ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে। দলে ভাঙনের মাঝে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। এই নিয়ে জল্পনার মাঝে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে দলীয় পদ থেকে সরাল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁকে সোশাল মিডিয়া সেলের চেয়ারপারসন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেবাংশুর জায়গায় আনা হয়েছে উপাসনা চৌধুরীকে।
বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া বিধানসভা আসনে তৎকালীন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে টিকিট না দিয়ে দেবাংশুকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনে দলেরও ভরাডুবি হয়। কিন্তু দলের এই দুর্দিনে প্রকাশ্যে এসে তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি দেবাংশুকে। এই আবহে দলের বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন দেবাংশু।
রাজ্যে পালাবদলের পর দুর্নীতি, তোলাবাজি, মারধরের অভিযোগে তৃণমূলের বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দিকে দিকে চলছে ধরপাকড়। এই আবহে সোশাল মিডিয়ায় দেবাংশু পোস্ট করেন, ‘কিছু চোর ডাকাত তোলাবাজদের গ্রেপ্তার দেখে যে কী আনন্দ পাচ্ছি, বলে বোঝানোর নয়।’ গতকাল তৃণমূলে সংসদীয় দলে ভাঙন আরও চওড়া হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়েও মুখ খুলেছেন দেবাংশু। তিনি জানান, এই দিনটার জন্য দল দায়ী। দল সঠিক সময়ে শক্ত হাতে সামলাতে পারেনি। বিজেপি বিধায়ক তথা শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। মনে করা হচ্ছে এই সব বিতর্কিত মন্তব্যের জেরেই তাঁকে দলীয় পদ খোয়াতে হয়েছে।
তৃণমূলের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে ভাঙনের মাঝেই দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু দেখা যায় নতুন কমিটির পদাধিকারীদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন মালা রায়, সায়নী ঘোষ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। যুব তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব থেকে সায়নী ঘোষকে সরিয়ে সেই দায়িত্বে আনা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মালা রায়কে সরিয়ে মহিলা তৃণমূলের দায়িত্ব পেয়েছেন আলিফা আহমেদ। অন্যদিকে সুদীপের জায়গায় কুণাল ঘোষকে উত্তর কলকাতার তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দলের সোশাল মিডিয়া সেলের দায়িত্ব থেকে দেবাংশুকে সরিয়ে উপাসনা চৌধুরীকে আনা হয়েছে।
