shono
Advertisement
Guru Purnima 2026

জীবনে আলোর দিশারী 'গুরু', গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনে গুরুপূর্ণিমার প্রাসঙ্গিকতা জানেন?

আঁধার ভেদ করে যে আলোর জ্যোতি মানবাত্মাকে শাশ্বত সত্যের পথ দেখায়, তা গুরুর করুণা। সনাতন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সেই গুরুসত্তাকে প্রণাম জানানোর শ্রেষ্ঠ লগ্ন আজ।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 03:06 PM Jul 29, 2026Updated: 04:41 PM Jul 29, 2026

আঁধার ভেদ করে যে আলোর জ্যোতি মানবাত্মাকে শাশ্বত সত্যের পথ দেখায়, তা গুরুর করুণা। সনাতন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সেই গুরুসত্তাকে প্রণাম জানানোর শ্রেষ্ঠ লগ্ন আষাঢ়ী পূর্ণিমা। বেদব্যাসদেবের জন্মতিথি তথা ‘ব্যাসপূর্ণিমা’ হিসেবে উদ্‌যাপিত এই শুভ দিনটি কেবল তিথিপালন নয়, বরং সহস্রাব্দের গুরু-পরম্পরা ও অমলিন আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে পুনঃস্মরণের এক পুণ্য মুহূর্ত। লিখছেন ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র।

Advertisement

মানবকল্যাণে বেদ সংকলন, মহাভারত ও বিবিধ শাস্ত্র রচনা করে মহর্ষি বেদব্যাস জ্ঞানের যে অনন্ত ভাণ্ডার উন্মোচন করেছিলেন, গুরুপূর্ণিমা তারই প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনে এই তিথির গুরুত্ব অপরিসীম। মহাপ্রভুর অনুগামীদের কাছে এটি যুগে যুগে প্রজ্ঞার বার্তা বহনকারী অবিচ্ছিন্ন শিষ্য-পরম্পরার পরম উৎসব। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নির্দেশ দিয়েছেন, পরম সত্যকে জানতে হলে বিনম্র চিত্তে, সেবাবোধ ও অন্তরের জিজ্ঞাসা নিয়ে তত্ত্বদর্শী আচার্যের শরণাপন্ন হতে হয়। কারণ, যিনি নিজে ঈশ্বর সত্যকে উপলব্ধি করেছেন, তিনিই শিষ্যকে আলোর সন্ধান দিতে সক্ষম।

নিজস্ব ছবি।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের অমূল্য শিক্ষানুসারে, বহু জন্মের পর কোনও সৌভাগ্যবান জীব শ্রীকৃষ্ণ ও গুরুদেবের যুগপৎ কৃপায় লাভ করে ভক্তির বীজ। আধ্যাত্মিক পথচলা কেবল বিদ্যার অর্জনে বা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ হয় না। সেখানে প্রয়োজন সদ্গুরুর সঠিক দিকনির্দেশনা ও ঈশ্বরকৃপা। তবে বৈষ্ণব দর্শনে গুরু কখনওই উপাস্যের স্থান নেন না, বরং তিনি পরমেশ্বরের করুণা ও শাস্ত্রের চিরন্তন প্রজ্ঞা লাভের এক স্বচ্ছ, পবিত্র মাধ্যম।

তথ্যের বিপুল জোয়ারেও আজকের বিশ্ব প্রকৃত প্রজ্ঞা ও মানসিক শান্তির অভাবে দিশাহারা। এই অস্থির সময়ে একজন প্রকৃত গুরুর প্রাসঙ্গিকতা চিরন্তন। তিনি শুধু শাস্ত্রের ভাষ্যকার নন, শিষ্যের অন্তরে বিনয়, করুণা ও ভক্তির দীপ জ্বেলে ভেতরের রূপান্তর ঘটান। এই মানবিক মূল্যবোধ সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সম্পূর্ণ মানবসমাজকে সমৃদ্ধ করে।

গুরুপূর্ণিমা তাই কেবল বাহ্যিক উপাচার নয়, বরং অন্তর্মুখী হয়ে আত্মসমীক্ষার এক আহ্বান। জপ, প্রার্থনা, হরিনাম-সংকীর্তন ও শাস্ত্রচর্চার মধ্য দিয়ে গুরুর অমূল্য উপদেশকে জীবনে ধারণ করাই তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা। সেই শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে রূপায়িত করতে পারলেই রক্ষা পাবে গুরু-পরম্পরার এই অমর উত্তরাধিকার, যা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে ঈশ্বরপ্রেম ও প্রজ্ঞার পরম বার্তা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement