Advertisement
'মনে হত বাবা-মা'র সম্মান ডোবালাম', দেড়মাস ঘরবন্দি ছিলেন সানিয়া, নেপথ্যে শোয়েবের সঙ্গে বিচ্ছেদ?
২০২৪ সালে শোয়েব-সানিয়ার বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
তিনি ভারতীয় টেনিসের রানি। একমাত্র মহিলা হিসাবে টেনিস জগতে ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন। কেবল কোর্টে নয়, অনুরাগীদে মনেও রীতিমতো রাজত্ব করেছেন। সেই 'গ্ল্যামার গার্ল' সানিয়া মির্জা এবার মুখ খুললেন, কীভাবে একটা সময় প্রবল অবসাদে ভুগেছিলেন তিনি।
ভারতীয় ক্রীড়াদুনিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেও, সানিয়ার জীবনে চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। কখনও বিতর্ক, কখনও মৌলবাদী ফতোয়া, আবার কখনও বা বিবাহবিচ্ছেদ-খেলার বাইরে বারবার নানা ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন সানিয়া। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
খেলার মাঠেও চোট আঘাতের সমস্যায় জর্জরিত হয়েছেন সানিয়া। কেরিয়ারের শুরুতে সেরকমই এক চোটের পর মারাত্মক অবসাদে ভুগতে শুরু করেছিলেন তিনি। প্রায় ১৮ বছর পর সেই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি মুখ খুলেছেন একটি পডকাস্টে।
সানিয়া বলেন, "২০০৮ সালে আমার কবজিতে বড়সড় চোট লাগে। অলিম্পিক থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। তখন তো জানতাম না যে পরবর্তীকালে আমি আরও তিনটে অলিম্পিকে খেলতে পারব। ওই সময় মনে হত, আমার জীবন শেষ। নিজের চুলটা পর্যন্ত আঁচড়াতে পারতাম না।"
ওই সময়ে প্রায় দেড় মাস নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছিলেন সানিয়া। বলছেন, "তখন বুঝতে পারিনি যে এটা ডিপ্রেশন। মনে হচ্ছিল, বাবা-মায়ের সম্মান ডুবিয়ে দিয়েছি। প্রায় দেড় মাস আমি ঘরের মধ্যেই বসে থাকতাম। কারোর সঙ্গে দেখা করতাম না। বাবা-মার সঙ্গেও খুব কম কথা বলতাম।"
শেষ পর্যন্ত অবসাদের ওষুধ নিজেই খুঁজে বের করেছিলেন সানিয়া। ওই পডকাস্টেই তিনি বলেন, বুঝেছিলাম যে এই মনখারাপ থেকে বেরতে হলে আমাকে টেনিস কোর্টে ফিরতে হবে। ধীরে ধীরে টেনিস খেলতে শুরু করলাম আবার, তখন অনেকটাই ভালো লাগত।"
কেরিয়ারের শুরুতে এমন মানসিক যন্ত্রণার শিকার হলেও পরে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন সানিয়া। ৬টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন, বিশ্বর্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন থাবা বসিয়েছে সানিয়ার মানসিক স্বাস্থ্যে।
২০১০ সালে পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ে হয় সানিয়ার। বিয়ের ৮ বছর পর তাঁদের পুত্রসন্তান ইজহানের জন্ম হয়। কিন্তু সুখের সংসারে আচমকাই ভাঙন ধরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভেঙে যায় শোয়েব-সানিয়ার বিয়ে।
সেই সময়েও মানসিকভাবে বিরাট ধাক্কা খেয়েছিলেন সানিয়া। একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটা জীবনের সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তগুলোর মধ্যে একটা। একটা শোয়ে আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি স্টুডিওয় পৌঁছনোর মতো অবস্থাতেই ছিলাম না। থরথর করে কাঁপছিলাম।"
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 04:32 PM Jan 20, 2026Updated: 04:32 PM Jan 20, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
