Advertisement
গরম বাড়তেই জ্বরের আড়ালে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার আশঙ্কা, লক্ষণ থেকে প্রতিকার, জানালেন বিশেষজ্ঞ
তীব্র গরমে হঠাৎ জ্বর এলেই আমরা অনেকেই ধরে নিই সেটি দীর্ঘসময় রোদে থাকার ফল। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ গরমের জ্বর মানেই সানস্ট্রোক নয়, এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রমণ। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় না হলে জটিলতা বাড়তে পারে, এমনকী অনেক সময় জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হয়।
গরমের সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে শরীর অতিরিক্ত ঘাম ঝরিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়ায় শরীর থেকে জল ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। এর ফলেই হিট-রিলেটেড জ্বর দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত খুব একটা তীব্র হয় না।
এই ধরনের জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাৎ, ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে থাকে। সঙ্গে থাকতে পারে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড তেষ্টা এবং ক্লান্তি। অনেক সময় ঠান্ডা জায়গায় থাকলে বা পর্যাপ্ত জলপানে উপসর্গ কমে। বিশ্রাম ও সঠিক হাইড্রেশন এই ধরনের জ্বরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করে।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রমণে জ্বর অনেক বেশি তীব্র হয়। শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠতে পারে। এর সঙ্গে থাকে কাঁপুনি, শরীরে ব্যথা, বিশেষ করে হাড়ভাঙা যন্ত্রণার মতো অনুভূতি। অনেক ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা ত্বকে র্যাশও দেখা যায়, যা সাধারণ হিট ফিভারের সঙ্গে মেলে না।
চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে নিজে নিজে জ্বরের কারণ ধরে নেওয়া। অনেকেই ভাবেন, গরমে জ্বর হওয়া স্বাভাবিক, তাই বাড়িতেই ওষুধ খেয়ে নেন। কিন্তু এতে আসল রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাতেই সহজে বোঝা যায় জ্বরের প্রকৃত কারণ, যা দ্রুত চিকিৎসা শুরুতে সাহায্য করে।
ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া আগে বর্ষাকালের রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। শহরে নির্মাণকাজ, জমে থাকা জল, এসি বা কুলারের জল এবং অপর্যাপ্ত নিকাশি ব্যবস্থার কারণে সারা বছরই মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। ফলে এই রোগগুলো এখন গ্রীষ্মকালেও সমানভাবে দেখা যাচ্ছে।
অনেক রোগী প্রথমে উপসর্গগুলোকে হালকাভাবে নেন। তারা মনে করেন, শরীর খারাপ বা ডিহাইড্রেশনের কারণেই এমন হচ্ছে। তাই ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু এতে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। বিশেষ করে ম্যালেরিয়া চিকিৎসা না হলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার, এমনকী মস্তিষ্কে পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।
ম্যালেরিয়ার একটি মারাত্মক ধরন হল ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়া, যা দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগীর অবস্থা খুব দ্রুত খারাপ হতে পারে। তাই জ্বরকে হালকাভাবে না নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। উপসর্গের প্রকৃতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জ্বর কতদিন থাকছে সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি জ্বর এক-দুদিনের মধ্যে না কমে বা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যদি কাঁপুনি, তীব্র ব্যথা বা র্যাশ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো জরুরি হয়ে পড়ে।
গরমে সুস্থ থাকতে হলে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা প্রয়োজন। নিয়মিত পর্যাপ্ত জলপান করতে হবে, যাতে শরীর ডিহাইড্রেট না হয়। রোদে বেশি সময় না থাকা এবং দুপুরের তীব্র গরম এড়িয়ে চলা শরীরকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। দরকার হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:48 PM Apr 28, 2026Updated: 08:48 PM Apr 28, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
