Advertisement
রেখার মাথায় সিঁদুর, গলায় মঙ্গলসূত্র, বিয়েবাড়িতেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন জয়া!
বলিউডের এই 'সিলসিলা' গত কয়েক দশক ধরেই সিনেমহলের চর্চায় ফিরে ফিরে এসেছে।
একসময় তাঁরা ছিলেন 'দো আনজানে'। পরবর্তী সময়ে তাঁদের 'সিলসিলা' গোটা বলিউডের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। তাঁরা অমিতাভ-রেখা। টিনসেল টাউনের চিরকালীন জুটির অন্যতম। আর সেই প্রেম রুপোলি পর্দা ছাপিয়ে বাস্তব জীবনেও ছড়িয়ে পড়েছিল দ্রুত। বিবাহিত অমিতাভ ভেসে যান প্রেমের জোয়ারে। এই পরিস্থিতিতে কী করেছিলেন জয়া বচ্চন? তাঁর সঙ্গে রেখার কথোপকথন আজও সিনেমহলের চর্চায় ফিরে ফিরে আসে।
১৯৭৬ সালের 'দো আনজানে' ছবিতে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেন অমিতাভ ও রেখা। আর সেই ছবির শুটিংয়ের সময়ই দু'জনের কাছাকাছি আসা। ‘গঙ্গা কী সওগন্ধে’র সিনেমার সেটে অনেকেরই নজরে পড়েছিল তাঁদের ঘনিষ্ঠতা। শোনা যায়, এক সহ-অভিনেতা সেই সময় রেখার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করায় প্রবল রেগে যান অমিতাভ। ধীরে ধীরে সিনেমা পত্রিকাগুলোয় ছাপা হতে থাকে তাঁদের প্রেমের গপ্পোগাছা!
১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় 'মুকদ্দর কা সিকান্দর'। ছবিতে অমিতাভ ও রেখার রসায়ন সকলের মন জিতে নেয়। ট্রায়াল শোয়ে সপরিবারে অমিতাভ ছিলেন। ছিলেন রেখাও। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, পর্দায় তাঁর ও অমিতাভের রোম্যান্স দেখে নাকি জয়ার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছিল! ততদিনে হয়তো তিনিও বুঝতে পারছিলেন প্রিয় অমিতকে বোধহয় আর ধরে রাখতে পারবেন না।
১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি ঋষি কাপুর ও নীতু সিং বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই বিয়ের আসরে অতিথি হিসেবে বলিউডের তাবড় শিল্পীরা সকলেই উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অবশ্যই ছিলেন অমিতাভ-জয়া। সেই বিয়েবাড়িতে রেখাকে দেখা যায় মাথায় সিঁদুর ও গলায় মঙ্গলসূত্র পরিহিত অবস্থায়। সেই সময় অমিতাভ-রেখার প্রেমের গুঞ্জন প্রবল। স্বাভাবিক ভাবেই রেখাকে ওই বেশে দেখে সকলের সামনেই কেঁদে ফেলেন জয়া৷
ততদিনে অমিতাভ-জয়ার বিয়ের সাত বছর হয়ে গিয়েছে। রয়েছে এক পুত্র ও এক কন্যা। এই পরিস্থিতিতে রেখাকে ওই বেশে দেখে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি জয়া। চোখ ভরে আসে জলে। তাঁর ধারণা হয়েছিল, অমিতাভ গোপনে বিয়ে করেছেন রেখাকে। যদিও পরে জানা গিয়েছিল, রেখা ছিলেন একটি ছবির শুটিংয়ে। সেখানে নববধূর ভূমিকায় অভিনয় করার পর দ্রুত বিয়েবাড়িতে চলে আসেন। তাড়াহুড়োয় মেকআপ তোলা হয়নি।
শোনা যায়, এরকমই এক সময়ে জয়া বচ্চন সরাসরি ডেকে পাঠিয়েছিলেন রেখাকে। অমিতাভ তখন অন্যত্র শুটিংয়ে। দুপুরের খাওয়ার জন্য জয়া আমন্ত্রণ করেন রেখাকে। চলচ্চিত্র গবেষক হানিফ জাভেরি এক পডকাস্টে দাবি করেছিলেন, সেদিন জয়া রেখাকে বলেছিলেন, ''অমিতাভ আমার ছিল, আমারই আছে, আমারই থাকবে।'' জাভেরির মতে, ওই মুহূর্তেই রেখা সিদ্ধান্ত নেন তিনি বিগ বি-র জীবন থেকে সরে যাবেন। 'সিলসিলা'র পর আর কাজও করেননি।
'কুলি' ছবির শুটিংয়ের সময় গুরুতর আহত হন অমিতাভ। গোটা দেশজুড়ে শুরু হয় প্রার্থনা। সেই সময় জয়া সারাক্ষণ ছিলেন স্বামীর পাশে। হাসপাতালের বাইরে নাকি একটি গাড়িতে বসে থাকতেন রেখা। শোনা যায়, মৃত্যুর মুখ থেকে জীবনে ফিরতে থাকা অমিতাভ দেখেন তাঁর জন্য জয়ার উদ্বেগ! আবার ফেরে সম্পর্কের উষ্ণতা। রেখা অবশ্য সারা জীবন জানিয়ে গিয়েছেন, অমিতাভের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 03:55 PM Jun 24, 2026Updated: 03:55 PM Jun 24, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
