যুগলের অশান্তির ফলে সবসময় বিচ্ছেদই যে ভবিতব্য তা বোধহয় বলা যায় না। কিছু কিছু সময় একছাদের তলায় দু'জনে থাকলেও বিচ্ছেদ হয় শুধুমাত্র খাবারের টেবিলে। সম্পর্কের নতুন এই পর্যায়ই হল 'ফুড ডিভোর্স'। নাটকীয় নাম হলেও সম্পর্কের এই পর্যায়ে কারও আদতে বিচ্ছেদ হয় না। বরং যখন খাবারদাবারের পছন্দ একে অপরের মধ্যে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখনই 'ফুড ডিভোর্সে'র মুখোমুখি হন কোনও দম্পতি।
ধরুন আপনি বাড়ির খাবার পছন্দ করেন। আবার আপনার সঙ্গীর রেস্তরাঁর খাবার ছাড়া যেন চলেই না। কিংবা আপনি পছন্দ করেন ঘড়ির কাঁটা ধরে রাত ৮টার মধ্যে নৈশভোজ সেরে ফেলতে। আবার আপনার সঙ্গীর পছন্দ একটু রাতে খাওয়া। দু'জনের দু'রকম অভ্যাস নিয়ে খাবার টেবিলে নিত্য অশান্তি কারই বা ভালো লাগে। তাই অশান্তির হাত থেকে বাঁচতে 'ফুড ডিভোর্সে'র পথে হাঁটছেন অনেকেই। 'ফুড ডিভোর্স' হল খাবার টেবিলে একে অপরকে সচেতনভাবে এড়িয়ে চলা। তাতে আপনি এবং আপনার সঙ্গী আলাদা খাবেন। তাই কী খেলেন, কী না খেলেন তাতে কিছু যায় আসে না। বরং নিজের নিজের পছন্দমতো খাবার খেলেন। খাবার টেবিলে বসে নিত্য অশান্তি থেকে মুক্তি।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে 'ফুড ডিভোর্সে'র সিদ্ধান্ত একবার নিলে কী সবসময় আলাদাই খেতে হবে? সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তা মোটেও নয়। ধরুন কোনও খাবার নিয়ে যদি দু'জনের মতবিরোধ না থাকে তাহলে একসঙ্গে খেতে পারেন। কিংবা একসঙ্গে ডিনার ডেটে যেতে পারেন। আবার কখনও কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলেও একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া সারতেই পারেন।
যতদিন যাচ্ছে সম্পর্কের আয়ু নাকি কমছে। দু'টি মানুষের এখন মনের মিল না হলেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। কে কী বলবে, কী ভাববে - এসব ভাবনাচিন্তা নিয়ে গুমরে জীবন কাটাতে চান না বহু যুগল। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, 'ফুড ডিভোর্সে'র ফলেও কি সম্পর্ক তলানিতে ঠেকছে। যদিও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, তা মোটেও নয়। কারণ, 'ফুড ডিভোর্স' শুধু খাবার নিয়ে মতানৈক্য। তাতে মনের টান কমে না মোটেও। তাই এক টেবিলে খাবার না খেলেও, এক ছাদের তলায় সুখে দিন কাটাতে পারেন 'ফুড ডিভোর্সে' অভ্যস্ত প্রায় সকলেই।
