বাড়ির ছোটরা অভিভাবকদের উপরই নির্ভরশীল। তাদের কুটো নেড়ে দুটো করতেও দেন না মা-বাবা। সন্তানকে 'ভালো মানুষ' গড়ে তুলতে কত না অনুশাসন। হাজারো প্রস্তুতি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে 'হিসেবি মানুষ' করে গড়ে তোলারও প্রয়োজন আছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আমরা বাঙালিরা সচরাচর বাচ্চাদের সামনে টাকা-পয়সার কথা বলতে লজ্জিত হই। ভাবি, ও তো ছোট, এখনই টাকার হিসেব-নিকেশ দিয়ে কী হবে? থাক না! এই ধারণাটাই কিন্তু ভুল। পকেটের যত্ন নেওয়াটা ছেলেবেলা থেকেই শিখতে হয়। নাহলে ভবিষ্যতে অর্থকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকী সঞ্চয়ে আসতে পারে নানা বাধা। জেনে নিন কীভাবে খুব সহজে আপনার সন্তানকে আর্থিকভাবে সচেতন করে তুলবেন।
প্রতীকী ছবি
১) বাচ্চাকে মাসের শুরুতে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের হাতখরচ বা পকেট মানি দিন। শর্ত একটাই। এর বাইরে আর একটা টাকাও মিলবে না। সে ওই টাকা দিয়ে চকলেট কিনবে নাকি তা জমাবে, সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে দিন। মাসের শেষে যখন টাকা ফুরিয়ে যাবে, তখন সে নিজেই বুঝবে খরচের লাগাম কোথায় টানা উচিত ছিল। সেই সঙ্গে দিন একটা সুন্দর মাটির ভাঁড় বা পিগি ব্যাঙ্ক। সঞ্চয়ের নেশা ধরানোর এর চেয়ে ভালো টোটকা আর নেই।
২) দোকানে গেলেই এটা চাই, ওটা চাই। বায়না তো লেগেই থাকে। সন্তানকে বোঝান, ভাত-কাপড় আর বই হচ্ছে ‘প্রয়োজন’। আর দামি রোবট বা লেটেস্ট ভিডিও গেম হল ‘বিলাসিতা’ বা ‘উইশ লিস্ট’। কোনটা আগে আর কোনটা পরে, সেই জ্ঞান হওয়া খুব জরুরি। এতে সে সংযম শিখবে। ধৈর্য ধরলে যে আরও ভালো কিছু পাওয়া যায়, সেই পাঠ এভাবেই তৈরি হবে।
৩) রবিবার থলে হাতে বাজারে যান? সঙ্গে আপনার খুদে সন্তানকে নিন। দু-তিনটি সাবানের ব্র্যান্ডের মধ্যে কোনটার দাম কম আর ওজন বেশি, তা ওকে মেলাতে দিন। ডিসকাউন্টের হিসাব করান ওকে দিয়ে। এতে শুধু যে অঙ্কের হিসেব শিখবে তা নয়, তুলনা করে সাশ্রয়ী কেনাকাটার পাঠও হবে হাতে-কলমে।
প্রতীকী ছবি
৪) টাকা যে গাছে ফলে না, তা তো আমরা জানি। কিন্তু ও কি জানে? ঘরের ছোটখাটো কাজ, যেমন নিজের আলমারি সাজানো বা বাগান পরিষ্কারের জন্য ওকে ছোট কোনও পুরস্কার বা সামান্য টাকা দিন। ‘কষ্ট করলে তবেই কেষ্ট মেলে’— এই ধ্রুব সত্যটি ও যদি হাড়েমজ্জায় বোঝে, তবেই ভবিষ্যতে টাকার অপচয় থামাতে পারবে।
৫) আপনার সন্তান যদি খুব দামি কোনও সাইকেল বা গ্যাজেট চায়, তবে আপনি যেন ওর কথা শুনে সটান কিনে দেবেন না। ওকে বলুন, "তুমি তোমার ভাঁড় থেকে ৫০০ টাকা দাও, বাকিটা আমি দেব।" নিজের জমানো টাকা খরচ হলে সেই জিনিসের প্রতি যত্নও বাড়ে, আর লক্ষ্য পূরণের আনন্দও হয় দ্বিগুণ। মনে রাখবেন, আজকের ছোট ছোট সঞ্চয়ই কিন্তু আগামীর বড় সম্পদ।
