বেশিরভাগ হিন্দু বাড়িতেই গোপাল থাকে। ননীচোরা গোপালকে একেবারে নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করেন বহু গৃহস্থ। তাকে যেমন পছন্দের খাবারদাবার দেওয়া হয়। আবার আলাদা বিছানা, বালিশে ঘুম পাড়ানোও হয়। বাড়ির খুদে সদস্যের মতো তার হাতে চকোলেট, লাড্ডু দেওয়া হয়। তবে আপনি কি মাঝেমধ্যেই গোপালের প্রিয় মাখন, মিছরি দিতে ভুলে যাচ্ছেন? তাতে কি রুষ্ট হতে পারে গোপাল? জেনে নিন প্রসাদ নিবেদনের পদ্ধতি।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মাখন ও মিছরি গোপালের সবচেয়ে প্রিয়। তবে নিবেদন না করলেও যে গোপাল রুষ্ট হয়, তা নয়। কারণ, গোপাল একেবারের পরিবারের সদস্যের মতো। সেক্ষেত্রে না পেলে মোটেও রুষ্ট হয় না গোপাল। মাখন, মিছরি দিতে না পারলে চিনি, দুধ, দই, ফল, তালের বড়া, মালপোয়া নিবেদন করতে পারেন। তবে যা-ই দিন না কেন, তা যেন শুদ্ধ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
তবে প্রসাদ হিসাবে যা-ই গোপালকে নিবেদন করুন না কেন, সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। জেনে নিন সেই নিয়মগুলি কী।
- গোপালের ভোগ রান্নার সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিন।
- অপরিষ্কার রান্নাঘরে ভুলেও গোপালের ভোগ রান্না করবেন না।
- যে পাত্রে ভোগ রান্না করছেন, তা যেন একেবারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
- শিশুকে যেমন খেতে দেন, সেভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে দিতে হবে।
- রোজ সকাল, দুপুর, বিকেল এবং রাত - চারবেলা খাবার দিন গোপালকে।
- গোপালকে প্রসাদ নিবেদনের সময় অবশ্যই তুলসি পাতা অর্পণ করুন।
- ভোগ নিবেদনের মিনিট পাঁচেক পর গোপালকে জল নিবেদন করুন।
নিয়ম মানার পাশারাশি ভক্তি সহকারে গোপালকে ভোগ নিবেদন করুন। তাতেই মিলবে আশীর্বাদ। সুখশান্তিতে ভরে উঠবে সংসার।
