আকাশে কালো মেঘ। কখনও হালকা তো কখনও মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজছে শহর। তা বাড়ি বসে দেখলেই কি আপনার মনখারাপ হয়ে যায়? মনে হয়, কিছুই ভালো লাগছে না। অথচ বৃষ্টির দিকে নজর যাওয়ার আগে হয়তো এই আপনিই ছিলেন চনমনে, তরতাজা। কেন মুহূর্তের মধ্যে মনখারাপ হয়ে যায়? সত্যি কি বৃষ্টির সঙ্গে অবসাদ সম্পর্কযুক্ত? কীভাবেই বা এই সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন? জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার সঙ্গে মানসিক পরিস্থিতি সম্পর্কযুক্ত। রৌদ্রোজ্জ্বল দিন প্রত্যেকের মনে ইতিবাচকতা জোগায়। আর মেঘলা, বাদলা দিন যেন খানিকটা নেতিবাচক। সে কারণে এই সময় মনখারাপ হয় অনেকের। কেউ কেউ আত্মবিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র নিজের ব্যর্থতা নিয়ে ভাবতে থাকেন। আবার কেউ কেউ ঘুমঘোর অনুভব করেন। চূড়ান্ত মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহননের পথও বেছে নেন অনেকে।
কিন্তু কেন এমন হয়?
- উজ্জ্বল রোদের অভাবের ফলে সেরোটোনিন, মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণের তারতম্য ঘটে। তার ফলে কেউ কেউ অবসাদে ভোগেন।
- আবার কেউ কেউ অবচেতনে বর্ষার বৃষ্টি দেখে নানা আশঙ্কার কথা ভাবেন। যেমন কেউ কেউ ভাবেন হয়তো বন্যা হয়ে যাবে। আর সে কারণে আতঙ্কে ভোগেন। আর সেই ভয় থেকেই জন্ম নেয় অবসাদ।
- বৃষ্টির জেরে আপনি হয়তো বাইরে যেতে পারছেন না। বাড়িতেই বসে রয়েছেন। তার ফলে বিরক্তি থেকেও অবসাদ ঘিরে ধরে কাউকে।
এবার জেনে নেওয়া অবসাদ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়:
- বাইরে মেঘলা দিন হোক। ঘরে থাকাকালীন উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখুন। তাতে আপনার অবসাদ কিছুটা হলেও দূর হবে।
- আপনার মানসিক পরিস্থিতির উন্নতিতে ব্য়ায়ামের কোনও বিকল্প যেন হয় না। তাই শরীরচর্চা করুন। জিমে যেতে না পারলে বাড়িতে বসেই শরীরচর্চা করতে পারেন।
- নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। গান শুনতে পারেন। কিংবা গল্পের বই পড়তে পারেন। তাতে অবসাদ আপনাকে ঘিরে ধরতে পারবে না।
- এই সময়ে অনেকেই ঘুম ঘুম ভাব অনুভব করেন। তাই বর্ষার মরশুমে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন। এই সময়ে বেশি করে ঘুমোন।
অবসাদ নিয়ে দিনের পর দিন কাটাবেন না। তাতে সমস্যা বাড়তে পারে। এই পন্থা অবলম্বন করে সুফল না পেলে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিন।
