shono
Advertisement

রাজ রিবুট: শুধুই শরীরী রোমাঞ্চ, কিন্তু ভয় নেই!

অশরীরী ইমরান হাশমি আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ককটেল কতটা কিক দিতে পারল? The post রাজ রিবুট: শুধুই শরীরী রোমাঞ্চ, কিন্তু ভয় নেই! appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 04:13 PM Sep 16, 2016Updated: 03:37 PM Sep 14, 2019

অনির্বাণ চৌধুরী: কেউ কথা রাখে না?
পরিচালক বিক্রম ভাট আংশিক রেখেছেন যদিও! তিনি কথা দিয়েছিলেন, রাজ সিরিজের চার নম্বর ছবিটি গড়ে উঠবে পৃথিবীর সেরা ভয়াতুর পটভূমিতে। পাশাপাশি, তাঁর দাবি ছিল, এই ছবি এমন এক অবতারে উপস্থাপিত করবে নায়ক ইমরান হাশমিকে, যা ভয়ে গায়ে কাঁটা জাগাবে! তবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে তিনি কিছু বলেননি। সম্ভবত চমক জিইয়ে রাখার জন্য!
যাই হোক, বক্তব্যের প্রথম ভাগ নিয়ে সত্যি কথাই বলেছিলেন পরিচালক। ‘রাজ রিবুট’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুট করা হয়েছে রোমানিয়ায়। যা কাউন্ট ড্রাকুলার মাতৃভূমি। ব্রাম স্ট্রোকারের লেখা যাঁরাই পড়েছেন, তাঁরা রোমানিয়ার নাম শুনলেই ভয়ে কেঁপে ওঠেন! অতএব, সিরিজের চার নম্বর ছবিটিকে জমাটি করতে পরিচালক যে ভুল পটভূমি বাছেননি, তা নির্দ্বিধায় বলাই যায়!

Advertisement


ছবির কাহিনির কাঠামোয় ব্রাম স্ট্রোকারের ‘ড্রাকুলা’-র প্রভাব রয়েছে। সেই কাহিনির শুরুটা হয় ডায়েরি লেখার আদলে। আদ্যন্ত সেই কাঠামোই চলতে থাকে। একেকটি চরিত্রের ডায়েরির পাতা থেকে জানা যায় গল্পটা। অনবরত ফ্ল্যাশব্যাক আর বর্তমানের সংঘাতে গল্প চলতে থাকে। সেই একই পথে গল্প বলে চলে ‘রাজ রিবুট’ও! স্ট্রোকারের নায়ক জোনাথন হারকারের আত্মকথন দিয়ে যেমন শুরু হয় ড্রাকুলা, ‘রাজ রিবুট’ও শুরু হয় রেহান খান্নার জবানিতে। স্ট্রোকারের বইতে ব্যবসায়িক কাজে ট্রানসিলভ্যানিয়ার ড্রাকুলার প্রাসাদে আসতে হয় জোনাথনকে, ছবিতে রেহানও কর্মসূত্রে এসে পৌঁছয় ট্রানসিলভ্যানিয়াতেই! এবং, বসবাসের জন্য ওঠে এক অভিশপ্ত প্রাসাদে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বুঝে যাই, ছবির নায়ক রেহান ওরফে গৌরব অরোরাই! ইমরান হাশমি আর যা-ই হোন, এই ছবির নায়ক নন!


এর পর আসে রক্তের প্রসঙ্গ। একদিন দাড়ি কামানোর সময়ে জোনাথনের গাল কেটে যায়। এবং সঙ্গে সঙ্গে সে দেখতে পায়, ঘরের মধ্যে কোথা থেকে যেন হাজির হয়েছে ড্রাকুলা! এই ছবিতেও সেই অনুষঙ্গ এসেছে। তবে বিক্রম ভাটের বাঁধা গতে। ‘রাজ রিবুট’এ প্রথম রক্ত পড়ে ল্যাপটপের ভিতর থেকে! এবং ঘরের একটি জানলা খুলে যায়। বুঝতে অসুবিধা হয় না, এ ভাবে অশরীরীর প্রথম আবির্ভাব ঘটল!


স্ট্রোকারের গল্পের বাকি দুই প্রভাব রয়েছে ইমরান হাশমি অভিনীত আদিত্যর চরিত্রে এবং নায়িকা সাইনা ওরফে কৃতী খারবান্দার সঙ্গে তার সম্পর্কে। জোনাথন হারকারের অনুপস্থিতিতে কাউন্ট ড্রাকুলা চলে আসে লন্ডনে। শুরু হয় জোনাথনের প্রেমিকা লুসির সঙ্গে তার প্রাণের খেলা। এখানেও রেহানের অনুপস্থিতিতে সাইনার সঙ্গে দেখা হয় আদিত্যর। বুঝতে অসুবিধা হয় না, ড্রাকুলার সঙ্গে লুসির যেমন ছিল জন্মান্তরের সম্পর্ক, সাইনা-আদিত্যর মধ্যেও তেমন কিছু রয়েছে! ব্রাম স্ট্রোকারের সাহায্য নিয়ে ‘রাজ রিবুট’-এর কাহিনিতে এভাবেই উঠে আসে পরকীয়া। আর স্ট্রোকারের লেখার অনুসরণে এই ছবিতেও মানুষের জ্যান্ত পোকামাকড় ধরে ধরে খাওয়া দেখা গিয়েছে!


এই পর্যন্ত সব কিছু ঠিক! ‘রাজ রিবুট’ একটু মোটা দাগের হলেও ‘ড্রাকুলা’র আধুনিক এক ভার্সনে পরিণত হয়েছিল। ইমরান হাশমিকে ড্রাকুলার চরিত্রে রাখার পরিকল্পনাও বেশ! কিন্তু সব গুলিয়ে দিল বিক্রম ভাটের ভারতীয় সংস্কার! ককটেলটা আর হল না! এক গ্লাস জলে দু’ চামচে মদ মেশালে যা হয় আর কী- নেশা কেটে গেল!


কে জানে কেন, এমন জমাটি কাহিনির কাঠামোয় মঙ্গলসূত্রের পবিত্রতা, শ্লোক পাঠে প্রেতাত্মা দূরীকরণের মতো প্রসঙ্গ টেনে আনলেন পরিচালক! ভারতীয় দর্শক এখন আর মোটেই এসবে পাত্তা দেন না! তাহলে এসব এনে ছবিকে শুধু শুধু কেন হাস্যকর করা- তা বোঝা দায়! এই দুটি উপাদানেই মার খেয়েছে ‘রাজ রিবুট’। পরিচালক হনুমান চালিশা পাঠের বদলে গজেন্দ্র মোক্ষম স্তোত্র পাঠ দিয়ে কিছু চমক আনার চেষ্টা করেছেন ঠিকই, তবে সেও তো পুরনো কায়দা! কত দিন আর এসব দর্শক নেবেন!


প্রেতাত্মার শরীর প্রেমেই আবার ঢুকে পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও! অশরীরী পূর্বপ্রেমিকের সঙ্গে শুয়ে পড়ার ঠিক আগেই কলকাতার মেয়ে সাইনা ঠাকুরের লেখা কবিতা আওড়ায়। বলে, ”তুমি কোন ভাঙনের পথে এলে!” খুবই দুর্বল আর সস্তা চমক, সন্দেহ নেই! বাঙালি দর্শক কিন্তু এই সংলাপ শুনে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছেন!


মোদ্দা কথা, ছবিটা ভাল হতে পারত! হল যে না, তা পরিচালকের নিজের দোষেই! অথচ, ছবি ভাল হওয়ার উপাদানের কমতি ছিল না। রোমানিয়ার বরফঢাকা নিসর্গ, ঐতিহাসিক স্থাপত্য, প্রাসাদের ভিনটেজ অন্দরসাজে সিনেম্যাটোগ্রাফার মনোজ সোনির ক্যামেরা মুহূর্তে টানটান উত্তেজনা তৈরি করে দেয়। কিন্তু চিত্রনাট্য তা ধরে রাখতে পারে না। জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরে ছবির গান বা আবহও এই উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়।


এত কিছু খারাপ আর হাস্যকর উপাদানের মাঝেও ‘রাজ রিবুট’ দেখে নেওয়া যায় স্রেফ দুই অভিনেতার গুণে। তাঁরা ইমরান হাশমি আর গৌরব অরোরা। ইমরান হাশমি যে অশরীরীর চরিত্রে প্রচণ্ড ভয় জাগিয়ে দিতে পেরেছেন দর্শকের মনে, তেমন নয়। কিন্তু, তাঁর অভিনীত চরিত্রটি যে সোজা পথের মানুষ নয়, সেটা সুন্দর ভাবেই তুলে ধরেছেন তিনি। তাই ছবি শুরুর মিনিট পঁয়তাল্লিশ পরে যখন পর্দায় প্রথম দেখা যায় আদিত্যকে, তখন থেকেই একটা অস্বস্তি শুরু হয়ে যায়। সেই অস্বস্তি দর্শকের মনে চাড়িয়ে দেওয়াতেই সার্থক হাশমি। অন্য দিকে, গৌরব অরোরা আগাগোড়া তাঁর দিকে দর্শকের চোখ টেনে রাখতে সক্ষম। বলিউডের অন্য ছবিতে তিনি কিছু করে উঠতে পারবেন কি না, তা প্রশ্নাতীত নয়! কিন্তু, ‘রাজ রিবুট’এ নিজের ভূমিকা বেশ ঠিকঠাক ভাবেই পালন করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত চরিত্রেও একটা নেতিবাচক দিক আছে, যা তাকানো আর শারীরিক ভাষার মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন গৌরব।


শুধু ছবির আগাগোড়া অস্বস্তি হয়ে থাকলেন নায়িকা কৃতী। তাঁকে ঘিরেই এক পুরুষ আর এক প্রেতাত্মার দ্বৈরথ, অথচ সেই টানাপোড়েনের ছাপ কখনই তাঁর অভিনয়ে এল না! তিনি ভাল করে কথা বলতে পারেন না, ভয় পেতে জানেন না, যৌন দৃশ্যেও উত্তেজিত হন না! ঘরের আসবাবের সঙ্গে তাঁর কোনও তফাত নেই বললেই চলে! বোঝা দায়, এঁর জন্য কেন মৃত্যুর পরপারেও লড়াই চলবে!
তাহলে ‘রাজ রিবুট’ কি দেখা যায়? একবারও যে যায় না, তা কিন্তু নয়! ইমরান হাশমির ভক্তরা ছবিটা দেখে আনন্দ পাবেন, হলফ করে বলা যায়! বাকিরাও হাসতে হাসতে হলেও দেখে নিতেই পারেন! কিছু খাপছাড়া ব্যাপার-স্যাপার আর শেষের দিকটা ছাড়া রাজ রিবুট মোটামুটি সহ্য করে নেওয়া যায়!

ছবি: রাজ রিবুট
পরিচালনা ও চিত্রনাট্য: বিক্রম ভাট
প্রযোজনা: মুকেশ ভাট, মহেশ ভাট
সিনেম্যাটোগ্রাফি: মনোজ সোনি
সঙ্গীত: জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
অভিনয়: ইমরান হাশমি, কৃতী খারবান্দা, গৌরব অরোরা

২/৫

The post রাজ রিবুট: শুধুই শরীরী রোমাঞ্চ, কিন্তু ভয় নেই! appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement