Advertisement
শ্রেয়স থেকে গিল, নাইটদের 'বাতিল' একাদশই জিততে পারে আইপিএল! দলে আর কারা?
কেকেআর ছেড়ে দিলেই সুপারহিট। এ যেন প্লেয়ারদের জন্য দেওয়াললিখন হয়ে গিয়েছে।
কেকেআর ছেড়ে দিলেই সুপারহিট। এ যেন প্লেয়ারদের জন্য দেওয়াললিখন হয়ে গিয়েছে। সঞ্জু স্যামসন, সূর্যকুমার যাদব থেকে হালের শ্রেয়স আইয়ার বা সাকিব হুসেন। নাইটদের জার্সি ছেড়ে ভাগ্য বদলেছে। তাঁদের পারফর্ম করতে দেখে ম্যানেজমেন্টের উপর ক্ষুব্ধ অনেক কেকেআর-ভক্ত। রইল নাইট 'বাতিল'দের একাদশ। যে দল অনায়াসে আইপিএল জিততে পারে।
ক্রিস গেল: ওপেনিংয়ে সবার আগে নাম আসবে ক্রিস্টোফার হেনরি গিলের। ২০০৯-১০ মরশুম, দু'বছর খেলেছেন। পারফর্ম করতে পারেননি। করেন মাত্র ১৭১ রান। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে সুযোগ পান। বাকিটা ইতিহাস। ২০১১ সালে ১২ ম্যাচে ৬০৮ রান করেন। সর্বোচ্চ ১৭৫ রান আজও আইপিএলে রেকর্ড।
ফিল সল্ট: সুনীল নারিনের সঙ্গে ইংরেজ ব্যাটার ফিল সল্ট। ২০২৪-এ নাইটদের ওপেনিং জুটি ছিল যে কোনও দলের কাছে আতঙ্কের। কেকেআরের সঙ্গে একেবারে একাত্ম হয়ে গেছিলেন সল্ট। উইকেটকিপার হিসেবেও একাধিক ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন। নাইট ম্যানেজমেন্ট তাঁকে ধরে রাখেনি। পরের বছরই আরসিবি'কে চ্যাম্পিয়ন করেন।
শুভমান গিল: ভারতীয় ক্রিকেটের 'প্রিন্স'। গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক। মাথায় উঠেছে কমলা টুপিও। এই সব হয়তো নাইট জার্সিতেও হতে পারত। কিন্তু ২০২২ সালে শুভমান গিলকে ছেড়ে দেয় কেকেআর। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের প্রতিভাকে চিনতে ভুল করেনি নাইট ম্যানেজমেন্ট। ২০১৮ সালে তাঁকে ১.৮ কোটি টাকায় কিনেছিল। ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে রাখার জন্যই 'ভবিষ্যতের অধিনায়ক'-কে ছাড়তে বাধ্য হয় কেকেআর।
সঞ্জু স্যামসন: ২০১২ সালে ১৭ বছর বয়সি উইকেটকিপার-ব্যাটারকে তুলেছিল কেকেআর। কিন্তু একটি ম্যাচও না খেলিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সঞ্জু স্যামসন আজ ভারতের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম মহাতারকা। বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার।
শ্রেয়স আইয়ার: সম্ভবত কেকেআরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় 'ভুল'। গৌতম গম্ভীরের মেন্টরশিপ ও শ্রেয়সের নেতৃত্ব- যুগলবন্দিতে ১০ বছর পর নাইটদের ঘরে ট্রফি আসে। কিন্তু তাঁকে আর রিটেন করা হয়নি। কারণ শ্রেয়স নাকি বাড়তি টাকা চেয়েছিলেন। শেষমেশ কী দাঁড়াল? নিলামে পাঞ্জাব কিংসের থেকে তিনি পেলেন ২৬.৭৫ কোটি টাকা। আর ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে নাইট রাইডার্স তুলল ২৩.৭৫ কোটি টাকায়। শ্রেয়সের অভাব কবে পূর্ণ হবে কেউ বলতে পারবে না।
সূর্যকুমার যাদব: ২০১৪ সালে উঠতি তারকা সূর্যকুমারকে কেনে কেকেআর। ক্রমে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে তাঁর কাঁধে সহ-অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কখনই দারুণ কিছু পারফর্ম করেননি। ৫৪ ম্যাচে রান ছিল ৬০৮। গড় মাত্র ২৩.৪৩। ২০১৭-র পর স্কাইকে আর রিটেন করেনি শাহরুখ খানের দল। এরপর মুম্বইয়ে গিয়ে আগুনে ফর্মে। ২০১৮ সালেই শুধু করেন ৫১২ রান। আর এখন তো তিনি ভারতের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
মিচেল স্টার্ক: ২০২৪ সালে কেকেআর'কে চ্যাম্পিয়ন করার অন্যতম কারিগর। ২৪.৭৫ কোটি টাকা দিয়ে কেনার পর শুরুতে ছন্দে ছিলেন না। কিন্তু পরের দিকে জাত চিনিয়েছেন। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচের সেরা হন। তারপরও তাঁকে ছেড়ে দেয় নাইট ম্যানেজমেন্ট। স্টার্ক আপাতত দিল্লির হয়ে ফুল ফোটাচ্ছেন।
কুলদীপ যাদব: ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কেকেআরের মূল ভারতীয় স্পিন অস্ত্র ছিলেন কুলদীপ যাদব। শেষের দিকে চোট-আঘাতে জেরবার হয়েছিলেন। ফর্মও খারাপ হয়। তারপরই তাঁকে ছেড়ে দেয় নাইটরা। ৫ মরশুমে ৫০টি উইকেট তোলার পরও আর জায়গা হয়নি। এখন তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসে খেলেন। তবে কুলদীপের শূন্যস্থান পূরণ করে দিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী।
ট্রেন্ট বোল্ট: ২০১৭ সালে কিউয়ি পেসারকে ৫ কোটি টাকায় কেনে কেকেআর। কিন্তু চোট-আঘাতের জেরে মরশুমটা ভালো যায়নি। তোলেন মাত্র ৫ উইকেট। পরের মরশুমে তাঁকে ছেড়ে দিলে দিল্লিতে যোগ দেন। ওই মরশুমে ১৪ ম্যাচে তোলেন ১৮ উইকেট। এরপর মুম্বই জার্সিতে ১৫ ম্যাচে ২৫ উইকেট পান। চ্যাম্পিয়নও হন। এখনও তিনি আম্বানিদের দলের মূল শক্তি।
Published By: Arpan DasPosted: 06:57 PM Apr 18, 2026Updated: 07:57 PM Apr 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
