Advertisement
ভুলেও এই ৫টি জিনিস কিনবেন না অন্তঃসত্ত্বারা, পরে হা-হুতাশ করতে হতে পারে!
জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তকে উপভোগ করুন। তবে ভুল করেও বিজ্ঞাপনী ফাঁদে পা দেবেন না।
মাতৃত্বর অনুভূতিই অন্যরকম। যেকোনও মহিলার জীবনে তা নিঃসন্দেহে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এই সময়ে শারীরিক নানা পরিবর্তন আসে। চেহারার মতো হরমোনজনিত পরিবর্তনও হয়। তার ফলে মানসিক পরিবর্তনও হয়। মুড সুইং যেন নিত্য়নৈমিত্তিক বিষয়। অকারণে কেউ কান্নাকাটি করেন, কেউবা রেগে যান।
পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মন ফুরফুরে রাখার জন্য কত কিছুই না করা হয়। এই সময়ে প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বাদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। যেন মাথায় তুলে রাখা হয় তাঁকে। আর সেই সুযোগে বহু অন্তঃসত্ত্বাই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দেন। কত কিছু অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে ফেলেন তাঁরা। পরে অবশ্য আফসোস করতে হয়। তখন মনে হয় অযথা টাকা খরচ হল। তাই এই সময় কেনাকাটির ক্ষেত্রে কিছুটা সাবধানী হোন।
স্ফীতোদরের ফলে নড়াচড়া করতেই যেন সমস্যা হয়। তার ফলে বেশিরভাগ অন্তঃসত্ত্বার ঘুমোতেও যেন সমস্যা হয়। রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এই সময় ভোগান্তি লাঘবে অনেকেই প্রেগন্যান্সি পিলো কেনেন। গোটা শরীর প্রায় জড়িয়ে ধরা ওই বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে নাকি আরাম পান অন্তঃসত্ত্বারা।
তবে এই ধরনের বালিশ আপনি সারাক্ষণ ব্যবহার করতে পারবেন না। ওই ৯ মাসই আপনার সঙ্গী হবে। তাই বেশি দাম দিয়ে কিনতে যাবেন না। পরিবর্তে সস্তার বালিশ কিনে ফেলুন। যাতে সন্তান জন্মের পর বালিশ ব্যবহার না হলে লোকসানের চিন্তায় মনখারাপ যেন না হয়।
এই সময় অনেকে স্ফীতোদরের সাপোর্ট সিস্টেম হিসাবে অ্যাবডমিনাল বেল্ট কেনেন। অনেকে বিশ্বাস করেন, এই ধরনের বেল্ট নাকি পেটের নরম চামড়াকে আবারও আগের চেহারায় ফেরাতে সাহায্য করে। তবে জানেন কি, অন্যের কথা শুনে অ্যাবডমিনাল বেল্ট ব্যবহারে রয়েছে হাজারও ঝুঁকি।
তাই চিকিৎসকের পরামর্শমতো ভুলেও অ্যাবডমিনাল বেল্ট ব্যবহার করবেন না। দীর্ঘ ব্যবহারে আপনার পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই চিকিৎসকের কথা শুনে বেল্ট কিনুন। নইলে টাকা জলে যেতে পারে।
অন্তঃসত্ত্বাদের সুষম আহার অবশ্য প্রয়োজনীয়। চিকিৎসকদের মতে, বাড়ির খাবারদাবার, ফলের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর কিছু হতে পারে না। তবে অনলাইন কিংবা অফলাইনে নানা 'সুপারফুড' বিক্রি হয়। ওই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, এই খাবারগুলি নাকি প্রোটিন সমৃদ্ধ। ভাত, রুটির মতোই পুষ্টিকর।
বিজ্ঞাপনী সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, এই খাবার খেলে যেমন অন্তঃসত্ত্বা সুস্থ থাকবেন। তেমনই আবার গর্ভস্থ সন্তানও পুষ্টি পাবে। আর এই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে বহু অন্তঃসত্ত্বাই 'সুপারফুড' কেনেন। যা অন্তঃসত্ত্বাকে আরও সুস্থ করে তোলার পরিবর্তে অসুস্থতার মুখেই নাকি ঠেলে দেয়।
অন্তঃসত্ত্বাদের প্রায় প্রতি মাসেই একবার করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। প্রতিবার চিকিৎসকের কাছে গেলে ফেটাল ডপলার দিয়ে হৃদস্পন্দন শোনান চিকিৎসক। তার অনুভূতিই অন্যরকম। এই সময়ে বহু মহিলাই গর্ভস্থ সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগে ভোগেন।
তাঁরা সন্তানের সুস্থতা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা করেন। কেউ কেউ বাড়িতে ফেটাল ডপলার কেনেন। খরচ হয় ভালোই। সন্তান জন্মের পর ফেটাল ডপলার আর কাজে লাগে না। তাই ভুলেও তা কিনবেন না।
অন্তঃসত্ত্বাদের স্ট্রেচ মার্ক নতুন কিছু নয়। তবে অনেকেই চান যেন পেটে সেই দাগ না থাকে। সে কারণে ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ ভাবেন, বাজারচলতি বিজ্ঞাপনী চমকে ভরা উপকরণ দিয়ে স্ট্রেচ মার্কের সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন। ভুলেও সে কাজ করবেন না। কোনও ক্রিমই একশো শতাংশ স্ট্রেচ মার্ক তুলতে সক্ষম নয়। সাবধান হোন। বিজ্ঞাপনী ফাঁদে পা দেবেন না।
Published By: Sayani SenPosted: 05:13 PM Apr 17, 2026Updated: 05:13 PM Apr 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
