হিন্দুশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ ব্রত। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে মহাশিবরাত্রি পালন করেন অনেকেই। মনোস্কামনা পূরণের জন্য নির্জলা উপবাস করে চার প্রহরে শিবের পুজো করেন। হিন্দুশাস্ত্র মতে, দেবাদিদেব মহাদেব এবং পার্বতীর বিয়ের দিন শিবরাত্রি হিসাবে পালন করা হয়। কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করা হয়। চলতি বছর কবে শিবরাত্রি, ব্রতের নিয়মই বা কী – জেনে নিন যাবতীয় খুঁটিনাটি।
এবার মহাশিবরাত্রি পড়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৪ মিনিট থেকে পরদিন অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত চলবে। মহাশিবরাত্রিতে নিয়ম অনুযায়ী চার প্রহরে পুজো হয়।
প্রথম প্রহরের পুজোর সময়:
১৫ ফেব্রুয়ারি, সন্ধে ৬টা ১ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিট পর্যন্ত।
দ্বিতীয় প্রহরের পুজোর সময়:
১৫ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯টা ৯ মিনিট থেকে রাত ১২টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত।
তৃতীয় প্রহরের পুজোর সময়:
১৬ ফেব্রুয়ারি, রাত ১২টা ১৭ মিনিট থেকে ভোররাত ৩টে ২৫ মিনিট পর্যন্ত।
চতুর্থ প্রহরের পুজোর সময়:
১৬ ফেব্রুয়ারি, ভোররাত ৩টে ২৫ মিনিট থেকে ভোর ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত।
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই সময়ের মধ্যে ভগবান শিবের মাথায় জল ঢাললে জীবনের ঝড়ঝাপটা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। শিব-পার্বতীর আশীর্বাদে পূর্ণ হবে জীবন। সুখসমৃদ্ধি আসবে জীবনে। দাম্পত্য জীবনও হবে আরও সুখময়।
ব্রত পালনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ কিছু নিয়ম মানতে হয়। সেগুলি হল:
- শিবরাত্রির দিন ভোর ভোর ঘুম থেকে উঠুন।
- ওইদিন নির্জলা উপবাসও করেন অনেকে।
- গরম জল এবং তিল দিয়ে স্নান সেরে নিন।
- পুজোর শুরুতে প্রথমে শিবলিঙ্গকে মধুমিশ্রিত দুধ দিয়ে স্নান করান।
- পুজোর উপকরণ হিসাবে অবশ্যই থাকতে হবে বেলপাতা, আকন্দ ফুল, কুমকুম এবং চন্দন।
- সূর্যাস্তের পর কিছু না খাওয়াই ভালো।
- অনেকেই শিবরাত্রিতে ঘুমোন না। সারারাত জেগে থাকেন।
- তিথি শেষে দুধ, ফল খেয়ে উপবাস ভাঙাই শ্রেয়।
