Advertisement
দাম্পত্যের ৬টি পর্যায়, তৃতীয়তেই পিঠটান দেন অনেকে! আপনি কোন ধাপে দাঁড়িয়ে?
তরুণ-তরুণীরা বর্তমানে সংসার পাততে ভয় পান। তাঁরা ভাবেন, দাম্পত্য মানেই দায়দায়িত্বের বোঝা। তাই তাঁরা চান প্রেমের সম্পর্ক থাক। সঙ্গিনী থাক। প্রয়োজনে লিভ-ইন সম্পর্ক থাক। তবে তা ছাঁদনাতলা পর্যন্ত গড়াক, চান না তাঁরা।
বিয়ে মানে শুধু দু'টি মন নয় পরিবারের বন্ধন। তাই তা নিয়ে কত ভাবনাচিন্তা। কীভাবে সাজবেন, কী পরবেন, আবার বিয়ের পর কেমন থাকবেন দু'টি মানুষ। তা নিয়েও হাজার কাটাছেঁড়া। কারও কারও বিবাহিত জীবন অত্যন্ত সুখের। কারও কাছে বিয়ে বোঝার মতো। কথায় বলে, ভাগ্যদেবতা যা স্থির করে রেখেছেন, তা-ই হবে। সামান্য এদিক সেদিক হলেই সর্বনাশ। দু'জনের হাতে হাত ধরে জীবন কাটানোই মুশকিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা বহু দম্পতিকে নিয়ে সমীক্ষা করে অবাক করা তথ্য পান। তাঁদের মতে, সুখী হোক কিংবা অসুখী - যেকোনও দাম্পত্য জীবনের রয়েছে ৬টি পর্যায়। প্রত্যেক বিবাহিত যুগলকে নাকি সেই পর্যায়ের মধ্যে দিয়েই যেতে হয়। যেকোনও অনলাইন গেমের মতো কেউ কেউ প্রতিটি পর্যায় অতিক্রম করেন। তাতে সফলও হোন। আবার কেউ কেউ পারেন না। প্রথম তিনটি পর্যায়ের পরই পিঠটান দেন।
প্রথমেই আসে 'ড্রিম ফেস'। নামেই স্পষ্ট এই পর্যায় ঠিক কীরকম। প্রকৃতপক্ষে স্বপ্নের মতো এই পর্যায়। ঠিক নতুন নতুন বিয়ের পর মানুষ এই পর্যায় দিয়ে যান। সেই সময় দম্পতির কাছে সম্পর্ক ঠিক যেন রূপকথার মতো। কেউ কারও দোষ ত্রুটি দেখতে পান না।
এই পর্যায়ে একে অপরকে ছাড়া এক মুহূর্ত কাটাতে পারবেন না বলেই মনে করেন তখন। কারণ, সেই সময় কঠিন বাস্তবের মাটিতে পা রাখেননি দু'জনের কেউই। কেউ কেউ রসিকতার সুরে বলেন, বিয়ের বছর দুয়েকের মধ্যে কেটে যায় এই পর্যায়।
এরপরই দাম্পত্যে আসে 'ডিসকভারি ফেস'। যেন কেটে যায় মোহপর্ব। এই সময় একে অপরকে আবিষ্কার করেন। বিবাহিত জীবনের এই পর্যায়ে দু'জনে দু'জনের দোষ-গুণ বিচার করেন। সেই সময় থেকে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। মনোমালিন্য। অভিমানের পালা। কেউ কেউ বলেন, দাম্পত্যে ঝগড়াঝাটির ফলেই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। আবার কারও কারও এভাবে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়তে থাকে। তিক্ততার ফলে সম্পর্ক বিচ্ছেদের কিনারায় এসে পৌঁছয়।
দফায় দফায় ঝগড়া হচ্ছে। আপনি বলছেন উত্তরে যাবেন। তো অপর প্রান্তের মানুষ বলছেন দক্ষিণেই যাবেন তিনি। কিংবা ধরুন বিয়ের কিংবা জন্মদিন ভুলে যাচ্ছেন। কেনাকাটি করার ক্ষেত্রেও হয়তো আপনার সঙ্গী হতে পারছেন না স্বামী। তা নিয়ে নিত্যদিনের মনোমালিন্য। বিবাহিত জীবনের এই পর্যায়ই হল 'ডিসঅ্যাপয়েন্টমেন্ট ফেস'।
এই পর্যায়ে বিছানা আলাদা হলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই। তার ফলে অভিমান ক্রমশ স্তূপ হতে থাকে। বিয়ে করার সিদ্ধান্ত আদৌ সঠিক হল কিনা - অনেক সময় ঝগড়াঝাটি হলে সে প্রশ্নও করেন বহু দম্পতি।
ঝগড়াঝাঁটি, রাগ, অভিমান ভুলে এবার 'রিবিল্ডিং ফেসে' আসা যাক। দীর্ঘ ঝগড়াঝাটি হতে হতে ক্লান্ত দম্পতি এই পর্যায় দিয়ে যান। তাঁরা ভাবেন, আর ঝগড়া করবেন না। একে অপরের আর দোষ ধরবেন না। কাউকে আর বদলাতে যাবেন না।
পরিবর্তে দু'জনে দু'জনের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করবেন। আপনি কী করছেন, তা নিয়ে আর অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেবেন না আপনার স্বামী। তেমনই আবার আপনিও বেশ নিষ্ক্রিয়। বরং একই বাড়িতে থেকে একে অপরকে কিছুটা স্পেস দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
এতদিনে জীবনের বেশ অনেকগুলো বসন্ত একসঙ্গে কাটিয়ে ফেলেছেন। আপনারা একে অপরের ভালো এবং মন্দ দুইই দেখেছেন। জীবনের উত্থান পতনের সঙ্গী আপনারা। এখন আর শারীরিক সম্পর্কের মোহ আপনাদের আলাদা করে কোনও উদ্দীপনার উদ্রেক তৈরি করে না। তবে মানসিকভাবে আপনারা একে অপরের খুব কাছের। কোনওভাবে কেউ কাউকে হারাতে পারবেন না। শুধু পাশাপাশি হাত ধরে কাটিয়ে দিতে চান বাকি জীবনটা।
একেবারে দাম্পত্য জীবনের শেষদিকে আসে 'লিগ্যাসি ফেস'। এখন আপনাদের সংসার বেশ সমৃদ্ধ। আপনি কারও বাবা, কারও মা আর শুধু নন। সম্পর্কের ডালপালা নাতি, নাতনির স্তরেও পৌঁছে গিয়েছে। এই সময় আপনারাই অন্যের 'রোল মডেল'। জীবন সায়াহ্নে আপনাদের একে অপরের পাশে থাকাই অন্য়দের চলার অনুপ্রেরণা। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সম্পর্ককে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা।
Published By: Sayani SenPosted: 06:35 PM May 05, 2026Updated: 06:38 PM May 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
