, আবির, মজাদার মুখোশে। দোলে কেবল পরস্পরকে রাঙিয়ে তোলাই যথেষ্ট নয়। মুখরোচক খাবারও এই উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কোন রাজ্যের রঙের উৎসবে কোন খাবার থাকে, জেনে নেওয়া যাক।
দিল্লি, উত্তরপ্রদেশের হোলি মানেই পাতে থাকবে গুজিয়া। বাংলার শুকনো মিষ্টি গুজিয়ার সঙ্গে নামের মিল থাকলেও, এক্ষেত্রে তা একেবারে ভিন্ন এক খাবার। দিল্লির গুজিয়া আদতে খোয়া ও বাদামের পুর-ভরা এক ভাজা পেস্ট্রি। ভাজার পর সোনালি রঙ ধরলে, পরিবেশনের আগে পর্যন্ত তা রসে ডোবানো থাকে।
ভারতের অনেক রাজ্যেই হোলিতে খাওয়া হয়ে থাকে দহি ভল্লা। এ আদতে বাংলার দই বড়ারই অন্য এক সংস্করণ। ডালের তৈরি বড়া দীর্ঘ সময় ধরে তরল টক দইয়ের গোলায় ডোবানো থাকে। পরিবেশনের সময়ে পুদিনার চাটনি, তেঁতুলের চাটনি, ঝুরিভাজা, ও চাট মশলা ছড়িয়ে দেওয়া হয় উপরে। টক-মিষ্টি এই খাবার মুখে দিলেই জল আসে জিভে!
গুজরাতে গুজিয়া ও দহি ভল্লার পাশাপাশি থাকে জিলিপি, মোহনথাল, সুরাতি ঘরি, শ্রীখণ্ড, মালপোয়া, কাজু কাটলি। প্রতিটি মুখরোচক মিষ্টিই তৈরি হয় ময়দা, দুধ, ঘি, বাদাম, মশলার ভিন্ন মিশ্রণে। রসে টইটুম্বুর মিষ্টির উপর ছড়ানো থাকে এলাচ ও জাফরান। গুজরাতের হোলি মানেই তাই রঙের পাশপাশি জম্পেশ পেটপুজো।
মহারাষ্ট্রের হোলি মেতে ওঠে পুরনপোলি, করাঞ্জি, বেসনের লাড্ডু, গুলাব জামুন, রভা লাড্ডু, নারকেল বরফি, শ্রীখন্ডের সুগন্ধে। ময়দা, দুধ, ঘি, বাদাম, গুড় ও মশলার পাশপাশি বেশিরভাগ মিষ্টি তৈরিতেই ব্যবহার হয় কুড়ানো নারকেল আর নানা ধরণের ড্রাই ফ্রুট। সারাদিনের রঙ খেলার উৎসব পরিণতি পায় শেষবেলার মিষ্টিমুখে।
ঠাণ্ডাই ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় হোলি। দুধের তৈরি এই পানীয়তে দেওয়া হয় প্রচুর পরিমাণে কাজু, আমন্ড, মৌরি, গোলাপের শুকনো পাপড়ি। অনেকেই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মজার ছলে দোল খেলার সময়ে ঠাণ্ডাইতে ভাঙের গুলি মিশিয়ে থাকেন। তবে ভাঙ ছাড়াও কোনও অংশে কম হয় না ঠান্ডাইয়ের স্বাদ। তুমুল দোল খেলার পর ঠান্ডাইয়ের এক চুমুকে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
পশ্চিমবঙ্গের দোলে আবার থাকবেই থাকবে মঠ ও ফুটকড়াই। রঙবেরঙের মঠে কামড় দিলে চিনির স্বাদই পাওয়া যায় কেবল। কিন্তু তার সঙ্গে এমন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ছেলেবেলার দোলের স্মৃতি, যে মঠ-ফুটকড়াই ছাড়া রঙের খেলায় মন ভরে না কিছুতেই। এছাড়াও দোলের মেলায় ঘুরতে গেলে সেঁকা পাঁপড়ের গন্ধে মন মেতে ওঠে। কোনও পেটভরানো খাবারও কখনও এই নস্ট্যালজিক স্বাদের জায়গা নিতে পারবে না বলেই বিশ্বাস বাঙালির।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ভারতের বহু জায়গায় হোলির উৎসব পালন হয় খাসির মাংস খেয়ে। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশে এইদিনেই খাওয়া হয় খাসির মাংস সহযোগে ভাত বা পুরি। হোলি মানেই আবশ্যক হয়ে ওঠে খাবারের পাতে চম্পারন মটন, আহুনা মটন অথবা সাওজি মটন কারি। খাবার মিষ্টি হোক না ঝাল, রঙের উৎসবের আনন্দের অনেকখানিই নিহিত থাকে তাতে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:56 PM Feb 28, 2026Updated: 08:56 PM Feb 28, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
