shono
Advertisement
Pheromone-Maxxing

স্নান না করে, ঘেমো জামায় ডেটিং! কেন 'ফেরোমন ম্যাক্সিং'-এ ঝুঁকছে তরুণ প্রজন্ম?

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এর পিছনে রয়েছে একটি তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক’ যুক্তি। এই ট্রেন্ডের সমর্থকদের দাবি, স্নান না করলে শরীরের ঘাম থেকে নির্গত ফেরোমনের গন্ধ সম্ভাব্য সঙ্গীটিকে আকৃষ্ট করবেই।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 06:30 PM Sep 11, 2026Updated: 07:01 PM Sep 11, 2026

কাউকে ভালো লাগলে মানুষ তার গলার স্বর, হাঁটাচলার ভঙ্গিমা তো বটেই, এমনকী গায়ের গন্ধও চিনে নেয়। সঙ্গীর গায়ের গন্ধের প্রতি গড়ে উঠেছে টান, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় এমনটা। ডেটিংয়ের দুনিয়ায় নতুন ট্রেন্ডের শেষ নেই। সাম্প্রতিককালে এরই সঙ্গে জুড়েছে আরও একটি ট্রেন্ড, যার মূল বিষয়ই মানুষের শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ!

Advertisement

এই ট্রেন্ডের নাম ‘ফেরোমন ম্যাক্সিং’ (Pheromone-Maxxing)। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ফেরোমন হল শরীর থেকে বের হওয়া এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত, যা একই প্রজাতির অন্য প্রাণীর আচরণ বা প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর জীবনেই ফেরোমনের গুরুত্ব অপরিসীম। গন্ধ শুঁকেই সঙ্গী চেনে তারা, অথবা শত্রুর থেকে সাবধান হয়।

মানুষের ক্ষেত্রেও ফেরোমন আকৃষ্ট করে তার সঙ্গীকে। ‘ম্যাক্সিং’ বলতে বোঝায়, এই ফেরোমনের গন্ধকেই ম্যাক্সিমান অর্থাৎ সর্‌বোচ্চ রূপে বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে অপরদিকের মানুষটি নিশ্চিতভাবেই আকৃষ্ট হয় তার প্রতি।

সাধারণত সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে মানুষ নিজেকে সাফসুতরো করে নেয়। স্নান করে, গায়ে মেখে নেয় দামি সুগন্ধী। কিন্তু এই ‘ফেরোমন ম্যাক্সিং’ ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে, ডেটে যাওয়ার আগে স্নান করা থেকে বিরত থাকছেন তরুণ তরুণী। এমনকী কোনও ধরনের পারফিউম বা ডিওড্রেন্ট ব্যবহার করছেন না। শরীরের স্বাভাবিক গন্ধকে ইচ্ছাকৃতভাবে বজায় রাখাই এই ট্রেন্ডের মূল ধারণা।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এর পিছনে রয়েছে একটি তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক’ যুক্তি। এই ট্রেন্ডের সমর্থকদের দাবি, স্নান না করলে শরীরের ঘাম থেকে নির্গত ফেরোমনের গন্ধ সম্ভাব্য সঙ্গীটিকে আকৃষ্ট করবেই। অর্থাৎ, ডেট সফল করে তুলতে স্বাভাবিক শরীরের গন্ধই নাকি আকর্ষণের হাতিয়ার হতে পারে।

তবে সত্যিই কি এমন পদ্ধতি কার্যকরী? তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে যায়। কারণ প্রাণীদের মতোই মানুষের ক্ষেত্রেও একই তীব্রতায় কাজ করে ফেরোমন, এমনটা বিজ্ঞান দাবি করে না। ফেরোমন নাকে যাওয়া মাত্র তা মানুষের যৌন চাহিদা বাড়িয়ে তোলে বলেও প্রমাণ মেলে না। তাছাড়া, উলটোদিকের মানুষটিও যে একই ট্রেন্ডে বিশ্বাসী হবে, তেমনটা আগে থেকে জানা যায় কি?

সম্পর্ক বিশারদরা বলছেন, হয়তো ডেটে এসে সামনের মানুষটির ঘামে ভেজা পোশাক দেখে রীতিমতো অস্বস্তি পাবে অন্যজন। বরং সাফসুতরো পোশাকের ফিটফাট মানুষদের প্রতিই অপর পক্কের আকর্ষণের হার বেশি বলে জানা যায়। তাই উলটোদিকের জনের পছন্দ না চেনা থাকলে 'ফেরোমন ম্যাক্সিং'-এর প্রয়াস না করাই ভালো!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement