shono
Advertisement
Gaudiya Mission

ভক্তি ও দর্শনের মেলবন্ধন, বাগবাজারে দ্বাদশ শ্রীচৈতন্য জন্মোৎসবের সূচনা

বুধবার থেকে বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব প্রাঙ্গণে শুরু হল ১২তম শ্রীচৈতন্য জন্মোৎসব ও মেলা। গৌড়ীয় মিশন, বাগবাজারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা এখন এক টুকরো নবদ্বীপ।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 05:18 PM Feb 04, 2026Updated: 05:18 PM Feb 04, 2026

উত্তর কলকাতার বাগবাজারে গঙ্গার পাড়ে আবারও নামল ভক্তির জোয়ার। বুধবার থেকে বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব প্রাঙ্গণে শুরু হল ১২তম শ্রীচৈতন্য জন্মোৎসব ও মেলা। গৌড়ীয় মিশন, বাগবাজারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা এখন এক টুকরো নবদ্বীপ।

Advertisement

এ বছর ১২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মেলার প্রধান আকর্ষণ হল জাতীয় পর্যায়ের সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন বৈষ্ণব শাস্ত্রের পণ্ডিত, গবেষক ও সন্ন্যাসীরা। প্রতিদিন সেখানে মহাপ্রভুর প্রেম ধর্ম, বৈষ্ণব দর্শন এবং বর্তমান সমাজে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শ্রীচৈতন্যদেবের মানবতাবাদী ভাবনার আধুনিক বিশ্লেষণ উঠে আসছে বিভিন্ন বক্তৃতায়।

মেলার সূচনা হয় বিশেষ পূজা, আরতি ও নগর সংকীর্তনের মাধ্যমে। বুধবার সকাল থেকেই সংকীর্তনের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে বাগবাজার চত্বর। খোল-করতালের শব্দে ভক্তিঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু মানুষ পরিবার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আরতি দর্শনে।

মেলার মাঠ জুড়ে বসেছে হরেক রকম স্টল। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে দুষ্প্রাপ্য ধর্মীয় গ্রন্থ, কোথাও বা তিলক-মালা ও ভক্তিমূলক সামগ্রী। প্রসাদের স্টলগুলিতেও রয়েছে মানুষের লম্বা লাইন। সন্ধ্যার আকাশ রঙিন হচ্ছে ভজন ও কীর্তনের সুরে। আধ্যাত্মিক আলোচনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মেলার শোভা বাড়িয়েছে।

গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্নাসী মহারাজ বলেন, বর্তমানে সমাজে যখন বিভেদ মাথাচাড়া দিচ্ছে, তখন মহাপ্রভুর সাম্য ও প্রেমের বার্তা অত্যন্ত জরুরি। মানুষকে ঐক্য ও মানবতার পথে চালিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বাগবাজারের এই জন্মোৎসব এখন কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি এক বার্ষিক মিলনমেলা। ভক্তদের মতে, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি কাটিয়ে এই মেলা মনকে শুদ্ধ করার এক বিশেষ সুযোগ। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন উত্তর কলকাতা বুঁদ হয়ে থাকবে নাম সংকীর্তন আর শ্রীচৈতন্যের দর্শনে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement