প্রেম মানে না বয়সের গণ্ডি। কোনও বেড়াজাল। কখন যে কার প্রেমে চুম্বকের টানের মতো আটকে পড়ে হৃদয়, তা জানে না কেউ। আর এই টান কিশোর বয়সে অবজ্ঞা করা আরও কঠিন। একে তো প্রেমের সপ্তাহ চলছে। এই সময়ে আপনার কিশোরী সন্তান প্রেমে পড়লে অবাক হবেন না। কিংবা তাকে জোর করে আটকানোর চেষ্টা করবেন না। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। সন্তানকে বোঝাতে গিয়ে কী বলবেন আর কী বলবেন না, তার গণ্ডি মেনে চলুন। নইলে আপনার সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।
"আমি বলেছিলাম এরকম কিছু হতে চলেছে", এই ধরনের কথা ভুলেও বলবেন না। কিশোরী ভাববে হয়তো আপনি খুব রেগে গিয়েছেন। বকাঝকা করতে পারেন। তাতে ভয়ে কাঁটা হতে পারে সে। পরবর্তীতে সম্পর্ক নিয়ে কোনও সমস্যায় পড়লে সে আপনাকে মন খুলে আর কিছু বলতে চাইবে না। তাতে সন্তানের বড় কোনও ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
কিশোরী সন্তান প্রেমে পড়়ার কথা শুনলে অনেকে দূর পর্যন্ত ভেবে ফেলেন। সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার আশায় প্রেমিকের বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলার ভাবনাচিন্তাও শুরু করে দেন। এসব ভুলেও করবেন না। কিশোরী সন্তানের কাছে তার প্রেমিকের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছাপ্রকাশ করবেন না। তাদের দু'জনকে কিছুটা সময় দিন। আগে দেখুন সম্পর্কের জল কতদূর গড়িয়েছে।
আসলে বাবা-মায়ের কাছে সন্তান যেন কখনই বড় হয় না। সে যে কখন শৈশব পার করে কৈশোরে পা রেখেছে, তা ভাবতেও পারেন না অনেকেই। তাই প্রথম প্রেমের কথা শুনে বহু বাবা-মা-ই যেন কার্যত আঁতকে ওঠেন। বলেন, "প্রেম করার বয়স হয়নি। তুমি অনেক ছোট।" দয়া করে একথাটি ভুলেও বলবেন না তাতে সন্তানের আত্মবিশ্বাসে ঘা লাগতে পারে। আপনার ছায়া তাকে বেড়ে উঠতে দিন। তবেই তো জীবনের সমস্ত ঝড়ঝাপটা সামলাতে শিখবে।
অনেকেই ভাবেন প্রেমে পড়া মানেই পড়াশোনা থেকে মন উড়ে যায়। সে আশঙ্কার কথা কিশোরী সন্তানকে বহু বাবা-মা বলেন। তাতে সন্তানের বিরক্তি তৈরি হয়। তাই এই আশঙ্কা প্রকাশ করবেন না। পরিবর্তে বুঝিয়ে বলুন প্রথম প্রেমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কীভাবে পড়াশোনা করা উচিত।
প্রথম প্রেম মানেই যে দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নয়। মন ভাঙতেও পারে। যদি সত্যিই বুঝতে পারেন কিশোরীর মন ভেঙেছে তবে তাকে সামলে ওঠার কথা বলবেন না। বরং কীভাবে সামলে ওঠা সম্ভব, জীবনের সেই পাঠ দিন। তাতেই সমৃদ্ধ হবে তার জীবন।
