Advertisement
দেশ আছে, সেনা নেই! সৈন্যবাহিনী ছাড়াও শান্তিতে রয়েছেন বিশ্বের এই ১০ ভূখণ্ডের বাসিন্দারা
প্রতিরক্ষা খাতের অর্থ এরা খরচ করে সামাজিক অগ্রগতি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রে।
যে কোনও দেশের প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড সেনা! সারা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই সেনা খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু পৃথিবীর কুড়িটি দেশে সেনাবাহিনীই নেই! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সেদেশের মানুষের নিরাপত্তা তাহলে সুরক্ষিত হয় কী করে? এই দেশগুলি চুক্তি এবং কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমেই জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখে। একই সঙ্গে তারা তাদের সম্পদ সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করে।
প্রথমেই কোস্টা রিকার কথা। ১৯৪৮ সালের গৃহযুদ্ধের পর কোস্টা রিকা প্রশাসন সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে দেয়। সামরিক খাতে বরাদ্দ অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ করা হয়। সামরিক শক্তির চেয়ে সামাজিক অগ্রগতি এবং পরিবেশ সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেয় কোস্টা রিকা। আর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সামরিক প্রতিরক্ষার জন্য আমেরিকা এবং অন্যান্য মিত্রশক্তির ওপর নির্ভর করে তারা।
এবার আইসল্যান্ডের কথা। ন্যাটোর উপরই নির্ভরশীল হয়ে সেনাবাহিনী ভেঙে দিয়েছে তারা। ১৯৪৪ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে অবশ্য নাগরিক আইসল্যান্ডিক উপকূল বাহিনী রয়েছে। যারা জাতীয় নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করে। সমুদ্রে নিয়মিত টহলও দেয়। তবে এর বাইরে কোনও সেনাবাহিনী নেই। এর পরিবর্তে সামাজিক কল্যাণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আর এভাবেই তারা হয়েছে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম শান্তিপূর্ণ দেশ।
বিশ্বের আরেক শান্তিপূর্ণ ও স্বল্প-অপরাধপ্রবণ দেশ মোনাকো। ১৯১৮ সালের ফ্রাঙ্কো-মোনেগাস্ক চুক্তির পর থেকেই সেদেশের প্রতিরক্ষার দায়ভার ফ্রান্সের। সেই কারণেই নেই কোনও সেনাবাহিনী। মূলত বিলাসবহুল পর্যটনের উপর নির্ভর করে স্থিতিশীল ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এক সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হয়েছে মোনাকো। অবশ্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একটি ক্ষুদ্র পুলিশ বাহিনী রয়েছে তাদের।
সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার মাঝে ছোট্ট একফালি ভূখণ্ড লিচটেনস্টাইন। সেই ১৮৬৮ সাল থেকে সেদেশের কোনও সেনাবাহিনী নেই। এর নেপথ্যে প্রধান কারণ আর্থিক অস্থিরতা। আর সেই থেকেই সুইজারল্যান্ডের প্রতি নির্ভরতা। তবে অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষার জন্য একটি ছোট্ট পুলিশ বাহিনী রয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য দেশটি বিশ্ব কূটনীতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে চলে।
১৯৯০ সালে সেনাবাহিনী বন্ধ স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে ‘পানামা পাবলিক ফোর্সেস’ প্রতিষ্ঠা করে পানামা। এই বাহিনী পুলিশ, নৌ, বিমান পরিষেবার সমন্বয়ে গঠিত। সেদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনী। এর বাইরে কোনও আনুষ্ঠানিক সেনা নেই। তবে আমেরিকার সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি রয়েছে, যা ‘তোরিজোস-কার্টার চুক্তি’ নামে পরিচিত।
ভ্যাটিকান সিটির কোনও নির্দিষ্ট সেনাবাহিনী নেই। তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে ‘সুইস গার্ড’ নামের এক বাহিনী। পোপের সুরক্ষা অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৫০৬ সালে এই বাহিনীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ১৯২৯ সালে ল্যাটেরান চুক্তির মাধ্যমে এখানকার নিরাপত্তার দায়িত্ব ইটালির কাঁধে বর্তায়। এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় একশো বছর। এখনও ভ্যাটিকানের কোনও নিজস্ব সেনাবাহিনী নেই।
প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কিরিবাতির কোনও স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই। তবে প্রয়োজনে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য দেশটি প্রতিবেশী দেশগুলির উপর নির্ভর করে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের। পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সেদেশের সেনার উপর নির্ভর করে তারা। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে অবস্থিত দেশটি চিনের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন আইসিবিএম পরীক্ষার তীব্র সমালোচনা করেছে সম্প্রতি।
১৯৬৮ সাল থেকে নিজস্ব সেনাবাহিনী নেই মরিশাসের। ব্রিটেনের থেকে স্বাধীনতা লাভের পরই সেনাবাহিনী তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু স্থায়ী সেনাবাহিনী ছাড়াই একটি শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত সংসদীয় গণতন্ত্র গড়ে তোলে তারা। তবে সেদেশের একটি আধা সামরিক বাহিনী রয়েছে। সোশাল মোবাইল ফোর্স নামের সেই বাহিনী দেখে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। বাইরের দেশের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করে জাতীয় পুলিশ বাহিনী। সেদেশে আপাতত সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ।
১৯৯৪ সালে স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকেই পালাউ নামের দেশটির কোনও সেনাবাহিনী নেই। আমেরিকার সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘কমপ্যাক্ট অফ ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’-এর উপর তারা নির্ভরশীল। এই চুক্তি অনুসারে কোনও ধরনের বহির্শত্রুর আগমনে তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব আরিকার। মার্কিন মসনদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর সেদেশের জনতা প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়রকে টানা দ্বিতীয় বারের জন্য নির্বাচিত করেছে।
বিশ্বের বিরল দেশগুলির অন্যতম সামোয়া, যাদের নিজস্ব বাহিনী নেই। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তারা নির্ভরশীল 'বন্ধু' নিউজিল্যান্ডের উপরে। ১৯৬২ সালে হওয়া চুক্তির পর থেকেই এই ব্যবস্থা। সেনা খাতে খরচের পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোর মতো অপরিহার্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে বরাদ্দ করেছে। সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে সামোয়া। মহিলাদের প্যাসিফিক বোলে ফিজিকে হারিয়ে দিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করে তারা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:07 PM Apr 27, 2026Updated: 08:07 PM Apr 27, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
