Advertisement
বড় ঘোষণা নেই, স্বস্তি পেলেন না কৃষক-শ্রমিক-পেনশনভুগীরা! বাজেটে অপ্রাপ্তির দীর্ঘ তালিকা
ভোটমুখী রাজ্যগুলির জন্যও বিরাট ঘোষণা নেই। বঞ্চিত বাংলা।
আগামী অর্থবর্ষের জন্য আর্থিক বাজেট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এটি তৃতীয় মোদি সরকারের দ্বিতীয় বাজেট। প্রত্যাশিতভাবেই এই বাজেট সংস্কারমুখী। এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ফলে স্বল্পমেয়াদি একাধিক সমস্যা বাজেটে উপেক্ষিত।
বাজেটে বড়সড় হতাশা মধ্যবিত্তর জন্য। ডিরেক্ট ট্যাক্স বা আয়কর এবং জিএসটি নিয়ে সেভাবে কোনও বড় ঘোষণা করেননি অর্থমন্ত্রী। ফলে করকাঠামোর দিক থেকে কোনও সুরাহা পাচ্ছে না আমজনতা।
আমজনতার ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর কোনও দিশা বাজেটে নেই। অতীতে একাধিকবার মধ্যবিত্তর সঞ্চয় নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। অথচ সেই ইস্যুতে নজর নেই বাজেটে। ফলে বাজারে চাহিদার ঘাটতি হতে পারে। যা ভবিষ্যতে আর্থিক গতিকে ধাক্কা দিতে পারে।
অসংগঠিত কর্মীদের জন্য আলাদা করে কোনও ঘোষণা নেই। অন্তত নির্মলা সীতারমণের বাজেট ভাষণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে কোনও ঘোষণা নেই। ফলে অসংগঠিত ক্ষেত্র ধাক্কা খেতে পারে। দেশের সিংহভাগ শ্রমিক এই সেক্টরেই কাজ করেন।
বাজেটের আগে কৃষিক্ষেত্রে বড় ঘোষণা নিয়ে জল্পনা ছিল। কিন্তু এবারের বাজেটে আলাদা করে কৃষকদের জন্য বড় কোনও ঘোষণা নেই। মৎস্যচাষ, নারকেল চাষে সামান্য কিছু ঘোষণা থাকলেও অন্যান্য ক্ষেত্র বঞ্চিত।
সাধারণ কৃষক বা শ্রমিক শ্রেণির কোনও ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা সরাসরি সাহায্যের কোনও ঘোষণা নেই বাজেটে। আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্প, কিষান সম্মান নিধিতেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। ফলে কৃষিক্ষেত্র খানিকটা হলেও হতাশ।
রবিবার বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ঘোষণা করেন, ০.০২ শতাংশ থেকে এসটিটি বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এসটিটি অর্থাৎ সিকিয়োরিটিস ট্রানজাকশন ট্যাক্স কার্যকর হয় স্টক কেনাবেচার ক্ষেত্রে। মিউচুয়াল ফান্ড-সহ নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগেই কার্যকর হয় এই কর। একলাফে কর বেশ খানিকটা বেড়ে যাওয়ায় রক্তক্ষরণ হয়েছে শেয়ার বাজারেও। দিনের শেষে শেয়ার সূচক কমেছে ১৫০০ পয়েন্ট।
সংগঠিতক্ষেত্রের শ্রমিকদের মধ্যেও দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ইপিএফও-র পেনশন বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির মেয়াদ কমানোর মতো দাবি। কিন্তু সেসব নিয়ে কোনও ঘোষণা বাজেটে নেই।
দেশের অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। তবে এবারের বাজেটে বেকারত্ব দূরীকরণে সরাসরি কোনও দিশা নেই। ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা, গাইডদের প্রশিক্ষণের মতো বিকল্প কিছু পেশায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। সমস্যা হল, এই সব পরিকল্পনাই দীর্ঘমেয়াদি। স্বল্পমেয়াদি কোনও সুরাহা নেই।
এবারে বাজেটের পরই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন। কিন্তু নির্মলার বাজেটে সেভাবে বাংলা, তামিলনাড়ু বা কেরলকে বড় কোনও বোনাস দেওয়া হল না। তেমন কিছু পেল না বিজেপি শাসিত অসমও।
সবচেয়ে বড় বঞ্চনার মুখোমুখি হল বাংলা। অন্তত তৃণমূলের তেমনই অভিযোগ। ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের এইমস, কিছু রেললাইন, বড় শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বড় ঘোষণা আশা করেছিলেন বঙ্গবাসী। কিন্তু নির্মলার ভাষণে ভাসা ভাসা করে ডানকুনি ফ্রেট করিডোর, শিলিগুড়ি-বারাণসী সুপারফাস্ট ট্রেন রুট এবং দুর্গাপুরে শিল্প করিডোর ছাড়া তেমন ঘোষণা নেই।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:40 PM Feb 01, 2026Updated: 06:24 PM Feb 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
