Advertisement
কেউ সাংসদ, কেউ ধারাভাষ্যকার, কেউ বা এখনও ছক্কা হাঁকাচ্ছেন, ২০০৭-এর টি-২০ বিশ্বজয়ীরা কে কোথায়?
মাহির ক্ষুরধার নেতৃত্বেই কামাল করে টিম ইন্ডিয়া।
২০০৭ সাল থেকে শুরু হয়েছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। প্রথম সংস্করণেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে ট্রফি জেতে টিম ইন্ডিয়া। তার পর হয়েছে ৯টি সংস্করণ। দু'বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। প্রথম সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন তারকারা এখন কে কোথায়? তাঁদের কেউ এখন সাংসদ, কেউ কোচ, কেউ বা ধারাভাষ্যকার। আসুন দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বজয়ী তারকারা এখন কে কোথায়?
মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক): সেই বছর প্রথমবার অধিনায়কত্বের ব্যাটন উঠেছিল তাঁর কাঁধে। তবে নতুন দায়িত্ব বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ ওয়ানডে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শচীন তেণ্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তিদের দেশে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকা রওনা হয়েছিল ভারতীয় দল। সেই কারণে ভারতের সাফল্যের ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন অনেকেই। তবে মাহির ক্ষুরধার নেতৃত্বেই কামাল করে টিম ইন্ডিয়া। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামের ফাইনালে শেষ ওভারে সকলকে চমকে দিয়ে যোগীন্দর শর্মাকে বল করতে আনার সিদ্ধান্ত মিথের পর্যায়ে পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তের যথাযোগ্য মর্যাদা রেখেছিলেন মিডিয়াম পেসার। স্কুপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিসবা-উল-হক। বিশ্বকাপ জেতে ভারত। এখন তাঁর বয়স ৪৪। কিন্তু এখনও আইপিএলে তাঁর ব্যাটিং দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। এবারেও আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে এখনও খেলবেন।
গৌতম গম্ভীর: ২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনি করেছিলেন ৫৪ বলে ৭৫ রান। বিশ্বকাপ জয়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন। এখন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কোচিংয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে টিম ইন্ডিয়া। তাঁর কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপের মতো ট্রফি জিতেছে ভারত। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বিশেষ সাফল্য আসেনি।
রোহিত শর্মা: বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনি করেছিলেন অপরাজিত ৩০ রান। সেই রোহিত টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু ওয়ানডে খেলছেন চুটিয়ে। ফর্মেও রয়েছেন। সেদিনের বিশ্বকাপজয়ী তরুণ রোহিতের নেতৃত্বে ২০২৪ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। হিটম্যান অবশ্য চলতি বিশ্বকাপেও ব্র্যান্ড আম্বাসাডর। অধিনায়ক হিসাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জেতার নজিরও রয়েছে তাঁর নামে।
যুবরাজ সিং: কে ভুলতে পারে ইংরেজ বোলার স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ছয় ছক্কার রেকর্ড। উদ্বোধনী বিশ্বকাপ মাতিয়ে দিয়েছিলেন। তার পর মারণ রোগ ক্যানসারকে হারিয়ে খেলেছিলেন ২০১৪ টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালও। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অ্যাম্বাসাডর হিসাবে কাজ করছেন তিনি। তাছাড়াও তাঁর পরামর্শে উপকৃত হয়েছেন ভারতীয় দলের তরুণ তুর্কি অভিষেক শর্মা, শুভমান গিল। সম্প্রতি সঞ্জু স্যামসনকেও পরামর্শ দিতে দেখা গিয়েছে।
ইউসুফ পাঠান: ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি নেমে পড়েছেন রাজনীতির ময়দানে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছেন। হেভিওয়েট প্রতিপক্ষ, কংগ্রেসের পাঁচবারের সাংসদ অধীর চৌধুরীকে তাঁর 'গড়' বহরমপুর থেকে হারিয়েছেন ইউসুফ। অবসরপ্রাপ্তদের ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওপেন করেছিলেন তিনি।
রবিন উথাপ্পা: পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অনেক আগেই। তবে অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে খেলেন। পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসাবেও কাজ করছেন তিনি। যদিও পিএফ কেলেঙ্কারির মতো বড়সড় আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন উথাপ্পা।
ইরফান পাঠান: বিশ্বকাপ ফাইনালে ১৬ রানে ৩ উইকেট পেয়েছিলেন। ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেয়েছিলেন। সেই তিনি অবসর নেওয়ার পর ধারাভাষ্য দেন। তাছাড়াও ভাই ইউসুফের সঙ্গে ক্রিকেট অ্যাকাডেমিও চালান। তাছাড়াও অবসরপ্রাপ্তদের ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে।
শান্তাকুমারন শ্রীসন্থ: ফাইনালে ১ উইকেট নিলেও বেধড়ক মার খেয়েছিলেন। তবে শেষে মিসবা-উল-হকের ক্যাচ তিনিই নিয়েছিলেন। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে সিনেমা অভিনয় করেছেন। রিয়্যালিটি টিভি শোয়েও দেখা গিয়েছে তাঁকে। দু'টি বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের নাম জড়ায় গড়াপেটা কাণ্ডে। নির্বাসিত হন ক্রিকেট থেকে। বিজেপির টিকিটে কেরলের বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 07:59 PM Feb 11, 2026Updated: 10:59 PM Feb 11, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
