shono
Advertisement
Ganesh Chaturthi 2026

এক পাথরেই তৈরি বিশালাকার মূর্তি, পাহাড়ের কোলে মন্দিরে গণেশের রূপ দেখতে নামে ভক্তের ঢল

গণেশকে এখানে অলংকৃত মুকুট, কানের দুল এবং নাগকে পবিত্র সূত্র হিসেবে ধারণ করা অবস্থায় দেখা যায়।
Published By: Utsa TarafdarPosted: 07:34 PM Aug 31, 2026Updated: 07:35 PM Aug 31, 2026

অসমের মায়ং অঞ্চল ঘিরে রয়েছে অগণিত লোকবিশ্বাস, তন্ত্রসাধনার ইতিহাস আর রহস্যময় কাহিনী। এই ভূখণ্ডের পাহাড়, নদী ও পাথরের বুকেও ছড়িয়ে রয়েছে বহু পুরনো প্রত্নঐতিহ্য। তারই এক অনন্য নিদর্শন বোহা গণেশ মন্দির, যেখানে পাহাড়ের পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে বিশাল এক গণেশমূর্তি (Ganesh Chaturthi 2026)।

Advertisement

অসমের মরিগাঁও জেলার গরুমারা দোলোনির বোহা এলাকায়, কলং নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ প্রায় ১০.৫ ফুট উচ্চতার একশিলা গণেশমূর্তিটি। একাধিক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, এটিকে অসমের সবচেয়ে বড় গণেশমূর্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে হয়েছে।

মন্দিরের বাইরের রূপ।

এই মূর্তির বিশেষত্ব শুধু তার বিশাল আকারে নয়। কাছ থেকে দেখলে এর নির্মাণশৈলীতেও ধরা পড়ে সূক্ষ্ম শিল্পবোধ। গণেশকে এখানে অলংকৃত মুকুট, কানের দুল এবং নাগকে পবিত্র সূত্র হিসেবে ধারণ করা অবস্থায় দেখা যায়। একটি ভাঙা দাঁত, হাতে কুঠার ও জপমালা এবং অন্য হাতে মোদক—প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই মূর্তিটিকে অনন্য করে তোলে। পায়ের কাছে রয়েছে গণেশের বাহন মূষিকও। মনে হয়, কোনও আলাদা পাথর এনে মূর্তি তৈরি করা হয়নি; বরং পাহাড়ের শরীরের মধ্যে থেকেই ধীরে ধীরে প্রকাশ পেয়েছেন বিঘ্নহর্তা।

প্রাকৃতিক পরিবেশও বোহাকে অসামান্য সৌন্দর্যে ভরিয়েছে। কলং নদীর তীর, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশে যে কারওর মনই আনমোনা হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে প্রস্তরখণ্ডটি ঘিরে গড়ে উঠেছে স্থানীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক জীবন। এখন সেখানে গেলে দেখা যায় গণেশের মন্দিরটি, পাথরবাঁধানো মেঝে। রয়েছে পূজা অর্চনার যাবতীয় উপাদানও।

বোহা পাহাড়ের গণেশ প্রতিমার নির্দিষ্ট পুজোর দিন কোনটি, প্রিয় ভোগ কী, তা নিয়ে লিখিত তথ্য তেমনভাবে পাওয়া যায় না। তবে সরকারি নথিতে এর উল্লেখ রয়েছে। বলা বাহুল্য, অন্যান্য সমস্ত গণেশ মন্দিরের মতোই এখানেও ভক্তসমাগম ঘটে গণেশ চতুর্থীর দিন। সাফল্যের পথে এসে পোড়া বাধা বিপত্তি হরণ করেন দেবতা, তাই নানা মনস্কামনা নিয়েই ভক্তেরা ভিড় করেন দেবতার পদতলে।

যদি অসম বেড়াতে গিয়ে এই গণেশ মূর্তি দর্শন করতে চান, তবে সড়কপথে প্রথমে মায়ং বা মরিগাঁও পৌঁছতে পারেন।বোহা পাহাড় মরিগাঁও ও মায়ং— দুই জায়গা থেকেই আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। তবে সেখান থেকে কীভাবে যাওয়া যাবে এই মূর্তির কাছে, তা বুঝি স্থানীয়রাই সবচাইতে ভালো বাতলাতে পারবেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement