Advertisement
স্কুল ও খেলার সাঁড়াশি চাপে ঘর ছাড়েন শুটার দময়ন্তী! অ্যাথলিট সন্তানকে সামলাবেন কীভাবে?
সমীক্ষা বলছে, অ্যাথলিট পড়ুয়াদের নাকি মানসিক চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি।
বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে আচমকা গায়েব। মাঝে কখনও শ্রীরামপুর, কখনও মাহেশে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ান জাতীয় স্তরের শুটার হাওড়ার দময়ন্তী সেন। শনিবার ভোরে রামকৃষ্ণপুর ঘাটেই পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পড়াশোনা ও খেলার জোড়া দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে গিয়েছিলেন। তাই মানসিক উদ্বেগ সব দায়িত্বের জোয়াল কাঁধ থেকে নামিয়ে ঘরছাড়া হয়ে যান দময়ন্তী।
শুধু দময়ন্তী নন। সমীক্ষা বলছে, অ্যাথলিট পড়ুয়াদের নাকি মানসিক চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই তাঁদের অবসাদের কালো ছায়া গ্রাস করে সহজেই। সাবধান না হলে যেকোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে অঘটন। আপনার সন্তানও যদি অ্য়াথলিট হয়, তার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। নইলে দময়ন্তীর মতো সে অবসাদে ভুগতে পারে। বড়সড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো ভুলও করে ফেলতে পারে।
অ্যাথলিট পড়ুয়াদের সকালে, বিকালে খেলার মাঠে অনুশীলনে যোগ দিতে হয়। আবার মাঝে আছে স্কুল। সন্ধ্যার পর লেখাপড়া। একের পর এক নানা চাপ সামলাতে সামলাতে শারীরিক দুর্বলতা তৈরি হয়। যার ফলে মনোনিবেশে সমস্যা দেখা দেয়। তার ফলে মূলত অবসাদের জন্ম। কমপক্ষে ৫৮ শতাংশ অ্যাথলিট পড়ুয়া এভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
একজন পড়ুয়াকে শুধু পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভালো নম্বর পাওয়ার চাপ সহ্য করতে হয়। তবে অ্যাথলিট পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে সেই চাপ দ্বিগুণ। কারণ, খেলার মাঠ এবং স্কুল দু'ক্ষেত্রেই সাফল্য পাবেন কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ সবসময় তাঁর মধ্যে কাজ করে থাকে।
অনেক সময় স্কুলপড়ুয়া অ্যাথলিট আশপাশের লোকজনের কথা শুনে নিজের প্রতি প্রত্যাশা বাড়িয়ে ফেলে। তাই সে ভাবে সব কিছুতেই প্রথম হবে। তা পড়াশোনা হোক কিংবা খেলাধুলো। কিন্তু খেলায় যে সাফল্য, ব্যর্থতা সবই আছে। সবসময় আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলবে না জীবন। তাই প্রত্যাশাপূরণ না হলে হতাশ হয়ে যায় অনেকেই।
এবার জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন উপসর্গ দেখে বুঝবেন আপনার অ্যাথলিট সন্তান মানসিক অবসাদে ভুগছে। যদি দেখলে খেলা এবং পড়া - দু'ক্ষেত্রেই আপনার সন্তানের পারফর্ম্যান্সের অবনতি ঘটছে তাহলে সতর্ক হোন। এছাড়া সন্তানের শারীরিক নানা সমস্যাও দেখা যেতে পারে। ঘুমের ব্যাঘাত, রক্তচাপ বৃদ্ধি ও মুড সুইংয়ের সমস্যা হতে পারে। সন্তান হঠাৎ রেগে যায় কিংবা অল্পেই বিরক্ত হয়ে যায় বুঝতে হবে সমস্যা হচ্ছে।
উপসর্গগুলি দেখলেই সাবধান হোন। সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। তাকে বলুন, সাপ্তাহিক রুটিন তৈরি করতে। সেই মতো পড়াশোনা এবং খেলাধূলা সামাল দেওয়ার পরামর্শ দিন। সময়ানুবর্তিতাই চাপমুক্ত হতে সাহায্য করবে আপনার সন্তানকে। তাকে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করতে বলুন। পর্যাপ্ত ঘুমও প্রয়োজন। তাতেই শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।
Published By: Sayani SenPosted: 05:30 PM Jul 18, 2026Updated: 05:30 PM Jul 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
