সনাতন ধর্মে অক্ষয় তৃতীয়া এক বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ তিথি। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিটি 'অক্ষয়' নামে পরিচিত। শাস্ত্র মতে, এই পবিত্র দিনে করা যে কোনও শুভ কর্মের ফল কখনও ক্ষয় হয় না। ২০২৬ সালে এই তিথিটি আপামর বাঙালির ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসতে চলেছে।
ছবি: সংগৃহীত
এবছর কবে পড়েছে অক্ষয় তৃতীয়া?
পঞ্জিকা মতে, চলতি বছর অক্ষয় তৃতীয়া পড়েছে ১৯ এপ্রিল, রবিবার। ওই দিন সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে তৃতীয়া তিথির সূচনা হবে। এই তিথি চলবে পরদিন অর্থাৎ ২০ এপ্রিল, সোমবার সকাল ৭টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত। যেহেতু সোমবার খুব সকালেই তিথি সমাপ্ত হচ্ছে, তাই উদয়া তিথি অনুসারে রবিবারই অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে। শাস্ত্রীয় মতে, এই বিশেষ দিনের প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত শুভ। কোনও মাঙ্গলিক কাজ শুরুর জন্য পৃথক ভাবে পঞ্জিকা দেখার প্রয়োজন পড়ে না।
বাস্তু ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য
বাস্তুশাস্ত্রে অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে গৃহপ্রবেশ বা নতুন ব্যবসা শুরু করলে গৃহস্থে লক্ষ্মীর স্থায়িত্ব বাড়ে। পুরাণে উল্লেখ আছে, এই পবিত্র তিথিতেই মর্ত্যে গঙ্গার আগমন ঘটেছিল। এমনকী সত্য, ত্রেতা ও দ্বাপর যুগের সূচনাও হয়েছিল এই পুণ্য ক্ষণে। বাস্তু দোষ কাটাতে এই দিন গঙ্গাস্নান ও দানধ্যান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে জল ভরা পাত্র, গুড় এবং বস্ত্র দান করলে গৃহের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং পরিবারের সদস্যদের শ্রী বৃদ্ধি ঘটে।
ছবি: সংগৃহীত
শ্রীবৃদ্ধির সহজ পথ
অক্ষয় তৃতীয়া মানেই সোনা বা রুপো কেনার হিড়িক। তবে শুধু অলঙ্কার নয়, এই দিনে নতুন কোনও বিনিয়োগ বা স্থাবর সম্পত্তি কেনাও অত্যন্ত লাভদায়ক। উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দিরের দ্বার এই দিনেই উন্মোচিত হয়, যা আধ্যাত্মিক ভাবে নতুন পথের দিশারি। গৃহের উত্তর-পূর্ব কোণে এদিন বিশেষ পুজোর আয়োজন করলে বাস্তু পুরুষ তুষ্ট হন। মনে রাখবেন, বিশ্বাসের জোরেই এই দিনটি আপনার জীবনে অক্ষয় সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে। তাই শুদ্ধ মনে দান ও ইষ্টদেবতার আরাধনায় এই দিনটি অতিবাহিত করা শ্রেয়।
