Advertisement
১০ হাজার শিশু পাচারের পর্দা ফাঁস বঙ্গকন্যার! থ্রিলার ছবিকেও হার মানায় বাস্তবের 'মর্দানি'র অপারেশন
ছদ্মবেশের আড়ালে কীভাবে বহু পাচারচক্রের পর্দা ফাঁস করেন এই বঙ্গকন্যা? জেনে নিন সেই কাহিনি।
গত একসপ্তাহ ধরে পর্দায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত 'মর্দানি ৩'। এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ মহিলা পুলিশ অফিসার কীভাবে শিশু পাচারচক্রের মাস্টারমাইন্ড 'আম্মা'র পর্দা ফাঁস করেন? সিনেমার পর্দায় সেই কাহিনি যখন হাততালি কুড়োচ্ছে, তখন বাস্তবের 'মর্দানি'ও প্রচারের আলোয়। অদম্য সাহসের জোরে এক বঙ্গকন্যা কীভাবে ১০ হাজারেরও বেশি শিশুপাচারকারী চক্রের পর্দা ফাঁস করেছিলেন? আজ সেই সত্যি ঘটনাবলীই তুলে ধরা হল।
২০১৬ সাল। একের পর এক শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। থানায় এফআইআর দায়ের হচ্ছে। শত শত অভিযোগপত্র জমা পড়ছে। নিত্যদিন সন্তান হারানো মা-বাবারা বুকে যন্ত্রণা নিয়ে ফ্যাকাসে মুখে থানায় হাজির হচ্ছেন। কেসের সমাধান হওয়ার আগেই ফাইল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে...।
কিন্তু কোনওভাবেই উধাও রহস্যের হিল্লে হচ্ছে না! একঝাঁক শিশুর আচমকা এহেন কর্পূরের মতো উবে যাওয়ার ঘটনা আইপিএস অফিসার মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নারীমনকে নাড়া দিল। মল্লিকা ক্রমেই বুঝতে পারলেন, নিখোঁজ হওয়া ওই বাচ্চাগুলিকে খুব সহজেই ভুলে যাচ্ছে মানুষ। আর পুরো ঘটনায় সেই বিষয়টাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিল।
এরপরই অ্যাকশন শুরু! উল্লেখ্য, তার ঠিক কিছু আগেই চাকরিসূত্রে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছত্তিশগড়ে বদলি হন মল্লিকা। শিশু পাচারকারী চক্রের পর্দা ফাঁস করতে কীভাবে চিত্রনাট্য সাজান আইপিএস অফিসার মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়?
সেই গল্প রোমহর্ষক কোনও থ্রিলার সিনেমার থেকে কম নয়! মল্লিকা ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন যে, এই শিশুরা আসলে নিখোঁজ হয়নি। কোনও এক পাচারচক্রের খপ্পড়ে পড়েছে। যারা দিল্লির মতো বড় শহরে 'প্লেসমেন্ট এজেন্সি' হিসেবে লোভনীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বাচ্চাগুলিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছে।
ওই অসহায় মেয়েগুলিকে বাঁচাতে মল্লিকা এমন এক পথ বেছে নিলেন, যা বুকের পাটা না থাকলে সম্ভব নয়! ওইবছরই গোপনে সেলসওম্যান হিসেবে কাজ শুরু করলেন মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুরু হল গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছদ্মবেশে ঢুঁ মারা। কখনও প্রসাধনী দ্রব্য বিক্রি করলেন দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে। আবার কখনও বা গ্রামের মহিলাদের মাথায় তেল মালিশ করার কাজ নিলেন। এবং ঠিক এখানেই মল্লিকার স্ট্র্যাটেজি কাজ করল।
আঞ্চলিক ভাষা শিখে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলেন সহজে। তবে বলার চেয়ে বেশি অন্যদের কথা শুনতেন। বাড়ির উঠোনে বসে তেল মালিশ করতে করতে বা বাজারে মহিলাদের ভিড়ে মিশে গিয়ে লোকেদের এমন কিছু সন্দেহজনক কথার সুতোয় ধরে টান দিলেন যে, মল্লিকা বুঝতে পারলেন তিনি ঠিক পথেই এগোচ্ছেন। কীভাবে?
কারণ ওই লোকগুলি যে ভাষায় বা যেধরণের কথা বলত, সেটা একজন পুলিশ অফিসারের সামনে তারা কখনোই করবে না। এবং এইভাবেই এক এক করে নামগুলো 'পাজল'-এর মতো সামনে আসতে শুরু করল। এরপর?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 08:21 PM Feb 06, 2026Updated: 08:21 PM Feb 06, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
