Advertisement
বাবা সুপারস্টার, তারপরও বিনোদুনিয়ায় পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেননি এই স্টার কিডরা
এই স্টারডমের আশপাশ দিয়ে যাননি তাঁদের তারকা সন্তানরা। কয়েকটি ছবি করার পর সাফল্যের মুখ না দেখে বিনোদুনিয়া থেকে পাকাপাকিভাবে সরেও গিয়েছেন অনেকে।
বিনোদুনিয়ায় এই মহারথীদের অবদান সম্পর্কে আলাদ করে বলার কিছু নেই। তাঁদের হাত ধরেই উর্বর হয়েছে বলিউড সাম্রাজ্য। নায়ক হিসেবে তো বটেই পরবর্তীতে প্রবীণ অভিনেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেও দর্শকের মন জিতে নিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের এই সাফল্য কিংবা স্টারডমের আশপাশ দিয়ে যাননি তাঁদের তারকা সন্তানরা। কয়েকটি ছবি করার পর সাফল্যের মুখ না দেখে বিনোদুনিয়া থেকে পাকাপাকিভাবে সরেও গিয়েছেন। কারা রয়েছেন এই তালিকায়? দেখে নিন।
অমিতাভ বচ্চন, বলিউডের শাহেনশা'র অবদান আলাদা করে বলার কিছু নেই। পরবর্তীকালে অমিতাভপুত্র অভিষেক বলিউডে পা রাখার পর সিনেপ্রেমীরা তাঁকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু দর্শকের মনে সেভাবে জায়গা করে নিতে পারেননি অভিষেক। ২০০৪ সালে 'ধুম' ছবির হাত ধরে বলিউডে ডেবিউ ঘটে অভিষেকের। তবে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি। বাবার 'স্টারডম' কখনও ছুঁতে পারেননি অভিষেক।
বলিউডের সাতের দশকের আরও এক সুপারস্টার রাজেশ খান্না। চেতন আনন্দের 'আখরি খত' ছবির হাত ধরে বলিউডে অভিষেক ঘটে তাঁর। পরবর্তীকয়ালে শক্তি সামন্তের 'আরাধনা' ছবিতে সকলের মন জয় করেন তিনি। একে একে 'কাটি পতঙ্গ', 'দো রাস্তে', 'আনন্দ'-এর মতো ছবিতে জাদু দেখিয়েছেন পর্দায়। কিন্তু এহেন সুপারস্টারের দুই কন্যা টুইঙ্কল খান্না ও রিঙ্কি খান্না অভিনয় জগতে সেভাবে পায়ের তোলার মাটি শক্ত করতে পারেননি। ১৯৯৫ সালে বলিউডে অভিষেক ঘটে টুইঙ্কলের। ওইসময় 'বারসাত' ছবির হাত ধরে প্রথম দর্শকের দরবারে এসেছিলেন রাজেশ কন্যা। সেই ছবি বেশ ভালো সাফল্য পেলেও পরবর্তীতে 'যান', 'ইতিহাস' ও 'মেলা' ছবি সেভাবে দর্শকমনে ছাপ ফেলতে পারেনি। একইভাবে রিঙ্কিও 'প্যায়ার মে কভি কভি' ও 'মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়' ছবিতে অভিনয় করলেও সেভাবে ছাপ ফেলতে পারেনি। পরবর্তীকালে বলিউডকে 'গুডবাই' বলেন দুই বোনই।
সুপারস্টার জিতেন্দ্রপুত্র তুষার কাপুর বলিউডে জার্নি শুরু করেন 'মুঝে কুছ ক্যাহনা হ্যায়' ছবির হাত ধরে। পরবর্তীকয়ালে 'গোলমাল', 'শুটআউট অ্যাট লোখাণ্ডওয়ালা' ছবিতে অভিনয় করলেও সেভাবে বলিউডে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেননি তুষার। যদিও অন্যদিকে জিতেন্দ্রকন্যা একতা কাপুর একজন সফল প্রযোজক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
বঙ্গসন্তান মিঠুন চক্রবর্তী, বলিউড ও টলিউডে তাঁর জার্নি নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। তাঁর নামই যথেষ্ট। কলকাতা থেকে মুম্বই যাত্রা, নিজেকে সুপারস্টার হিসেবে তৈরি করা সবটার নেপথ্যেই ছিল অদম্য জেদ। কিন্তু মিঠুনপুত্রদের বলিউড জার্নি সফল হয়নি। ২০০৮ সালে বলিউডে মিমো চক্রবর্তীর 'জিমি' ছবির হাত ধরে ডেবিউ ঘটে। অন্যদিকে নমশির জার্নি শুরু হয় ২০২৩ সালে 'ব্যাড বয়' ছবির হাত ধরে। দু'জনের ছবিই মুখ থুবড়ে পড়ে বক্সঅফিসে। মিঠুনের দুই পুত্রই বলিউডে সাফল্যের মুখ দেখেননি।
এই তালিকায় রয়েছেন শত্রুঘ্নপুত্র লব সিনহা। ২০১০ সালে লব 'সাদিয়া' ছবির হাত ধরে বলিউডে জার্নি শুরু করেছিলেন। যদিও সেই ছবি মনে ছাপ ফেলতে পারেনি। পরে লবকে 'পালটন' ও 'গদর ২' ছবিতে দেখা যায়। অন্যদিকে শ্ত্রুঘ্নপুত্র কুশ ক্যামেরার নেপথ্যে নিজের জার্নি শুরু করেছেন। ২০২৫ সালে পরিচালনা করেছেন 'নিকিতা রয়'-এর মতো ছবি।
কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রপুত্র ববি দেওলের বলিউড জার্নি খুব যে মসৃণ হয়েছে তা নয়। ১৯৯৫ সালের 'বরসাত' ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ফিল্মি কেরিয়ার শুরু করেন ববি। পরে 'সোলজার', 'ঘায়েল', 'দামিনী'র মতো ছবিতে অভিনয় করলেও তা একেবারেই দর্শকমনে ছাপ ফেলতে পারেনি। দীর্ঘদিন পর্দা থেকে দূরে ছিলেন ববি। যদিও বেশ কয়েক বছর আগে 'আশ্রম' ওয়েব সিরিজ ও 'অ্যানিম্যাল' ছবিতে তাঁর অভিনয় বেশ প্রশংসা পেয়েছে। নিজেকে ঘষে মেজে যে ববি নিজেকে তৈরি করতে পেরেছেন তা বলাই বাহুল্য।
ঋষিপুত্র রণবীর কাপুরের অভিনয়ের জার্নিতে প্রথম দফায় বেশ ভরাডুবি দেখা গিয়েছিল। কেরিয়ারের প্রথম ছবি 'সাওয়ারিয়া' রীতিমতো ফ্লপ হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে 'রকস্টার', 'ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি', 'সঞ্জু'র মতো ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন রণবীর কাপুর। ছবি: সোশাল মিডিয়া।
খুশি কাপুরের বিপরীতে 'নাদানিয়া' ছবির সুবাদে বলিউডে নায়ক হিসেবে ডেবিউ করেছেন ইব্রাহিম আলি খান। বর্তমানে ওটিটি ছবি 'সরজামিন' মুক্তির অপেক্ষায়। অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে ক্যামেরার নেপথ্যের খুঁটিনাটিও শিখেছেন করণ জোহরের কাছে। 'রকি অউর রানি'তে করণের সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন ইব্রাহিম।
Published By: Arani BhattacharyaPosted: 05:18 PM Feb 10, 2026Updated: 06:40 PM Feb 10, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
