দরজায় কড়া নাড়ছে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের সূচনা হয় এই বৈশাখেই। শুধু পঞ্জিকার পাতা ওলটানো নয়, শাস্ত্র মতে নতুন বছরের প্রথম মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়, বছরের শুরুটা যেমন হবে, বাকি এগারো মাস ঠিক তেমনই কাটবে। তাই বৈশাখের (Baisakh 2026) শুরুতেই নিজের কিছু অভ্যাস বদলে ফেলা জরুরি। একটু অসতর্ক হলেই সারা বছর অর্থকষ্ট আর মানসিক অশান্তি তাড়া করে বেড়াতে পারে আপনাকে। সুদিন বজায় রাখতে কোন ৫টি কাজ এই মাসে ভুলেও করবেন না, দেখে নিন।
নতুন বছর মানেই নতুন সংকল্প। বৈশাখ মাসে বেলার দিকে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ত্যাগ করা একান্ত প্রয়োজন। শাস্ত্র বলছে, সূর্যোদয়ের পরেও যারা বিছানায় থাকেন, তাঁদের ওপর দেবী লক্ষ্মী রুষ্ট হন। ভোরের আলোয় দিন শুরু করলে শরীরে যেমন পজিটিভ এনার্জি বাড়ে, তেমনই সারাদিন কাজেও গতি আসে। অলসতা কাটিয়ে বছরের শুরু থেকেই কর্মতৎপর হওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি।
বৈশাখ মাস শরীর ও মনকে শুদ্ধ রাখার সময়। এই প্রবল গরমেও সুস্থ থাকতে আহারে সংযম প্রয়োজন। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই মাসে যতটা সম্ভব সাত্ত্বিক খাবার খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত আমিষ আহার এই সময়ে এড়িয়ে চলাই মঙ্গলের। সংযত জীবনযাপনই পারে আপনার সারা বছরের চলার পথকে মসৃণ করতে।
বৈশাখের তপ্ত দুপুরে অনেকেই ঘুমের আমেজে গা ভাসান। তবে অসুস্থতা না থাকলে এই মাসে দিবানিদ্রা শাস্ত্রমতে অশুভ। মনে করা হয়, অসময়ে ঘুম শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং অলসতা বৃদ্ধি পায়। ভাগ্য ফেরাতে নিজেকে সবসময় সচল রাখা জরুরি।
বৈশাখ মানেই কাঠফাটা রোদ আর তীব্র দাবদাহ। এই সময় জল অপচয় করা মানেই অমঙ্গলকে ডেকে আনা। শাস্ত্রে বলা আছে, তৃষ্ণার্তকে জল দান করাই হল এই সময়ের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। অকারণে জল নষ্ট করা বা পশুপাখিকে জল না দেওয়া বড় 'দোষ' হিসেবে গণ্য হয়। সম্ভব হলে বাড়ির বাইরে বা ছাদে জলভর্তি পাত্র রাখুন। এই ছোট্ট কাজেই আপনার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে।
বৈশাখ মাসেই আসে অক্ষয় তৃতীয়ার মতো শুভ ক্ষণ। নতুন ব্যবসা শুরু বা সোনা-রুপো কেনার জন্য এই দিনটি আদর্শ। পাশাপাশি এই গরমে সামর্থ্য অনুযায়ী ছাতা বা পাখা দান করলে মানসিক শান্তি ও পুণ্য লাভ হয়। সঠিক নিয়ম মেনে বছর শুরু করলে শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে আপনার সংসারেও।
