বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েক বছর। বিয়ের পর হঠাৎ করে ফিরে এসেছে প্রাক্তন। লুকিয়ে দেখা করেছেন। নতুন করে প্রেমে মজেছেন। আবেগে ভেসেছেন, তৃষ্ণাও মিটিয়েছেন! আর তারপরই একদিন সামনে চলে আসে ব্যাপারটা। হাতেনাতে ধরা পড়ে যান বউয়ের কাছে। দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার মুহূর্তেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটতে দেখা যায়। কিন্তু এর পরের ছবিটা? ছবিটা যদি এমন হয়, স্বামী ক্ষমা চাইলেন। স্ত্রীকে সবরকম ভাবে আস্বস্ত করলেন। প্রেমিকার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। নিজেকে শুধরে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টাও চালালেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। স্ত্রীর মনের কোণে একটা কাঁটা বিঁধে থাকছে কি? সম্পর্কের জটিল ধাঁধা এখান থেকেই শুরু। এ নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ফাইল ছবি
মনে রাখতে হবে পরকীয়ার অভিঘাত কেবল বিশ্বাসের ভাঙন নয়। এটি আত্মসম্মানের উপর তীব্র আঘাত। দেখা যাচ্ছে, প্রতারিত সঙ্গী অনেক সময় নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করেন। তাঁদের মনে হয়, তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির অর্থ হল নিজের খামতি। আর এই অপরাধবোধ থেকে জন্ম নেয় হীনম্মন্যতা।
অপরাধী সঙ্গী যখন ফিরে আসেন এবং ক্ষমা চান, তখন পরিস্থিতি উপরিভাগে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে এক অদৃশ্য তুলনা চলতে থাকে। প্রতারিত সঙ্গী ভাবেন, ‘ওঁর সঙ্গেই কি তবে বেশি খুশি ছিল? আমাকে কি কেবল সামাজিক বাধ্যবাধকতায় বা সন্তানের কথা ভেবে বেছে নেওয়া হল?’ এই ‘সেকেন্ড বেস্ট’ হওয়ার অনুভূতি আসলে এক ধরণের মানসিক ট্রমা। এখানে লড়াইটা তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে নয়, লড়াইটা নিজের হারিয়ে যাওয়া আইডেনটিটির সঙ্গে।
ফাইল ছবি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষত সারিয়ে তোলা সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা। শুধুমাত্র ক্ষমাপ্রার্থনায় কাজ হয় না। প্রতিদিনের আচরণে যখন অপরাধবোধের বদলে দায়িত্ববোধ এবং প্রকৃত বিশ্বাস ধরা পড়ে, তখনই ধীরে ধীরে আস্থার ভিত তৈরি হয়। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, পুরনো সেই সম্পর্ক আর ফিরে আসে না। যা তৈরি হয়, তা এক নতুন এবং ভিন্ন ধাঁচের রসায়ন।
যদি দেখা যায় ক্ষমা করতে গিয়ে নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হচ্ছে, তবে সেই সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দিচ্ছেন মনোবিদরা। কারণ জোর করে পাশে থাকা সম্পর্কের সার্থকতা নয়। মর্যাদা এবং মানসিক নিরাপত্তা বজায় রেখে থাকাই হল প্রকৃত নিরাময়। 'ও কেন এমন করল' নয়, 'আমি ওর কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ'—এই সমীকরণের উপর নির্ভর করে আগামীর পথ চলা
