Advertisement
কেন হুটহাট বদলে যাচ্ছে কাছের মানুষের আচরণ? আপনি ‘আইসিং’-এর শিকার নন তো!
সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যাচ্ছে দ্রুত। আধুনিক ডেটিং দুনিয়ায় এখন নিত্যনতুন শব্দের আনাগোনা। কখনও ‘ঘোস্টিং’, কখনও বা ‘বেঞ্চিং’। তবে ইদানীং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন আতঙ্কের নাম ‘আইসিং’। আপাতদৃষ্টিতে মিষ্টি শোনালেও, এই প্রবণতা যেকোনও সুস্থ সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কীভাবে এই আইসিং বিষিয়ে দিচ্ছে মনের আরাম? জানেন কি?
সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যাচ্ছে দ্রুত। আধুনিক ডেটিং দুনিয়ায় এখন নিত্যনতুন শব্দের আনাগোনা। কখনও ‘ঘোস্টিং’, কখনও বা ‘বেঞ্চিং’। তবে ইদানীং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন আতঙ্কের নাম ‘আইসিং’। আপাতদৃষ্টিতে মিষ্টি শোনালেও, এই প্রবণতা যেকোনও সুস্থ সম্পর্কের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কীভাবে এই আইসিং বিষিয়ে দিচ্ছে মনের আরাম? জানেন কি?
আইসিং আদতে সম্পর্কের সেই পর্যায়, যেখানে সঙ্গী আচমকা আপনার প্রতি উদাসীন হয়ে ওঠেন। অবাক করা ব্যবহার শুরু করেন। প্রেমের শুরুতে সব ঠিক থাকলেও, হঠাৎই যেন এক অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়। সঙ্গী পুরোপুরি হারিয়ে যান না ঠিকই, কিন্তু তাঁর ব্যবহারে আগের সেই উষ্ণতা খুঁজে পাওয়া যায় না। ঠিক যেন সচল এক সম্পর্কের ওপর বরফের আস্তরণ জমা হয়।
নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর আসল চরিত্র। আইসিং মানেই হল শীতলতা। যখন আপনার খুব কাছের মানুষটি মানসিকভাবে দূরে সরে যান এবং আপনার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন, তখনই একে ‘আইসিং’ বলা হয়। এটি অনেকটা বরফের মতো শীতল, নিথর ও আবেগহীন। এই আচরণ সঙ্গীর মনের ওপর গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অনেকে ঘোস্টিং এবং আইসিংকে গুলিয়ে ফেলেন। ঘোস্টিংয়ে সঙ্গী হঠাৎ উধাও হয়ে যান, সব যোগাযোগ ছিন্ন করেন। কিন্তু আইসিং আরও জটিল। এখানে সঙ্গী পুরোপুরি ছেড়ে যান না, আবার কাছেও থাকেন না। মাঝেমাঝে দায়সারা উত্তর দিয়ে যোগাযোগ টিকিয়ে রাখেন। এর ফলে উলটো দিকের মানুষটির মনে চরম বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
কেন মানুষ এমনটা করেন? মনোবিদদের মতে, অনেকেই সম্পর্কের দায়বদ্ধতায় জড়াতে ভয় পান। সরাসরি বিচ্ছেদের কথা বলার সাহস না থাকায় তারা এই পথ বেছে নেন। ঝগড়া বা অশান্তি এড়িয়ে সুকৌশলে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। দায়িত্বজ্ঞানহীনতা থেকেই মূলত এই ধরনের মানসিকতার জন্ম হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
অনেক সময় দেখা যায়, সম্পর্কে থাকাকালীন সঙ্গী অন্য কারও প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন। সরাসরি সে কথা স্বীকার না করে তারা বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে থাকেন। পুরনো সম্পর্ক থেকে ধাপে ধাপে বেরোনোর জন্য তারা আইসিং-এর সাহায্য নেন। এতে একদিকে নিজের দোষ ঢাকা পড়ার একটা সুযোগ থাকে। তেমনই সঙ্গীর সঙ্গে মানসিক সংযোগ ছিন্ন করাও সহজ হয়।
যিনি আইসিং-এর শিকার হন, তাঁর মানসিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। তিনি বুঝতে পারেন না ঠিক কী অপরাধ করেছেন। সারাক্ষণ এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে থাকতে হয় বলে আত্মবিশ্বাস কমতে শুরু করে। ক্রমাগত উপেক্ষা সহ্য করতে করতে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দানা বাঁধে, যা দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতার কারণ হতে পারে।
আইসিং-এর সবচেয়ে খারাপ দিক হল এর অনিশ্চয়তা। সঙ্গী যেহেতু মাঝেমধ্যে উত্তর দেন, তাই মনের কোণে আশা জেগে থাকে যে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। এই দোলাচল একজন মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। পরিষ্কার কোনও উত্তর না পাওয়ায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি সম্পর্ক শেষও করতে পারেন না, আবার শান্তিতে থাকতেও পারেন না।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:32 PM Mar 21, 2026Updated: 08:32 PM Mar 21, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
