shono
Advertisement
Panihati Chida Dahi Mahotsav 2026

৫০০ বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও অমলিন পানিহাটির দণ্ড মহোৎসব, নেপথ্যে কোন কাহিনি?

তীব্র দাবদাহ ছাপিয়ে ভক্তির স্নিগ্ধ বাতাস। গঙ্গার ঘাটে ঘাটে উপচে পড়া ভিড়। খোল-করতালের ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। আগামী ২৭ জুন উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটিতে বসতে চলেছে চিঁড়া-দধি মহোৎসবের পুণ্য আসর।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 05:15 PM Jun 13, 2026Updated: 05:15 PM Jun 13, 2026

তীব্র দাবদাহ ছাপিয়ে ভক্তির স্নিগ্ধ বাতাস। গঙ্গার ঘাটে ঘাটে উপচে পড়া ভিড়। খোল-করতালের ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। আগামী ২৭ জুন উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটিতে বসতে চলেছে চিঁড়া-দধি মহোৎসবের পুণ্য আসর। পাঁচশো বছরেরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব আসলে বাংলার আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের এক অনন্য দলিল। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু ও শ্রীরঘুনাথ দাস গোস্বামীর ঐতিহাসিক মিলন, যা 'শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত'-এ অমর হয়ে আছে। এই উৎসবের নেপথ্যে কোন ইতিবৃত্ত? লিখছেন ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও অ্যাকাডেমিক ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র।

Advertisement

ছবি: সংগৃহীত

ষোড়শ শতকের এক অদ্ভুত অধ্যায়। সপ্তগ্রামের ধনাঢ্য জমিদার পুত্র রঘুনাথ দাস। অগাধ ঐশ্বর্য ত্যাগ করে তাঁর মন তখন ব্যাকুল শ্রীচৈতন্যের সান্নিধ্য পেতে। আশীর্বাদের আশায় তিনি পানিহাটিতে এলেন শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর চরণে। নিত্যানন্দ প্রভু তাঁকে দেখে এক মধুর ‘দণ্ড’ দিলেন। আদেশ করলেন, সমবেত ভক্তদের চিঁড়া আর দই খাওয়াতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এটি শাস্তি মনে হলেও, আসলে তা ছিল এক অলৌকিক আধ্যাত্মিক কৃপা।

বিনম্র চিত্তে রঘুনাথ দাস সেই আদেশ শিরোধার্য করলেন। গঙ্গার তীরে আয়োজন হল মহোৎসবের। চিঁড়া, দই, দুধ, কলা আর আম দিয়ে তৈরি হল সুস্বাদু মহাপ্রসাদ। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তের আকুল টানে স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে অলৌকিকভাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত

এই উৎসব কেবল ভোজনের উৎসব নয়, এর অন্তরে লুকিয়ে আছে এক গভীর সামাজিক সাম্যের বার্তা। ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে, জাতপাতের গণ্ডি পেরিয়ে হাজার হাজার মানুষ সেদিন একসঙ্গে বসে প্রসাদ পেয়েছিলেন। আধুনিক যুগের সমাজতত্ত্ব যে ‘সাম্য’ ও ‘সৌহার্দ্যের’ কথা বলে, পানিহাটির মেলা বহু শতাব্দী আগেই তার পথ দেখিয়েছিল। চিঁড়া ও দই অত্যন্ত সাধারণ খাদ্য। এই সাধারণ উপাদানের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, ঈশ্বরের কাছে আড়ম্বরের চেয়ে অন্তরের ভক্তি অনেক বেশি মূল্যবান।

আজ এই উৎসব আর বাংলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ইস্কন ও শ্রীল প্রভুপাদের হাত ধরে পানিহাটির এই পুণ্যতিথি আজ আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে। দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে উদযাপিত হয় এই উৎসব। তবে গঙ্গার তীরের সেই আদি আবেগ আজও অমলিন। আগামী ২৭ জুনের এই মহোৎসবের আলোয় আরও একবার সেজে উঠছে পানিহাটি। যেখানে ভক্তি, সেবা আর সম্প্রীতি মিলেমিশে একাকার।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement