Advertisement
বাস্তবের ধুরন্ধর! দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা সত্যি গুপ্তচরদের চেনেন?
বাস্তব রক্তমাংসের পৃথিবীতে আমরা পেয়েছি এমন সব ভারতীয় স্পাই তথা গুপ্তচরদের, যাঁদের জীবনকাহিনি হার মানাবে সেলুলয়েডকেও।
বক্স অফিসে তিরের বেগে ছুটছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। ‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পেয়েছিল ডিসেম্বরে। এবার মুক্তি পেয়েছে ছবির দ্বিতীয় পর্ব। প্রথমটির মতো ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে এটিও। ভারতের গুপ্তচর সংস্থা 'র' পাকিস্তানে যে গোপন মিশন চালিয়েছিল তারই ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ছবিটি। অবশ্যই সত্যির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে বিনোদন। এহেন ছবিটির সাফল্যই প্রমাণ করে দেয় গুপ্তচরের রোমাঞ্চ মানুষ কতটা ভালোবাসে।
হামজা আলি মাজারি ওরফে জাসকিরাত সিং রঙ্গির ভূমিকায় রণবীর সিংকে নিয়ে চর্চা সর্বত্র। শোনা যাচ্ছে, এই চরিত্র তৈরি হয়েছে বাস্তব চরিত্রের ছায়াতেই। তবে শেষপর্যন্ত হামজা রুপোলি পর্দার একজন চরিত্রই। কিন্তু বাস্তব রক্তমাংসের পৃথিবীতে আমরা পেয়েছি এমন সব ভারতীয় স্পাই তথা গুপ্তচরদের, যাঁদের জীবনকাহিনি হার মানাবে সেলুলয়েডকেও।
ব্রিটিশ ভারত হোক কিংবা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় বহু ভারতীয়ই নিজের জীবন বিপন্ন করেছেন দেশের জন্য। 'সিংহের গুহায় ঢোকা'র মতো বিপজ্জনক পেশা বেছে নেওয়ার নেপথ্যে ছিল দুরন্ত দেশপ্রেম! এই সব গুপ্তচরদের কথা ভাবতে বসলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। জেনে নেওয়া যাক তেমনই কয়েকজনের কথা।
এই তালিকায় প্রথমেই আসবে যাঁর নাম তিনি অজিত ডোভাল। ‘একবিংশ শতাব্দীর চাণক্য’ পাকিস্তানে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন ছদ্মবেশে। ধর্মপ্রাণ মুসলমান সেজে বসে থেকেছেন ধর্মস্থানে। কখনও ভিখারি সেজে পথের ধারে ভিক্ষা করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। আর এসব করতে গিয়ে ধরাও পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব বিপদকে তিনি তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি দিয়েই উড়িয়ে দিয়েছেন ডোভাল।
পাকিস্তানে ডোভালের সবচেয়ে বড় সাফল্য কী? এপ্রসঙ্গে বলতে হয় ‘খান রিসার্চ সেন্টারে’র কথা। সেখানে চলছিল গোপন পরমাণু গবেষণা। ভিখারি সেজে সেন্টারের কাছে বসেই নজরদারি চালান ডোভাল। পরে পাক বিজ্ঞানীরা যে সেলুনে চুল-দাড়ি কাটতেন সেগুলি সংগ্রহ করে ভারতে পাঠান। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, সত্যিই চুলগুলি পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তার চিহ্ন বহন করছে। ব্যাস! মিলে গেল প্রমাণ।
এবার 'ব্ল্যাক টাইগার'-এর কথা। ভালো নাম রবীন্দ্র কৌশিক। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে ছিলেন ছদ্মবেশে। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি ধরা পড়ে যান। ২ বছর দিল্লিতে থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ২৩ বছর বয়সে প্রবেশ করেন পাকিস্তানে। চাকরি করেন পাক সেনার কেরানি হিসেবে। ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে 'ব্ল্যাক টাইগার' আখ্যায় ভূষিত করেন। জীবনের শেষ ১৮ বছর পাক জেলেই কেটেছিল রবীন্দ্রর।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম বীরাঙ্গনা নীরা আর্য। কিন্তু জনমানসে সেভাবে আলোচিতই হন না তিনি। অথচ তাঁর দেশপ্রেমের কাহিনি হার মানাবে কল্পনাকেও। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ‘ঝাঁসির রানি’ রেজিমেন্টের সদস্য নীরা গুপ্তচরবৃত্তি করতেন আইএনএ-র হয়ে। কখনও কোনও তথ্য ফাঁস করেননি। এমনকী, নিজের স্বামী শ্রীকান্তর কাছেও নয়। এদিকে শ্রীকান্ত নেতাজিকে হত্যার ছক কষলে স্বামীকে হত্যা করতেও পিছপা হননি নীরা।
সরস্বতী রাজামণি। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আজাদ হিন্দ ফৌজে প্রবেশ করেন তিনি। গুপ্তচর হিসেবে ছেলের ছদ্মবেশে ঢুকে পড়েন ব্রিটিশ সেনা শিবিরে। সেখানে অফিসারদের বাড়িতে ফাইফরমাশ খাটতেন! বোঝাই সম্ভব ছিল না এই মণি নামের 'ছেলে'টি আসলে মহিলা! এবং গোপন তথ্য কীভাবে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। সাহেবদের হাতে ধরা পড়ে যান তাঁর এক বান্ধবী। বানজারা সেজে নাচ দেখানোর ফাঁকে তিনি উদ্ধার করেন তাঁকে। যদিও সেই সময় গুলি লেগে পায়ে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়।
গত শতকের ছয়ের দশকে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন র এজেন্ট মোহনলাল ভাস্কর। পরবর্তী ১৫ মাস লাগাতার সেদেশে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। বুঝতেও পারেননি এক 'ডবল এজেন্ট' (ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের হয়েই যিনি কাজ করতেন) জেনে গিয়েছেন তাঁর আসল পরিচয়। তাঁরই চক্রান্তে ধরা পড়ে যায় মোহন। এরপর পাক জেলে প্রবল অত্যাচারের সম্মুখীন হন। ১৪ বছর কাটে সেখানকার জেলে।
এই সব গুপ্তচরদের কাহিনি সত্যিই হার মানায় কল্পনাকে। ছবিতে যেমন দৃশ্য দেখে আমরা শিউরে উঠি, তা বাস্তবে এই মানুষগুলি নিজেদের জীবনে প্রত্যক্ষ করেছেন। হেঁটে গিয়েছেন অসম্ভব যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে। রুপোলি পর্দার নায়কদের সঙ্গে তাঁদের তুলনা হয় না তাই। তাঁরা সত্যিকারের 'হিরো'! সেই কারণেই অজিত ডোভাল, রাজামণিদের সাহসিকতার কাহিনি মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
Published By: Biswadip DeyPosted: 03:49 PM Mar 21, 2026Updated: 03:49 PM Mar 21, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
