বর্তমান সময়ে কমবেশি সকলেই সোশাল মিডিয়া নির্ভর। ঘুম ভাঙা থেকে রাতে বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত ফোন হাতছাড়া করেন না প্রায় কেউ। সময় পেলেই নজর রাখেন ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে। ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যেন তাঁদের আপনজন ভাবতে শুরু করেন। আরও সঠিকভাবে বললে, তাঁদের প্রেমে পড়ে যান। নবপ্রজন্ম এখন মজে এই প্যারাসোশাল প্রেমেই! জানেন ব্যাপারটা ঠিক কী করব?
এই প্যারাসোশাল সম্পর্ক হল এক পাক্ষিক সম্পর্ক। যেখানে আপনি একজনের প্রেমে পাগল। তিনি পরিচিত মুখ। হতে পারেন অভিনেতা, ইনফ্লুয়েন্সার বা অন্য যে কোনও পেশার কেউ। কিন্তু তাঁকে সোশাল মিডিয়ার দৌলতেই আশপাশের পাঁচটা মানুষ একডাকে চেনে। আপনি যার প্রতি প্রবল আকর্ষণ বোধ করেন, তিনি কিন্তু আপনাকে চেনেনও না। এদিকে আপনি তাঁর প্রতিদিনের লাইফস্টাইল ভিডিও দেখে, ভাবতে শুরু করেছেন, আপনি তাঁকে ভীষণভাবে চেনেন।
এই প্যারাসোশাল সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য হল মিডিয়ার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে মেন্টাল অ্যাটাচমেন্ট অনুভব করা। সোশাল মিডিয়ার যুগে এই ধরনের সম্পর্কের বাড়বাড়ন্ত হলেও ১৯৫০ সালে সমাজবিজ্ঞানী ডোনাল্ড হর্টন এবং রিচার্ড ওহল প্রথম এর কথা বলেছিলেন। টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে দর্শকরা কীভাবে নিজেদের যুক্ত করে তা বোঝাতে গিয়ে একথা বলেছিলেন তাঁরা। প্যারাসোশাল সম্পর্কগুলি আসলে একটা মায়ার বন্ধন তৈরি করে। ফলে দর্শকরা ভাবতে শুরু করেন পছন্দের সেলিব্রিটিকে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। যদি নিয়মিত কোনও ইউটিউবারের ভিডিও আপনি দেখেন, তাঁর প্রতিও আপনার একটা মায়া-ভালোবাসা তৈরি হয়। যা একশো শতাংশই একপাক্ষিক।
কিন্তু কেন হয় একরকম? গবেষণা বলছে, প্যারাসোশাল সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে রয়েছে একাকীত্ব। যাঁদের বন্ধু-বান্ধব তুলনামূলক কম, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, তাঁরা সাধারণত বুঁদ হয়ে যান ইউটিউব-ফেসবুকের ভ্লগে। ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে নিজের একটা জগৎ তৈরি করে ফেলে। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনি এরকম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন? প্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের বিচ্ছেদ, তাঁকে নিয়ে বিতর্কে আপনার মন খারাপ হয়? আপনি তাঁর জন্য সোশাল মিডিয়ায়, কমেন্ট বক্সে রীতিমতো যুদ্ধ করেন? তাহলে বুঝে নিন আপনি জড়িয়ে পড়েছেন প্যারাসোশাল সম্পর্কের ফাঁদে।
