Advertisement
তারাতলার 'তাসের ঘরে' ত্রাতা সেনাই, কীভাবে কাজ করল 'রেসকিউ রাডার'?
এতদিন শহরে বড় বিপর্যয় ঘটলে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেনার সাহায্য নেওয়া ছিল দূরঅস্ত। কিন্তু বুধবার তারাতলায় দ্রুত নেমে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি না সামলালে আরও বাড়ত মৃতের সংখ্যা।
প্রথমে লোহার বিমের কাঠামো। তার উপর করোগেটেড ইস্পাতের শিট। সেই শিটের উপর ৭ ইঞ্চির কংক্রিটের ঢালাই। তিনতলা ও একতলায় ঢালাইয়ের পর দোতলার ঢালাই শুরু মাঝেই বিপর্যয়। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তারাতলার নির্মীয়মান গুদাম। যার নিচে চাপা পড়ে যান কর্মরত বহু শ্রমিক। এখনও পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ১১ জনের। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ রয়েছেন কিনা, তা জানতে জারি উদ্ধারকাজ।
এতদিন শহরে বড় বিপর্যয় ঘটলে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেনার সাহায্য নেওয়া ছিল দূরঅস্ত। কিন্তু বুধবার তারাতলায় দ্রুত নেমে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি না সামলালে আরও বাড়ত মৃতের সংখ্যা। সাম্প্রতিককালের মধ্যে এমন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিপর্যয় মোকাবিলার নজির দেখেনি কলকাতাবাসী। ভার্টিক্যাল ড্রিল মেশিন, অ্যাঙ্গেল কাটার, ডায়মন্ড টেন শ, এয়ার প্লাজমা কাটিং মেশিন, কর্ডলেস হ্যামার দিয়ে কংক্রিট কাটা শুরু হয়।
পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজে হাত লাগান। সেনাবাহিনীও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আর্তদের উদ্ধারে হাত লাগায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের স্পন্দন খুঁজতে অত্যাধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়। 'রেসকিউ ব়্যাডারে'র মতো স্ক্যানারের মেশিনও কাজে লাগায় সেনাবাহিনী। উত্তরকাশীর বিপর্যয়ের পর দুর্গতদের খোঁজে 'রেসকিউ ব়্যাডারে'র সাহায্য নিয়েছিল সেনাবাহিনী।
ধ্বংসস্তূপের উপর এই মেশিন বসানো হয়। ভিতরের যাবতীয় ছবি নিজেদের ডিসপ্লে বোর্ডে তুলে আনেন সেনারা। যেখানে যেখানে শ্রমিকদের আটকে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেই জায়গাতেই ওই মেশিন বসানো হয়। তারপর ডিসপ্লে বোর্ডে ভিতরের সম্পূর্ণ ছবি দেখেই 'অ্যাকশন'। শাবল এবং হাতুড়ি দিয়ে ঢালাই ব্রিজ ভেঙে উদ্ধার করা হয় আটকে থাকা শ্রমিকদের।
বড়সড় বিপর্যয়ে ক্ষেত্রে যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে কারও খোঁজ পাওয়াই কঠিন হয়ে যায়। ঠিক সেই সময় ভারতীয় সেনা 'রেসকিউ ব়্যাডারে'র সাহায্য নেয়। তারাতলা বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয় একই ব্যবস্থা। আর তাতেই কাজ হয়। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। অসুস্থ অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ১৯ জন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
চব্বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে যাওয়ার পরেও জারি উদ্ধারকাজ। মাঝেমধ্যেই উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা চিৎকার করে জানতে চাইছেন, কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন কিনা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের কাছে জল ও অক্সিজেন পৌঁছনোর বন্দোবস্তও করা হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে খবর, যে জমির উপর নির্মাণকাজ চলছিল তার ধারণ ক্ষমতা কতটা ছিল তা তদন্ত করে দেখা হবে। যে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল তার গুণমাণ কেমন ছিল ও আদৌ আইন মেনেও নির্মাণ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এটা নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে, তদন্তকারীরা তা-ও খতিয়ে দেখছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারাতলায় ওই নির্মাণকাজ চলছিল বন্দরের জমিতে।
লিজ নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ বেহরা। তিনি বেহরা ব্রাদার্সের অংশীদার। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আসল দোষী কে বা কারা তা তদন্ত করে চিহ্নিত করা হবে। বেহরা ব্রাদার্স ছাড়া এ আর ট্রেডার্স নামে আর এক সংস্থার উপরও নজর রয়েছে পুলিশের। এই সংস্থাকে নির্মাণকাজের বরাত দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে কী চুক্তি ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
Published By: Sayani SenPosted: 08:51 PM Jun 25, 2026Updated: 08:55 PM Jun 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
