Advertisement
১৮ বার লুট হয় জগন্নাথ ধাম, তবুও কোন অলৌকিক শক্তিতে রক্ষা পেলেন দারুব্রহ্ম?
রক্তবর্ণ চোখ। হাতে উদ্যত তলোয়ার। একের পর এক আক্রমণকারী আছড়ে পড়েছে ওড়িশার উপকূলে। উদ্দেশ্য একটাই। শ্রীক্ষেত্রের অঢেল রত্নসম্ভার লুট। কোটি মানুষের ধর্মে আঘাত। কিন্তু কী এক অলৌকিক মহিমায় প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাণ্ডবকারীদের! নেপথ্যে কোন রহস্য?
রক্তবর্ণ চোখ। হাতে উদ্যত তলোয়ার। একের পর এক আক্রমণকারী আছড়ে পড়েছে ওড়িশার উপকূলে। উদ্দেশ্য একটাই। শ্রীক্ষেত্রের অঢেল রত্নসম্ভার লুট। কোটি মানুষের ধর্মে আঘাত। বারবার রক্তাক্ত হয়েছে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। কিন্তু কী এক অলৌকিক মহিমায় প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাণ্ডবকারীদের! ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেও অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়ে গিয়েছেন দারুব্রহ্ম।
ইতিহাস বলে, ৯ শতকে রাষ্ট্রকূট রাজা তৃতীয় গোবিন্দ থেকে শুরু করে ১৭৩৩ সালে তকি খাঁ—মোট ১৮ বার আক্রান্ত হয়েছে এই মন্দির। প্রতিটি আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল রত্নভাণ্ডার লুঠ এবং বিগ্রহ বিনাশ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বারবার মন্দির চত্বর রক্তে ভেসে গেলেও মূল বিগ্রহের গায়ে একটি আঁচড়ও লাগাতে পারেনি চরম ধর্মান্ধ শত্রুসেনাও।
এই অক্ষত থাকার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে সেবায়েতদের অদ্ভুত সতর্কতায়। শত্রুর পা রাখার আগেই গভীর রাতে মন্দির খালি হয়ে যেত। চিল্কা হ্রদের নির্জন দ্বীপ, খুরদার গহিন জঙ্গল কিংবা কোনও অন্ধকার গুহায় গোপনে সরিয়ে নেওয়া হত বিগ্রহ। মহাপ্রভুকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে সেবায়েতরা টানা ১৪৬ বছর বিগ্রহকে এভাবে অজ্ঞাতবাসে রেখেছিলেন।
১৫৬৮ সালে সুলাইমান কররানীর সেনাপতি কালাপাহাড়ের আক্রমণ ছিল সবচেয়ে মারাত্মক। সে মন্দির ভেঙে তছনছ করে এবং বিগ্রহ গঙ্গার তীরে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কথিত আছে, জলন্ত কাঠের ভিতর থেকেও পরম অলৌকিকতায় অলৌকিক 'ব্রহ্ম পদার্থ' উদ্ধার করে এনেছিলেন এক নিষ্ঠাবান ভক্ত। যা পরে পুনর্গঠিত বিগ্রহে সংস্থাপিত হয়।
১৫৬৮ সালে সুলাইমান কররানীর সেনাপতি কালাপাহাড়ের আক্রমণ ছিল সবচেয়ে মারাত্মক। সে মন্দির ভেঙে তছনছ করে এবং বিগ্রহ গঙ্গার তীরে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কথিত আছে, জলন্ত কাঠের ভিতর থেকেও পরম অলৌকিকতায় অলৌকিক 'ব্রহ্ম পদার্থ' উদ্ধার করে এনেছিলেন এক নিষ্ঠাবান ভক্ত। যা পরে পুনর্গঠিত বিগ্রহে সংস্থাপিত হয়।
১৬৯২ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে ওড়িশার নায়েব একরাম খাঁ পুরী আক্রমণ করেন। মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়, লুট হয় প্রভূত সম্পদ। কিন্তু তার আগেই বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আসল বিগ্রহ সরিয়ে সেখানে কাঠের নকল মূর্তি বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে শত্রুরা ফিরে যায় জয়ী হওয়ার ভুয়ো অহংকার নিয়ে।
বারবার জগন্নাথকে মন্দির ছাড়তে হয়েছে। শূন্য পড়ে থেকেছে জয়-বিজয়ের দ্বার। কিন্তু রত্নবেদী ফাঁকা থাকলেও ভক্তের হৃদয় থেকে তাঁকে মোছা যায়নি। চিল্কার গুবাই দ্বীপে বা কন্টলোর জঙ্গলে প্রদীপের আলোতেই চলেছে গোপন পূজা। আক্রমণকারীরা মন্দির লুট করতে পেরেছে, কিন্তু কোটি ভক্তের আত্মিক বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে স্পর্শ করতে পারেনি।
আক্রমণের ইতিহাস মুছে গিয়েছে, কিন্তু আজ শত শত বছর পরেও নীলচক্রে উড়ছে পতিতপাবন বানা। ১৮ বার আছড়ে পড়া ঝড়ের তাণ্ডব সামলেও জগন্নাথ আজ একই আসনে আসীন। এই রহস্যময় টিকে থাকা কেবল ওড়িশার ইতিহাস নয়, বরং সনাতন বিশ্বাসের এক অপরাজেয় ও অলৌকিক বিজয়গাথা হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
জিনাতের কথায়, 'আজ আমার ভাবনা দেশের রাজধানী দিল্লি যেখানে অনির্দিষ্টকালের অনশন আজ ১৭তম দিনে পৌঁছেছে। একাধিক প্রতিদেবনে দেখলাম ওঁর শারীরিক অবনতি ঘটছে। অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে একটাই কথা উত্তর দিচ্ছেন, আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না। সরকার কেন আলোচনায় বসতে রাজি হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন সরকারকে করুন। তাঁর ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ, এই আলোচনায় দয়া করে বসুন।'
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 02:46 PM Jul 16, 2026Updated: 05:31 PM Jul 16, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
